চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর সশস্ত্র হামলার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, সন্ত্রাসীরা যতই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করুক, তা প্রতিহত করা হবে।
গত রোববার (২৪ মে) দিবাগত রাতে জঙ্গল সলিমপুরের আলিনগর এলাকায় সদ্য স্থাপিত যৌথ বাহিনীর ক্যাম্প লক্ষ্য করে ‘ইয়াসিন বাহিনী’ নামে পরিচিত একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ গুলিবর্ষণ ও ধ্বংসাত্মক হামলা চালায়। একপর্যায়ে তারা বুলডোজার ও এস্কেভেটর ব্যবহার করে নির্মাণাধীন ক্যাম্পের অংশবিশেষ ভেঙে ফেলে। সোমবার (২৫ মে) সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাসুদ আলম। তিনি বলেন, এটি সন্ত্রাসীদের বড় ধরনের স্বার্থ ও অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণের জায়গা, যেখানে তারা দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করে আসছে। তবে এখন সেই নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া হওয়ায় তারা সংঘাত সৃষ্টি করছে।
পুলিশ সুপার বলেন, “সন্ত্রাসীরা যতই ঝামেলার দিকে যাক, আমরা প্রতিহত করার চেষ্টা করব।” পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে এবং প্রয়োজনে আরো ফোর্স বাড়ানো হবে বলে জানান তিনি।
পুলিশ সুপার জানান, অভিযানের মূল লক্ষ্য এলাকায় স্থায়ীভাবে আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা এবং কোনো ধরনের ‘অবৈধ নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র’ গড়ে উঠতে না দেওয়া। তিনি বলেন, এই এলাকায় কারও ব্যক্তিগত আধিপত্য বা অবৈধ শক্তিকেন্দ্র তৈরি হতে দেওয়া হবে না।
হামলার ঘটনায় জড়িতদের ধরতে অভিযান চলছে বলে জানানো হয়েছে। এ সময় সন্দেহভাজন ১৫ থেকে ২০ জনকে আটক করা হয়েছে বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
র্যাব ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা রাতে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্প লক্ষ্য করে আধুনিক অস্ত্র ব্যবহার করে গুলিবর্ষণ করে। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী গুলিবিনিময়ের পরও তারা পাহাড়ি দুর্গম এলাকায় পালিয়ে যায়।
এর আগে সন্ত্রাসীরা প্রবেশপথের একাধিক রাস্তা কেটে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করে, ফলে যৌথ বাহিনীকে পায়ে হেঁটে দুর্গম এলাকায় পৌঁছাতে হয়।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি খাস জমি দখল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে জঙ্গল সলিমপুর এলাকা নিয়ে সংঘাত চলে আসছে। এর আগে অভিযান চলাকালে এক র্যাব কর্মকর্তার মৃত্যু এবং পরবর্তী সময়ে বড় আকারের যৌথ অভিযান চালিয়ে এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে সাম্প্রতিক হামলায় আবারো উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
সানা/কেএমএএ/আপ্র/২৫/৫/২০২৬