গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

ঢাকায় ফ্ল্যাট দুর্নীতি

ব্রিটিশ এমপি টিউলিপকে গ্রেফতারে পরোয়ানা

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১:৩০ পিএম, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ০০:৫৪ এএম ২০২৬
ব্রিটিশ এমপি টিউলিপকে গ্রেফতারে পরোয়ানা
ছবি

টিউলিপ সিদ্দিকে ফাইল ছবি

বাংলাদেশে প্লট দুর্নীতির মামলায় দোষী সাব্যস্ত ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে অপর এক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে ঢাকার একটি আদালত।

ঢাকার গুলশানে একটি ফ্ল্যাট দুর্নীতির মামলায় দুদকের অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন।
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগনি টিউলিপ ছাড়াও পরোয়ানার আরেক আসামি হলেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা সরদার মোশাররফ হোসেন।

দুদক প্রসিকিউটর মীর আহম্মেদ আলী সালাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতার সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৮ মার্চ দিন রাখা হয়েছে। রাজধানীর পূর্বাচলে প্লট দুর্নীতির আরেক মামলায় ১ ডিসেম্বর টিউলিপকে দোষী সাব্যস্ত করে দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে ঢাকার একটি আদালত। পূর্বাচলে মা শেখ রেহানাকে ১০ কাঠা প্লট পাইয়ে দিতে খালা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর প্রভাব বিস্তার করার অভিযোগ আনা হয় তার বিরুদ্ধে। রায়ে শেখ রেহানাকে সাত বছর এবং শেখ হাসিনাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অন্য আসামিদের পাঁচ বছর করে সাজা দেওয়া হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন লন্ডন ও ঢাকায় প্লট ও ফ্ল্যাট নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানো টিউলিপ। যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির এমপি টিউলিপের বিরুদ্ধে গত বছরের ১৫ এপ্রিল দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
এ মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, গুলশান ২ নম্বরে ওই প্লট হস্তান্তরে ব্রিটিশ এমপি ‘প্রভাব বিস্তার’ করেন এবং সেখানেই ‘ঘুষ’ হিসেবে একট ফ্ল্যাট নেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ‘অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র ও ক্ষমতার অপব্যবহারের’ মাধ্যমে ইস্টার্ন হাউজিং থেকে ঘুষ হিসেবে গুলশান ২ এর একটি ফ্ল্যাট টিউলিপ সিদ্দিককে দিতে সহায়তা করেন। তিনি (টিউলিপ) কোনো অর্থ পরিশোধ ছাড়াই ফ্ল্যাটটি গ্রহণ করেন এবং পরে সেটির খতিয়ান ও অনুমোদন পেতে ‘প্রভাব’ খাটান। এ মামলায় রাজউকের দুই সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা শাহ মো. খসরুজ্জামান ও সরদার মোশারফ হোসেনকেও আসামি করা হয়। তবে গত বছরের জুলাই মাসে শাহ খসরুজ্জামান মামলার তদন্ত স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট করেন। তার রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট খসরুজ্জামানের তদন্ত তিন মাসের জন্য স্থগিত করে। পরে দুদক চেম্বার আদালতে গেলে ‘নো অর্ডার’ দেয়। ফলে এ আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া যাবে না বলেছে দুদক। এ অবস্থায় তদন্ত শেষে গেল ১১ ডিসেম্বর দণ্ডবিধির ১৬১/১৬৫(ক)/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ধারায় এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় টিউলিপ ও সরদার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে দুদক।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, গুলশানের সংশ্লিষ্ট প্লটটি গুরুতর অনিয়মের কারণে ইস্টার্ন হাউজিংয়ের পক্ষে হস্তান্তরযোগ্য ছিল না। তবুও শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে তার প্রভাব ব্যবহার করে টিউলিপ সিদ্দিক রাজউকের আইন উপদেষ্টা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। এর ফলে কোম্পানিটিকে আমমোক্তার অনুমোদন ও ফ্ল্যাট বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয়, বিনিময়েই টিউলিপ সিদ্দিকের কাছে ফ্ল্যাটটি হস্তান্তর করা হয়।

দুদক এ মামলার তদন্তে ‘অবৈধ সুবিধা গ্রহণের’ তথ্য পাওয়ার দাবি করেছে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, “ইস্টার্ন হাউজিংয়ের একটি চিঠিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক কোনো অর্থ পরিশোধ ছাড়াই ফ্ল্যাটটি গ্রহণ করেন। অবৈধ প্রভাব বিস্তার ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের প্রমাণ হিসেবে পাওয়া গেছে ইস্টার্ন হাউজিং থেকে রাজউকে পাঠানো ফ্ল্যাট মালিকদের তালিকা। সেই তালিকার নোটশেই ৫ নম্বর ক্রমিকে টিউলিপের নাম রয়েছে। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকার সময় ২০০১ সালের ১৯ মে থেকে ফ্ল্যাটটি টিউলিপের দখলে ছিল বলে সিটি করপোরেটশনে ইস্টার্ন হাউজিংয়ের দেওয়া চিঠিতে আছে বলে অভিযোগপত্রে তুলে ধরা হয়। তদন্তকালে টিপলিপের জব্দ করা আয়কর নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০০৬-০৭ করবর্ষে তিনি আয়কর নথি খোলেন এবং ২০১৮-১৯ করবর্ষ পর্যন্ত রিটার্ন দাখিল করেন। তবে পরবর্তী করবর্ষগুলোতে তিনি আর কোনো রিটার্ন জমা দেননি। ২০০৬-০৭ থেকে ২০১৪-১৫ করবর্ষ পর্যন্ত তার আয়কর রিটার্নে ‘অ্যাডভান্স টুওয়ার্ডস ডেভেলপারস’ এর (ডেভেলপার কোম্পানিকে অগ্রিম) বাবদ ৫ লাখ টাকা দেখানো হয়। কিন্তু সাব কবলা দলিল নং ১৪০৭১ অনুযায়ী দেখা যায়, ফ্ল্যাটটি তখন থেকেই তার মালিকানায় ছিল। অর্থাৎ মালিকানা থাকার পরও তিনি কর নথিতে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন। ২০১৫-১৬ করবর্ষের রির্টানে ফ্ল্যাট নং বি/২০১, প্লট নং এনই (এ)–১১বি, গুলশান এ সম্পত্তি তিনি তার ছোট বোন আজমিনা সিদ্দিককে হেবা করেছেন বলে তুলে ধরেছেন। আয়কর নথিতে সংযুক্ত ওই হেবা দলিলের ফটোকপিতে নোটারি পাবলিকের প্রত্যায়ন থাকলেও তদন্তে প্রমাণ মিলেছে যে দলিলটি জালিয়াতির মাধ্যমে ‘নোটারাইজ’ করা হয়েছিল। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-৩ এর পৌরকর শাখা থেকে সংগৃহীত ৫ নং অ্যাসেসমেন্ট বইয়ের ১০৭ নম্বর পাতার নথিতেও দেখা যায় সংশ্লিষ্ট ফ্ল্যাটটি টিউলিপ সিদ্দিকের নামেই রয়েছে এবং পৌরকর বিবরণে অন্তর্ভুক্ত আছে। অভিযোগপত্রে বলা হয়, এ সংক্রান্ত নথিতে বলা হয়েছে, ২০০৪ সালের ২৩ জুন তারিখে তিনি ফ্ল্যাটটির নামজারির আবেদন করেন এবং ২০১১ সালের ৩ অক্টোবর কর কর্মকর্তা, অঞ্চল-৯ বরাবর পৌরকর মওকুফের আবেদন করেন। তদন্তে দেখা গেছে, ফ্ল্যাটটি এখনও তার নামেই নামজারি রয়েছে এবং তিনি নিয়মিত হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধ করেছেন।
সানা/আপ্র/১৮/২/২০২৬

 

 

সংশ্লিষ্ট খবর

স্ত্রীর সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলা নিয়ে সন্দেহ, হত্যার পর পালাতে গিয়ে গ্রেফতার
১৩ অক্টোবর ২০২৬

স্ত্রীর সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলা নিয়ে সন্দেহ, হত্যার পর পালাতে গিয়ে গ্রেফতার

স্ত্রীর মুঠোফোনে সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলা নিয়ে সন্দেহ থেকে দাম্পত্য কলহের জেরে স্ত্রী বীথি আক্তারকে...

শাহজালালে আচারের বয়ামে দুই কোটি ৭০ লাখ টাকার মূল্যবান পাথর-স্বর্ণ
১১ অক্টোবর ২০২৬

শাহজালালে আচারের বয়ামে দুই কোটি ৭০ লাখ টাকার মূল্যবান পাথর-স্বর্ণ

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আচারের বয়ামের ভেতর থেকে হীরা, প্লাটিনাম, রুবি, স্বর্ণালংকার ও...

পরীক্ষায় পাস ও বিদেশে চাকরির প্রলোভনে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায়
১০ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষায় পাস ও বিদেশে চাকরির প্রলোভনে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায়

বিদেশে চাকরি, কর্মী ভিসা ও লিখিত পরীক্ষায় পাস করিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগে রাজধান...

শ্রীপুরে বিকাশের টাকা বহনকারী গাড়িতে গুলি, আড়াই কোটি টাকা ছিনতাই
০৯ অক্টোবর ২০২৬

শ্রীপুরে বিকাশের টাকা বহনকারী গাড়িতে গুলি, আড়াই কোটি টাকা ছিনতাই

গাজীপুরের শ্রীপুরে বিকাশের টাকা বহনকারী একটি প্রাইভেটকারে সশস্ত্র হামলা চালিয়ে ক্যাশ ম্যানেজারকে গুল...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

পরিচয় যা-ই হোক, চাঁদাবাজ-দখলদারদের ছাড় নয়: ডিএমপি কমিশনার

চাঁদাবাজ, ভূমি দখলবাজ ও মাদক কারবারে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় বা অবস্থান বিবেচনা না করে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দীন আহমদ। এসব অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে কোনো ধরনের শিথিলতা দেখানো যাবে না বলেও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে ডিএমপি সদর দপ্তরের সম্মেলনকক্ষে সেপ্টেম্বর মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় উপস্থিত ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে এসব নির্দেশনা দেন কমিশনার। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন- কমিশনার যে নির্দেশনা দিয়েছেন, পুলিশ সদস্যরা তা বাস্তবে তা করতে পারবেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 17 ঘন্টা আগে