জাপানের দক্ষিণাঞ্চলের কুমামোতো প্রিফেকচারে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১৩ জনে দাঁড়িয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো বহু মানুষ আটকা পড়ে আছেন বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার। উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করতে প্রায় ৩ হাজার ৬০০ সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ৩৬ হাজারের বেশি পরিবার এখনো বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন রয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়, ৬ দশমিক ৮ মাত্রার এ ভূমিকম্পে প্রাণহানির তথ্য নিশ্চিত করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিহতদের কয়েকজনের মৃত্যু সরাসরি ভূমিকম্প ও পরবর্তী আফটারশকের কারণে হয়েছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, এখনো অনেক মানুষ উদ্ধারের অপেক্ষায় রয়েছেন এবং প্রতিটি মুহূর্তই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরো জানান, উদ্ধার অভিযান সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে। এ কাজে জাপানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রায় ৩ হাজার ৬০০ সদস্য স্থানীয় পুলিশ ও দমকল বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্ধার, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং জরুরি সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
দেশটির সরকারি সম্প্রচারমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ক্ষয়ক্ষতির সার্বিক পরিস্থিতি মূল্যায়নে সরকার জরুরি বৈঠকের প্রস্তুতি নিয়েছে।
এদিকে ভূমিকম্পের পর প্রায় ৯ হাজার ৮৭২ জনকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় প্রায় ৩৬ হাজার ৭০০ পরিবার এখনো বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছে।
কুমামোতোর একটি শপিংমলে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ভবনটির দ্বিতীয় তলা ধসে পড়ার পর সেখানে বহু মানুষ আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া একটি কারখানার চিমনি ধসে কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন।
বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ জাপান প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত। দেশটিতে প্রতি বছর শত শত ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ২০১১ সালের ৯ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামিতে প্রায় ১৮ হাজার ৫০০ মানুষ নিহত বা নিখোঁজ হন এবং ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এসি/আপ্র/২৯/০৭/২০২৬