ইলন মাস্ক কি সত্যিই প্রযুক্তি ও মহাকাশ গবেষণার বিশাল সাম্রাজ্য ছেড়ে চীনের একটি ছোট রেস্তোরাঁয় রাঁধুনির কাজ শুরু করেছেন? এমনই চমক জাগানো এক ভিডিও সম্প্রতি ভাইরাল হয়েছে চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ডাউয়িনে। তবে ভিডিওর ব্যক্তি যে বিশ্বের অন্যতম ধনী উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক নন, তা জানতে নেটিজেনদের বেশি সময় লাগেনি।
২৬ জুলাই ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, মাস্কের মতো দেখতে এক ব্যক্তি একটি রেস্তোরাঁয় খাবার পরিবেশন করছেন। ভিডিওটি এক দিনেই ১৩ লাখের বেশি লাইক পায়। পরে জানা যায়, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি চীনের শানসি প্রদেশের তংছুয়ান শহরের ‘ইলান’ রেস্তোরাঁর সহমালিক ও প্রধান রাঁধুনি মা জিয়ানপিং।
৪৮ বছর বয়সী মা জিয়ানপিংয়ের চেহারার সঙ্গে ইলন মাস্কের আশ্চর্য মিল থাকায় গ্রাহকদের নজরে আসেন তিনি। কাকতালীয়ভাবে চীনা ভাষায় ‘মা’ এবং ‘মাস্ক’-এর উচ্চারণেও কিছুটা মিল রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সংবাদমাধ্যম হংসিং নিউজ।
মা জিয়ানপিংয়ের আদি নিবাস গানসু প্রদেশে। জীবনের বড় একটি সময় তিনি ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে কাজ করেছেন। পরে ক্যাটারিং ব্যবসায় যুক্ত হন এবং নিজেই একটি রেস্তোরাঁ প্রতিষ্ঠা করেন।
ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর তাঁর রেস্তোরাঁয় বেড়েছে মানুষের ভিড়। দূরদূরান্ত থেকে অনেকে শুধু খাবার খেতে নয়, তাঁর সঙ্গে ছবি তুলতে ও হাত মেলাতেও আসছেন। এতে রেস্তোরাঁর বিক্রিবাট্টাও আগের তুলনায় দ্বিগুণ হয়েছে।
তবে হঠাৎ পাওয়া এই খ্যাতিতে কিছুটা অস্বস্তিতেই আছেন মা। স্বভাবগতভাবে লাজুক এই রাঁধুনি বলেন, অনেকে তাঁর সঙ্গে সরাসরি ভিডিও করছেন, আবার বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রস্তাবও দিচ্ছেন-যা তাঁর জন্য অপ্রত্যাশিত।
তারপরও জনপ্রিয়তার কারণে নিজের জীবনযাত্রায় কোনো পরিবর্তন আনেননি মা জিয়ানপিং। আগের মতোই প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত রেস্তোরাঁর কাজে ব্যস্ত থাকছেন তিনি। এমনকি খ্যাতির সুযোগ নিয়ে খাবারের দামও বাড়াননি।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে নিয়ে চলছে নানা রসিকতা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন মজার ছবি, ট্রল ও মিম। কোথাও তাঁকে দামি পোশাক পরা অবস্থায় দেখানো হচ্ছে, আবার কোথাও কল্পিতভাবে তাঁকে এনভিডিয়ার প্রধান জেনসেন হুয়াং ও অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী টিম কুকের সঙ্গে বসে বারবিকিউ করতে দেখা যাচ্ছে।
একজন নেটিজেন মজা করে লিখেছেন, স্টারলিংক প্রকল্পে মাস্কের কোটি কোটি ডলার খরচ হয়েছে, হয়তো চীনে কাবাব বিক্রি করেই তিনি সব টাকা তুলে নিচ্ছেন।
তবে এসব হাস্যরসের মাঝেও মা জিয়ানপিংয়ের কাছে নিজের পরিচয়ই গুরুত্বপূর্ণ। ইলন মাস্কের সঙ্গে চেহারার মিল তাঁকে সাময়িক খ্যাতি এনে দিলেও তিনি এখনো নিজের রেস্তোরাঁ ও রান্নার কাজ নিয়েই স্বাচ্ছন্দ্যে আছেন। তথ্যসূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট
সানা/আপ্র/৩১/৭/২০২৬