নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী মনোনয়নের দায়িত্ব বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত করেছে দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটি।
শনিবার (১ আগস্ট) রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন তারেক রহমান।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রার্থী নির্বাচন এবং নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময় নির্ধারণসহ এ-সংক্রান্ত সব দায়িত্ব দলের চেয়ারম্যানের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে।
তিনি জানান, বৈঠকে দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, প্রশাসনিক অবস্থা, সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং সাংগঠনিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সবশেষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রসঙ্গে স্থায়ী কমিটি সিদ্ধান্ত নেয় যে, দলের পক্ষ থেকে প্রার্থী মনোনয়নের বিষয়টি চেয়ারম্যানের ওপরই ছেড়ে দেওয়া হবে।
রাত আটটার দিকে শুরু হওয়া বৈঠক প্রায় এক ঘণ্টা স্থায়ী হয়।
বিশেষ অধিবেশন নিয়ে সিদ্ধান্ত পরে
বৈঠকে উপস্থিত স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলে নির্বাচন কমিশনের বিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। সংসদের বিশেষ অধিবেশন প্রয়োজন হলে স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
রাষ্ট্রপতি পদে সম্ভাব্য কোনো ব্যক্তির নাম নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে বৈঠকে কোনো নাম আলোচনা হয়নি।
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সে অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনকে প্রস্তুতি নিতে হবে।
বৈঠকে যারা উপস্থিত ছিলেন
বৈঠকে স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং এ জেড এম জাহিদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
সাংবিধানিক প্রেক্ষাপট
গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
সংবিধানের বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। সংসদীয় ব্যবস্থায় জাতীয় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। বর্তমানে সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত প্রার্থীই নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল বলে রাজনৈতিক মহলে মনে করা হচ্ছে।
সানা/আপ্র/২/৮/২০২৬