মহান মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্কের কোনো অবকাশ নেই বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সভাপতিমণ্ডলীর সাবেক সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। তিনি শহীদের সংখ্যা কমিয়ে দেখানোর চেষ্টাকে ‘ইতিহাস বিকৃতি’ বলে মন্তব্য করেন।
এ প্রসঙ্গে লতিফ সিদ্দিকী বলেন, (মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদ) এই সংখ্যা প্রতিষ্ঠিত ইতিহাসের অংশ এবং এর চেয়েও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়ে থাকতে পারেন। তবে সবাই সরাসরি যুদ্ধ করতে গিয়ে নিহত হননি; পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গণহত্যা, নির্যাতন ও যুদ্ধজনিত নানান পরিস্থিতিতে তাদের মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে শাহবাগ থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় আদালতে হাজিরা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
সেখানে মহান মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের সংখ্যা প্রতিষ্ঠিত এবং এ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন লতিফ সিদ্দিকী।
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা ৩০ লাখ হিসেবে ইতিহাসে প্রতিষ্ঠিত। তার দাবি, প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়েও বেশি হতে পারে। এ প্রসঙ্গে তিনি একটি উদাহরণ দিয়ে বলেন, যেমন কোনো ব্যক্তি দলিল-দস্তাবেজ নষ্ট করে পূর্বপুরুষের সম্পত্তির পরিমাণ কমিয়ে দাবি করতে পারেন, তেমনই ইতিহাস বিকৃতির মাধ্যমে শহীদের সংখ্যা কমিয়ে দেখানোর চেষ্টাও করা হতে পারে।
তিনি বলেন, ৩০ লাখ শহীদের সবাই সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে লড়াই করতে গিয়ে নিহত হননি। পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর হত্যাযজ্ঞ, নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ, পালিয়ে যাওয়ার সময় হামলা, চিকিৎসার অভাব, রক্তশূন্যতা এবং যুদ্ধকালীন প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এসব মৃত্যুই মুক্তিযুদ্ধের সামগ্রিক মানবিক বিপর্যয়ের অংশ।
লতিফ সিদ্দিকী বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের কেউ কখনো দাবি করেননি যে ৩০ লাখ মানুষ কেবল সম্মুখযুদ্ধে অংশ নিয়ে শহীদ হয়েছেন। বরং পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর নৃশংসতার কারণে প্রাণ হারানো বাঙালিদের সামগ্রিক সংখ্যাকেই ৩০ লাখ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও শহীদের সংখ্যা নিয়ে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক সৃষ্টি জাতির জন্য কল্যাণকর নয়। এ ধরনের বিতর্ক ইতিহাস বিকৃতির সুযোগ তৈরি করে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগে একই দিন শাহবাগ থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় আদালতে হাজিরা দিয়ে লতিফ সিদ্দিকী সাংবাদিকদের জানান, মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়ের হওয়া হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পুলিশ তাকে গ্রেফতার না করলে আগামী রোববার বা সোমবার তিনি স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করবেন।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আত্মগোপনে যাওয়ার কোনো ইচ্ছা আমার নেই। আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই আদালতের মুখোমুখি হবো।
এসি/আপ্র/২৯/০৭/২০২৬