আশির্বাদ রহমান: ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার কারণে কুড়িগ্রামে নির্মাণাধীন নতুন বাইপাস সড়কের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করা সম্ভব হয়নি। প্রকল্পটির মেয়াদ আরো দুই বছর বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সড়কটি চালু হলে কুড়িগ্রাম শহরের যানজট কমবে এবং উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত ও স্থলবন্দর এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ আরো সহজ হবে।
সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কুড়িগ্রাম সড়ক বিভাগের আওতায় প্রায় ৮৮ কোটি টাকা ব্যয়ে দাশেরহাট থেকে তারামন বিবির মোড় পর্যন্ত ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ নতুন বাইপাস সড়ক নির্মাণের কার্যাদেশ দেওয়া হয় ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে। প্রকল্পটি ২০২৬ সালের জুন মাসে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন না হওয়ায় কাজ নির্ধারিত সময়সূচি থেকে পিছিয়ে গেছে।
সূত্র জানায়, পুরো সড়কটির জন্য ভূমি অধিগ্রহণ প্রয়োজন। এর মধ্যে প্রায় ২ কিলোমিটার অংশের অধিগ্রহণ সম্পন্ন হলেও অধিকাংশ জমির মালিক এখনো ক্ষতিপূরণের অর্থ পাননি। অবশিষ্ট ২ দশমিক ৮ কিলোমিটার অংশের অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বর্তমানে অধিগ্রহণ সম্পন্ন হওয়া অংশে মাটির কাজ চলছে এবং পাঁচটি কালভার্ট নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের নির্ধারিত অংশজুড়ে এখনো বৈদ্যুতিক খুঁটি, দোকানপাট ও বসতবাড়ি রয়েছে। এসব স্থাপনা অপসারণ না হওয়ায় নির্মাণকাজে গতি আসছে না।
স্থানীয় বাসিন্দা সামিউল আলম বলেন, “শুরুর দিকে কাজের গতি ভালো ছিল। কিন্তু ভূমি অধিগ্রহণের জটিলতার কারণে এখন কাজ অনেক ধীর হয়ে গেছে। এতে যানবাহন চলাচল ও পথচারীদের দুর্ভোগ বাড়ছে।”
আরেক বাসিন্দা শাহা আলম বলেন, “বৈদ্যুতিক খুঁটি অপসারণের দায়িত্ব বিদ্যুৎ বিভাগের। রাস্তার মাপজোকের সময় থেকেই খুঁটিগুলো সড়কের ভেতরে ছিল। কিন্তু এখনো সেগুলো সরানোর কার্যক্রম চোখে পড়েনি।”
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের গড় অগ্রগতি বর্তমানে প্রায় ১০ শতাংশ। তবে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের দাবি, কাজের বাস্তব অগ্রগতি আরো বেশি। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের প্রজেক্ট ম্যানেজার ইঞ্জিনিয়ার মো. রায়হান কবির বলেন, “জমি অধিগ্রহণ পুরোপুরি শেষ না হওয়া সত্ত্বেও আমরা ২০ থেকে ২৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করেছি। অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ হলে কাজের গতি আরো বাড়ানো সম্ভব হবে।”
সড়ক বিভাগ বলছে, এই বাইপাস সড়কটি চালু হলে নাগেশ্বরী, ফুলবাড়ী, ভুরুঙ্গামারী ও সোনাহাট স্থলবন্দরমুখী যানবাহন কুড়িগ্রাম শহরে প্রবেশ না করেই চলাচল করতে পারবে। ফলে শহরের ভেতরের যানবাহনের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং পণ্য পরিবহনও দ্রুত হবে।
কুড়িগ্রাম সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মীর নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, “ভূমি অধিগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ অনেক আগেই জেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। কিন্তু অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় এর নেতিবাচক প্রভাব প্রকল্পের ওপর পড়েছে। দ্রুত প্রক্রিয়াটি শেষ হলে নির্মাণকাজও দ্রুত শেষ করা সম্ভব হবে।”
সংশ্লিষ্টদের মতে, ভূমি অধিগ্রহণ, ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং বৈদ্যুতিক খুঁটি ও অন্যান্য স্থাপনা অপসারণের কাজ দ্রুত সমন্বিতভাবে সম্পন্ন করা না গেলে কুড়িগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ এই বাইপাস প্রকল্পের ব্যয় ও সময়-উভয়ই আরো বাড়তে পারে।
সানা/আপ্র/৩১/৭/২০২৬