একেএম ফজলুল হক: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আট বছর বয়সী শিশু জান্নাতুল নাঈম ইরাকে ধর্ষণের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে শ্বাসনালি কেটে হত্যার ঘটনায় একমাত্র আসামি বাবু শেখের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে বিভিন্ন ধারায় তাকে মোট আড়াই লাখ টাকা অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের মাত্র চার মাসের মাথায় বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক জান্নাতুল ফেরদৌস আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি বাবু শেখ (৫০) আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তিনি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মধ্যম পুলুপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
রায় ঘোষণার পর আদালত প্রাঙ্গণে কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিহত শিশুর মা ও মামলার বাদী রোকেয়া বেগম বলেন, ‘আমার মেয়েকে আর কোনোদিন ফিরে পাব না। তবে যারা আমার মেয়ের সঙ্গে এমন নিষ্ঠুরতা করবে, তাদেরও যেন একই পরিণতি হয়। আদালতের রায়ে আমি সন্তুষ্ট। আল্লাহর কাছে শুধু দোয়া করি, আর কোনো মায়ের কোল যেন এভাবে খালি না হয়।’
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১ মার্চ সীতাকুণ্ড উপজেলার চন্দ্রনাথ পাহাড় এলাকায় দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল নাঈম ইরা মনিকে চকলেট কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বাড়ি থেকে নিয়ে যায় অভিযুক্ত বাবু শেখ। পরে বোটানিক্যাল গার্ডেনসংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। বিষয়টি প্রকাশ করে দেওয়ার কথা বললে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিশুটির গলা কেটে পালিয়ে যায় সে।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা ইরাকে উদ্ধার করে প্রথমে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩ মার্চ তার মৃত্যু হয়। নিহত ইরা মনি সীতাকুণ্ড উপজেলার ছোট কুমিরা মাস্টারপাড়ার টমটমচালক মনিরুল ইসলামের মেয়ে।
ঘটনার পর নিহতের মা সীতাকুণ্ড থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে গত ১৫ জুন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক কামরুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ১৮ জুন আদালত অপহরণ, ধর্ষণের চেষ্টা ও হত্যা ধারায় অভিযোগ গঠন করেন। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ ১৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য উপস্থাপন করে। গত ২ জুলাই উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত ৯ জুলাই রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন।
আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট মো. সরোয়ার হোসাইন লাভলু জানান, দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় বাবু শেখকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড ও এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর ৭ ধারায় তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং একই আইনের ৯(৪)(খ) ধারায় ধর্ষণের চেষ্টার অপরাধে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক কামরুজ্জামান বলেন, ঘটনার পরপরই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজ, আলামত সংগ্রহ, সাক্ষীদের জবানবন্দি এবং বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন সম্ভব হয়েছে।
সানা/আপ্র/৯/৭/২০২৬