যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কূটনীতির নামে বারবার ‘নাটক মঞ্চস্থ করছেন’ বলে অভিযোগ করেছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও দেশটির প্রধান মধ্যস্থতাকারী মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।
ইরানে বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা স্থগিত করা এবং একই সঙ্গে আলোচনার অগ্রগতির দাবি নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে এমন অভিযোগ করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের স্পিকার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বারবার সামরিক হুমকি থেকে সরে এসে আলোচনার প্রস্তাব দিচ্ছে এবং আবারো অবস্থান পরিবর্তন করছে। চাপ প্রয়োগ করে ইরানকে নতি স্বীকার করানোর এই কৌশল ব্যর্থ হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
গালিবাফ লেখেন, ‘বড় ধরনের হামলা আসছে... থাক, দরকার নেই, তারা আলোচনা করতে চায়-এই একই নাটক বারবার মঞ্চস্থ হচ্ছে।’
তিনি আরো বলেন, হুমকি, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ এবং বিভ্রান্তিকর তথ্যকে চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা একটি ব্যর্থ কৌশল। যুক্তরাষ্ট্রকে বাস্তবতা মেনে নিয়ে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি।
এর আগে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তির মূল কাঠামো তৈরি হয়েছে। এ কারণেই ইরানে সম্ভাব্য বড় ধরনের হামলার সিদ্ধান্ত তিনি স্থগিত করেছেন বলে জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
গত শনিবার ট্রাম্প বলেন, ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ হামলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে অনুরোধ জানিয়েছে। কারণ, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ইতিবাচক দিকে এগোচ্ছে।
ট্রাম্প আরো দাবি করেন, সম্ভাব্য চুক্তির মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সৃষ্ট হুমকির অবসান ঘটবে।
তবে ইরানি কর্মকর্তারা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে তাঁরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন এবং দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত মোকাবিলার প্রস্তুতি রয়েছে।
এদিকে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করতে ওমানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। তেহরানের দাবি, প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের বিষয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে এবং একটি চুক্তি চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি যুদ্ধের আগে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত ছিল। তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান প্রণালিটির কার্যক্রম সীমিত করে দেয়।
ইরানের দাবি, প্রণালির যেসব অংশ তাদের ও ওমানের জলসীমার মধ্যে রয়েছে, সেগুলোর ওপর তাদের সার্বভৌম অধিকার রয়েছে।
হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি অবকাঠামোতে পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে।
গতকাল হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ খুব শিগগির শেষ হতে পারে বলে তিনি মনে করছেন। যুদ্ধ শেষ হলে জ্বালানির দামও কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় তিনি নিজেও যুক্ত আছেন এবং পরিস্থিতি ভালো দিকেই এগোচ্ছে। তবে ইরানি কর্মকর্তারা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা মোকাবিলায় তাঁদের প্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা
সানা/আপ্র/৮/৮/২০২৬