একেএম ফজলুল হক: টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ ও বাঁশখালীসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। প্লাবিত হয়েছে হাজার হাজার বাড়িঘর ও ফসলি জমি। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন কয়েক লাখ মানুষ। বন্যার পানিতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কিছু অংশ তলিয়ে যাওয়ায় বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচলও বন্ধ ছিল।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পাহাড়ধস ও পানিতে ভেসে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। দুর্গত মানুষের জন্য জেলার বিভিন্ন স্থানে ৬২৯টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।
সাতকানিয়ায় সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। টানা দুই দিনের বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভার প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ডলু খালের বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকায় বন্যার পানি ছড়িয়ে পড়ায় ফসলি জমি ও অসংখ্য বাড়িঘর তলিয়ে গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় দুই লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান জানান, দুর্গত মানুষের জন্য ৮৯টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। কেরানিহাট এলাকায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সাতকানিয়া-বান্দরবান সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। বান্দরবান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টির পানিতে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে।
লোহাগাড়া উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন বন্যাকবলিত হয়েছে। এর মধ্যে আমিরাবাদ ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ১২টি আশ্রয়কেন্দ্র খুলেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বায়েজিদ বিন আখন্দ জানান, দুর্গত এলাকা থেকে অন্তত ৯০ জনকে উদ্ধার করে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে। পদুয়া ইউনিয়নের গৃহবন্দি মানুষদের উদ্ধারে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
চন্দনাইশ উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভাও বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। ধোপাছড়ি, বরকল ও বৈলতলী ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুর রহমান জানান, প্রায় ১৩ হাজার মানুষ গৃহবন্দি রয়েছেন। উপজেলার ২৭টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। ধোপাছড়িতে সাড়ে তিনশ মানুষের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং তাদের শুকনো খাবার ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট সরবরাহ করা হচ্ছে। দোহাজারী এলাকায় পানি ওঠায় বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকলেও পরে তা স্বাভাবিক হয়।
এদিকে বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া, গণ্ডামারা, শেখেরখিল, নাপোড়া ও খানখানাবাদসহ বিভিন্ন এলাকা বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। অসংখ্য বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। উপজেলা প্রশাসন প্রতিটি ইউনিয়নে আশ্রয়কেন্দ্র চালু করেছে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শরীফ উদ্দিন জানান, জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। দুর্গত মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সানা/আপ্র/৯/৭/২০২৬