সুরটা বেঁধে দিলেন আর্শদিপ সিং। তার সঙ্গে দারুণ বোলিংয়ে প্রতিপক্ষকে দুইশর আগে গুটিয়ে দিতে অবদান রাখলেন আনশুল কাম্বোজ ও গুরনুর ব্রার। রান তাড়ায় আরও একবার নিজেকে মেলে ধরলেন ভিরাট কোহলি।
তার রেকর্ড গড়ার দিনে নিউ জিল্যান্ডকে হারিয়ে সিরিজে এগিয়ে গেল ভারত। অকল্যান্ডে বুধবার বৃষ্টিবিঘ্নিত প্রথম ওয়ানডেতে ডাকওয়ার্থ-লুইস ও স্টার্ন পদ্ধতিতে ৫ উইকেটে জিতেছে ভারত। তিন পেসারের চমৎকার বোলিংয়ে টস জিতে নিউ জিল্যান্ডকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে ১৮৫ রানে গুটিয়ে দেয় ভারত।
পরে কয়েক দফা বৃষ্টি হানা দিলে তাদের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩২ ওভারে ১৪৩ রানের। ৫৬ বল বাকি থাকতে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় সফরকারীরা।
খরুচে বোলিংয়ে ৭০ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচের সফলতম বোলার আর্শদিপ। ব্রার ৪৪ রান খরচায় ধরেন ৩ শিকার। তবে ১০ ওভারে স্রেফ ২২ রান দিয়ে দুই উইকেট নেওয়া কাম্বোজ জিতে নেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার। রান তাড়ায় একটি ছক্কা ও ১৩টি চারে ৭৪ রান করেন কোহলি।
ইনিংসটির পথে সাচিন টেন্ডুলকারকে ছাড়িয়ে ওয়ানডেতে লক্ষ্য তাড়ায় সবচেয়ে বেশি রান করার রেকর্ডটি নিজের করে নেন তিনি। এই তালিকায় কোহলির রান এখন ৮ হাজার ৭৪১, আর টেন্ডুলকারের ৮ হাজার ৭২০। সাত হাজার রানও নেই আর কারো। ব্যাটিংয়ে নেমে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে নিউ জিল্যান্ড। পঞ্চম ওভারে আর্শদিপের বলে উইল ইয়াংয়ের বিদায় দিয়ে যার শুরু। পাওয়ার প্লেতে হেনরি নিকোলসকেও ফেরান আর্শদিপ।
শুরুর সেই ধাক্কার পর আর সেভাবে ঘুরেই দাঁড়াতে পারেনি কিউইরা। আর্শদিপের পর ব্রার ছোবল হানেন স্বাগতিকদের ব্যাটিংয়ে। দুটি ছক্কা ও তিনটি চারে ৩৮ রান করা টিম সাইফার্টকে ফেরান ব্রার। এই পেসারকে ফিরতি ক্যাচ দেন টম ল্যাথাম।
ক্রিজে অনেকটা সময় কাটিয়ে ড্রেসিং রুমে ফেরেন ড্যারিল মিচেল ও গ্লেন ফিলিপস। শেষ দিকে ব্লেয়ার টিকনারের চারটি ছক্কা ও একটি চারে ৩৪ রানের ইনিংসে ১৮৫ পর্যন্ত যায় নিউ জিল্যান্ডের রান। রান তাড়ায় ইনিংসের প্রথম পাঁচ বলে রানের খাতা খুলতে না পারা রোহিত শার্মা ষষ্ঠ ডেলিভারিতে বিদায় নেন। এরপর দলকে লক্ষ্যের পথে এগিয়ে নেন শুবমান গিল ও কোহলি। দ্বিতীয় উইকেটে তাদের জুটিতে আসে ১১৩ রান।
মুখোমুখি প্রথম বলে চার মারেন গিল। কোহলিও রানের খাতা খোলেন বাউন্ডারিতে। তাদের ব্যাটে পাওয়ার প্লেতে আসে ৪৯ রান। একাদশ ওভারের মাঝে বৃষ্টি নামলে খেলা বন্ধ থাকে প্রায় এক ঘণ্টা। পরে খেলা শুরু হলে ভারতকে দেওয়া হয় ৪০ ওভারে ১৬৭ রানের লক্ষ্য।
এক ওভার পর আবার হানা দেয় বৃষ্টি। এবার তাদের নতুন লক্ষ্য দেওয়া হয় ১৪৩ রানের। ষোড়শ ওভারের প্রথম বলে চার মেরে ফিফটিতে পা রাখেন কোহলি, ৩৫ বলে। ওয়ানডে যা তার ৮০তম ফিফটি।
ওই ওভারের শেষ দুই বলে দারুণ দুটি শটে চার মারেন তিনি। ১৯তম ওভারে দ্বিতীয় বলে গিলকে ফিরিয়ে দেন ন্যাথান স্মিথ। কট বিহাইন্ড হয়ে ফেরার আগে পাঁচটি চারে ৩৭ রান করেন ভারত অধিনায়ক গিল।
পরের ওভারেই জোড়া শিকার ধরেন জেকব ডাফি। কোহলিকে ফেরানোর এক বল পর আকসার প্যাটেলকেও বিদায় করেন তিনি।
এই পেসারের পরের ওভারে মিডউইকেটে ধরা পড়েন শ্রেয়াস আইয়ার। ২২ রানে ৪ উইকেট হারালেও লক্ষ্য নাগালে থাকায় সহজেই জিতে যায় ভারত। ওয়েলিংটনে আগামী শনিবার দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মুখোমুখি হবে তারা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
নিউ জিল্যান্ড: ৪০.২ ওভারে ১৮৫ (ইয়াং ৯, সাইফার্ট ৩৮, নিকোলস ৯, মিচেল ২৮, ল্যাথাম ৩, ফিলিপস ৩০, স্যান্টনার ৪, স্মিথ ১, জেমিসন ১, ডাফি ১৫*, টিকনার ৩৪; আর্শদিপ ১০-০-৭০-৪, নাবি ৬-০-৩৩-০, কাম্বোজ ১০-২-২২-২, ব্রার ৯.২-০-৪৪-৩, আকসার ৫-০-১২-০)
ভারত: ২২.৪ ওভারে ১৪৩/৫ (রোহিত ০, শুবমান ৩৭, কোহলি ৭৪, শ্রেয়াস ১৫, আকসার ০, রাহুল ৩*, নামান ৫*; জেমিসন ৭-০-৩৪-১, ডাফি ৭-০-৪৯-৩, টিকনার ৪-০-৩৮-০, স্মিথ ৪.৪-০-২১-১)
ফল: ডিএলএস পদ্ধতিতে ৫ উইকেটে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: আনশুল কাম্বোজ
সিরিজ: ৫ ম্যাচের সিরিজে ১-০তে এগিয়ে ভারত
ডিসি/আপ্র/৪/১১/২০২৬