মো. মকসেদুর রহমান সাহাজাদা, দিনাজপুর: দিনাজপুর সদর উপজেলার আব্দুস সামাদের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন একদল ভুক্তভোগী নারী। একই সঙ্গে তাদের দাবি, অসহায় এক নারীর পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় মিথ্যা মামলায় কারাগারে থাকা জাতীয় নাগরিক পার্টির পাঁচ নেতাকে মুক্তি দিতে হবে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে দিনাজপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। পরে প্রেসক্লাবের সামনে প্রায় তিন শতাধিক নারীর অংশগ্রহণে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সদর উপজেলার দরবারপুর গ্রামের সুরত আলীর স্ত্রী আকলিমা বেগম।
লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, আব্দুস সামাদ দীর্ঘদিন ধরে জাল দলিল তৈরি ও জমি-সংক্রান্ত প্রতারণার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে আসছেন। তার বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান ভুক্তভোগীরা।
আকলিমা বেগমের অভিযোগ, সদর উপজেলার খোসালপুর গ্রামের তাদের দাদা-শ্বশুরের নামে ৫০ শতক জমি রয়েছে। ওই জমির কাগজপত্র ও দলিল করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে এবং সেটেলমেন্ট অফিসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকার কথা বলে আব্দুস সামাদ তার কাছ থেকে পর্যায়ক্রমে ৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা নেন। পরে তিনি সেটেলমেন্ট অফিসের সিল ও স্বাক্ষরযুক্ত বলে যে দলিলপত্র দেন, যাচাই করে তা জাল বলে জানতে পারেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, টাকা ফেরত চাইলে আব্দুস সামাদ নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করেন। পরে বিষয়টি উপজেলা যুবশক্তির মুখ্য সংগঠক আজমির হোসেনকে জানানো হলে, পাওনা টাকা ফেরতের বিষয়ে কথা বলতে গত ৫ জুলাই শহরের লিলির মোড়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির যুবশক্তির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ মুনসহ কয়েকজন যান।
ভুক্তভোগীদের দাবি, ওই সময় আব্দুস সামাদ তার ছেলে মামুনকে ফোন করলে তিনি পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ আরিফ মুন, আজমির হোসেন, মো. হাসিন ইশরাক মিমসহ পাঁচজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরবর্তীতে মামুনের দায়ের করা মামলায় তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নারীদের অভিযোগ, আব্দুস সামাদকে অপহরণ বা তার কাছে চাঁদা দাবি করা হয়নি। তারা মামলাটিকে মিথ্যা দাবি করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং কারাবন্দি পাঁচ নেতার মুক্তি দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে সুন্দরবন ইউনিয়নের দরবারপুর গ্রামের মমতাজ বেগম, মোছাম্মৎ ঋতু, জবা খাতুন, সুরমা মাহবুবা আক্তার রুনীসহ ভুক্তভোগী নারীরা উপস্থিত ছিলেন।
সানা/আপ্র/৯/৭/২০২৬