স্পেনের বিশ্বকাপজয় উদযাপনের সময় ধারণ করা কয়েকটি ছবি ও ভিডিও ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে বার্সেলোনা তারকা লামিনে ইয়ামাল ও তার প্রেমিকা ইনেস গার্সিয়ার বিচ্ছেদের গুঞ্জন। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা ও ব্যক্তিগত আক্রমণের মুখে পড়ে অবশেষে নীরবতা ভেঙেছেন ইনেস।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক দীর্ঘ বার্তায় স্প্যানিশ কনটেন্ট ক্রিয়েটর ইনেস গার্সিয়া বলেন, একটি সাধারণ মুহূর্তকে ঘিরে এত বড় বিতর্ক তৈরি হবে, তা তিনি কল্পনাও করেননি।
বিশ্বকাপজয় উদযাপনের সময় ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ছবি ও ভিডিওতে ইয়ামালকে ইনেসের প্রতি উদাসীন বা তাকে এড়িয়ে যেতে দেখা যাচ্ছে—এমন দাবি তুলে অনলাইনে তাদের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকেই ইনেসকে লক্ষ্য করে শুরু হয় কটূক্তি, বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্য ও ব্যক্তিগত আক্রমণ।
ইনেস জানান, প্রায় তিন মাস আগে তারা সম্পর্কের বিষয়টি প্রকাশ্যে আনলেও তাদের সম্পর্কের শুরু আরও আগে। মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলমান ব্যক্তিগত আক্রমণের জবাব দিতেই তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।
বার্তার শুরুতে তিনি লেখেন, ‘এত সাধারণ একটি বিষয় শেয়ার করা যে এত বড় বিতর্কে রূপ নেবে, তা কখনো কল্পনাও করিনি।’
তিনি আরো বলেন, ‘ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে মন্তব্যগুলো পড়ছি। নিজেকে শক্ত দেখানোর চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমিও একজন মানুষ। এই অ্যাকাউন্টের পেছনে এমন একজন মানুষ আছে, যে অনুভব করে, কাঁদে, ভুল করে। শুধু কারও সঙ্গে সম্পর্কে আছি বলেই আমি মানুষ থাকা বন্ধ করিনি।’
গঠনমূলক সমালোচনা ও বিদ্বেষপূর্ণ আক্রমণের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য টেনে ইনেস বলেন, মত প্রকাশ এক বিষয়, কিন্তু কাউকে অপমান করা, হেয় করা বা তার অমঙ্গল কামনা করা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।
তিনি দাবি করেন, ‘আমি কারও কাছ থেকে কিছু কেড়ে নিইনি। আমি শুধু নিজের জীবনটাই বাঁচছি।’
অনলাইনে মন্তব্য করার আগে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ইনেস বলেন, পর্দার ওপাশেও একজন বাস্তব মানুষ থাকেন, যার পরিবার, বন্ধু, ভয় ও অনুভূতি রয়েছে। একটি মন্তব্য কতটা মানসিক প্রভাব ফেলতে পারে, তা অনেকেই উপলব্ধি করেন না।
বার্তার শেষাংশে তিনি বলেন, ‘আমিও অনুভূতিসম্পন্ন একজন নারী। আমার পরিবারও এসব মন্তব্য পড়ে। অন্য সবার মতো আমারও ভালো ও খারাপ দিন আসে। আমি কাউকে বলছি না যে আমাকে ভালোবাসতেই হবে। শুধু সামান্য সহমর্মিতা আর মানবিকতা চাই। কারণ হাজার হাজার ঘৃণামূলক বার্তা পাওয়ার যোগ্য কেউ নয়।’
শেষে ইনেস আশা প্রকাশ করেন, একদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এমন একটি জায়গায় পরিণত হবে, যেখানে ঘৃণার পরিবর্তে সহমর্মিতা ও মানবিকতাই প্রাধান্য পাবে।
এসি/আপ্র/২৫/০৭/২০২৬