জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেশি দিন সরকার পরিচালনা করতে পারবেন না। সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রমের সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন, দেশের বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি সংকটসহ নানা সমস্যার কারণে জনজীবনে ভোগান্তি বাড়ছে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত পদযাত্রা ও সমাবেশে অংশ নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘দেশে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি সংকট চলছে। কৃষি কার্ডসহ বিভিন্ন ধরনের সুবিধার কার্ড সাধারণ মানুষের পরিবর্তে বিএনপির লোকজন পাচ্ছেন।’ তিনি অভিযোগ করেন, দেশের অর্থনীতিতে স্থবিরতা নেমে এসেছে।
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার প্রত্যাশিতভাবে উন্মুক্ত না হওয়া এবং চীন সফরে প্রত্যাশিত চুক্তি না হওয়ার দাবি করে তিনি বলেন, সরকারের ব্যর্থতার পাল্লা দিন দিন ভারী হচ্ছে।
নির্বাচন নিয়েও অভিযোগ তুলে এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘সাম্প্রতিক নির্বাচনে রাত ৮টা থেকে ১২টা পর্যন্ত ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে এবং এতে বিএনপির নেতা তারেক রহমান প্রকাশ্যে নেতৃত্ব দিয়েছেন।’ তবে তার এই অভিযোগের বিষয়ে বিএনপির কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, নির্বাচনের সময় এনসিপির তিনটি প্রধান এজেন্ডা ছিল- সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক নির্বাচন, রাষ্ট্র সংস্কারের বাস্তবায়ন এবং আওয়ামী লীগ আমলের অপরাধের বিচার। তিনি দাবি করেন, দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘বিএনপি যদি জনগণের এই সংস্কারের রায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, তাহলে জনগণের সামনে তাদের পতন হবে।’
বিচার প্রসঙ্গে অভিযোগ করে এনসিপির এই নেতা বলেন, বিভিন্ন স্থানে অর্থের বিনিময়ে আওয়ামী লীগের কথিত সন্ত্রাসীদের ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে এবং সরকার তাদের বিচারের আওতায় আনছে না।
তিনি কক্সবাজারে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের মিছিলের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘শহীদ উসমান হাদী, আবু সাঈদ ও মুগ্ধর হত্যাকারীরা এখনো বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। অথচ তাদের পরিবার বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে।’
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ প্রসঙ্গেও কথা বলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ অথবা জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব নিয়ে তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন, কিন্তু কেউ এতে সম্মতি দেয়নি।
তিনি আরো বলেন, ‘বিএনপি শেখ হাসিনার আমলের সংবিধান বহাল রাখার পক্ষে থাকায় ওই সংবিধানের অধীনেই শপথ নিতে হয়েছে। চুপ্পুর হাতে শপথ নেওয়ার প্রয়োজন ছিল না। সেটা বিএনপির কারণে হয়নি।’
সানা/আপ্র/৩১/৭/২০২৬