যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার নিজের দল লেবার পার্টির ভেতর থেকে এবং বাইরে থেকে আসা পদত্যাগের জোরালো দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে বন্ধুত্ব থাকা লর্ড পিটার ম্যান্ডেলসনকে ওয়াশিংটনে রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দেওয়া নিয়ে সৃষ্ট সংকটের মুখেও লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন স্টারমার।
স্কটিশ লেবার পার্টির নেতা আনাস সারওয়ারের পদত্যাগের ডাক এবং গত দুদিনে দুই জ্যেষ্ঠ সহযোগীর বিদায়ে তার নেতৃত্ব ও বিবেচনাবোধ নিয়ে ওঠা প্রশ্নগুলো আরো জোরালো হয়েছে। তবে সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে লেবার দলীয় আইনপ্রণেতাদের এক সভায় স্টারমার স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, তিনি ক্ষমতা ছাড়ছেন না।
ম্যান্ডেলসনকে রাষ্ট্রদূত নিয়োগের পরামর্শ দেওয়ার দায়ভার গ্রহণ করে রোববার পদত্যাগ করেন স্টারমারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী মর্গান ম্যাকসুইনি। তার রেশ কাটতে না কাটতেই সোমবার পদত্যাগ করেন ডাউনিং স্ট্রিটের জনসংযোগ প্রধান টিম অ্যালান।
এপস্টেইন কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত ম্যান্ডেলসনকে নিয়োগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে সরকারের ভেতরে যে অস্থিরতা চলছে, এই দুই গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তার বিদায় তাকে আরো উসকে দিয়েছে।
স্কটল্যান্ডে লেবার পার্টির জনসমর্থন কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে আনাস সারওয়ার বলেন, ডাউনিং স্ট্রিটের এই বিভ্রান্তি দূর হওয়া প্রয়োজন এবং নেতৃত্বে পরিবর্তন আসা দরকার।
এর জবাবে স্টারমার দলীয় সভায় বলেন, দেশের পরিবর্তনের সুযোগ পেতে আমি অনেক লড়াই করেছি। আমি আমার ম্যান্ডেট থেকে সরে আসতে রাজি নই। অন্য কেউ দেশকে যেভাবে বিশৃঙ্খলায় ফেলেছিল, আমি তা হতে দেব না। তিনি আরো যোগ করেন যে, নাইজেল ফারাজের নেতৃত্বাধীন ‘জনতুষ্টিবাদী’ রিফর্ম পার্টিকে ক্ষমতায় আসা থেকে রুখে দেওয়াই এখন তার প্রধান লক্ষ্য। সারওয়ারের বিরোধিতার মুখেও স্টারমার তার মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠ সদস্যদের সমর্থন পেয়েছেন। উপ-প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি, অর্থমন্ত্রী র্যাচেল রিভস এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার তার প্রতি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেছেন। এমনকি নেতৃত্বের সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত অ্যাঞ্জেলা রেনারও স্টারমারকে ‘পূর্ণ সমর্থন’ দিয়েছেন। দলের পার্লামেন্ট সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকের সময় স্টারমারকে করতালি দিয়ে স্বাগত জানানো হয়। একজন আইনপ্রণেতা রয়টার্সকে বলেন, আপাতত তিনি (স্টারমার) নিরাপদ।
বিরোধীদের তোপ: বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি ব্যাডেনক স্টারমারের কড়া সমালোচনা করে বলেছেন, তিনি সরকার পরিচালনায় ‘অক্ষম’। ব্যাডেনক বলেন, তিনি বাতাসের তোড়ে উড়তে থাকা প্লাস্টিকের ব্যাগের মতো। হয় তিনি পরিস্থিতি সামলান, না হয় অন্য কাউকে সুযোগ দিন।
এর আগে, গত মাসে মার্কিন বিচার বিভাগ থেকে প্রকাশিত নথিতে ইঙ্গিত দেওয়া হয় যে, পিটার ম্যান্ডেলসন ব্রিটিশ মন্ত্রিসভার সদস্য থাকাকালে এপস্টেইনের কাছে যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক তথ্য ফাঁস করেছিলেন। এই অভিযোগে ‘সরকারি দায়িত্বে থাকাকালে অসদাচরণ’আইনের আওতায় ম্যান্ডেলসনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করছে ব্রিটিশ পুলিশ।
সানা/মেহেদী/আপ্র/১০/২/২০২৬