স্ত্রীর মুঠোফোনে সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলা নিয়ে সন্দেহ থেকে দাম্পত্য কলহের জেরে স্ত্রী বীথি আক্তারকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে মজনু রাজার বিরুদ্ধে। হত্যাকাণ্ডের পর প্রায় দুই মাস আত্মগোপনে থাকার পর ভারতে পালানোর চেষ্টাকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্ত এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পরে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন তিনি।
পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ আগস্ট রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকার আশুলিয়ার জামগড়া রূপায়ণ মাঠ এলাকায় ভাড়া বাসায় স্ত্রী বীথিকে ধাক্কা দিয়ে খাটে ফেলে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন মজনু। ওই দিন রাত ১১টার দিকে কাশিমপুরের শৈলডুবি এলাকার একটি অটোগ্যারেজে কাজ শেষে বাসায় ফেরেন তিনি। এরপর পুরোনো বিষয় নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়ান। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটান বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
বীথি (২২) ও মজনুর (৩৯) বিয়ে হয়েছিল প্রায় চার বছর আগে। তাঁরা আশুলিয়ার জামগড়া রূপায়ণ মাঠ এলাকায় বীথির মা-বাবার বাসার পাশের একটি ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। বীথি আশুলিয়ার একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। আর মজনু কাশিমপুরের শৈলডুবি এলাকায় একটি অটোগ্যারেজে মিস্ত্রি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কর্মস্থলের সহকর্মীদের সঙ্গে বীথির কথাবার্তা ও মেলামেশা নিয়ে মজনুর সন্দেহ ছিল। তাঁর ধারণা ছিল, বীথি পরকীয়ায় জড়িত। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে প্রায়ই কলহ হতো।
পরদিন ১৩ আগস্ট ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে বীথিকে ডাকতে গিয়ে তাঁর মা মেরিনা বেগম ঘরের দরজা খোলা দেখতে পান। ভেতরে ঢুকে খাটের ওপর মেয়ের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। বীথির গলায় গামছা প্যাঁচানো ছিল। খবর পেয়ে আশুলিয়া থানা-পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
এ ঘটনায় বীথির বাবা বাদশা মিয়া বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে ১৬ আগস্ট মামলাটির তদন্তভার পায় ঢাকা জেলা পিবিআই।
পিবিআই জানায়, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রংপুর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে ধারাবাহিক অভিযান চালায় তাদের একটি দল। একপর্যায়ে মজনুর ভারতে পালানোর চেষ্টার তথ্য পাওয়া যায়। পরে ৬ অক্টোবর রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার ভারত সীমান্তবর্তী খাসপাড়া বাজার এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
পিবিআই সূত্রে আরো জানা গেছে, গ্রেফতারের পর মজনু হত্যাকাণ্ডে নিজের দায় স্বীকার করে গত সোমবার (১২ অক্টোবর) আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ঘটনায় অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
সানা/আপ্র/১৩/১০/২০২৬