ঘরোয়া ফুটবলে গত কয়েক মৌসুম ধরেই নিজেদের শক্তিমত্তার জানান দিয়ে আসছে ফর্টিস এফসি। তবে এএফসি ক্লাব প্রতিযোগিতার মঞ্চটা তাদের জন্য একেবারেই নতুন।
বসুন্ধরা কিংস ও ঢাকা আবাহনীর অনুপস্থিতিতে হঠাৎ করেই এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের প্লে-অফে খেলার সুযোগ পেয়ে গেছে বাংলাদেশ ফুটবল লিগে (বিএফএল) তৃতীয় হওয়া দলটি।
প্রস্তুতির ঘাটতি আর দলবদলের চ্যালেঞ্জ থাকলেও, দেশের মাটিতে ইতিহাস গড়তে মুখিয়ে আছে ফর্টিস। মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় কিরগিজস্তানের ক্লাব মুরাস ইউনাইটেডের মুখোমুখি হবে তারা। ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে ফর্টিসের প্রধান কোচ মাসুদ পারভেজ কায়সারের কণ্ঠে ফুটে উঠেছে দায়িত্ববোধ আর বাস্তবতা।
প্রথমবারের মতো এএফসির মতো বড় মঞ্চে ডাগআউটে দাঁড়ানোর অপেক্ষায় থাকা এই কোচ বলেন, ‘আমি ঠিক রোমাঞ্চিত নই, এটি একটি অনেক বড় দায়িত্ব। ফর্টিস শুধু নিজেদের নয়, পুরো বাংলাদেশকেই প্রতিনিধিত্ব করছে।’
এএফসি মঞ্চে আসার পথটা ফর্টিসের জন্য একেবারেই মসৃণ ছিল না। ঘরোয়া ফুটবলে প্রায় আড়াই মাসের লম্বা বিরতি চলছে। এর মধ্যেই চলমান দলবদলে দলের ৭ জন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় অন্য ক্লাবে পাড়ি জমিয়েছেন।
স্কোয়াড নতুন করে গোছানোই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ।
তবে তিন সপ্তাহের প্রস্তুতিতে বাংলাদেশ পুলিশ এফসির বিপক্ষে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে নিজেদের ঝালিয়ে নিয়েছে দলটি। কোচ কায়সারের মতে, ‘আমাদের হাতে যেটুকু সময় ছিল, তা আমরা সর্বোচ্চ কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছি। খেলোয়াড়রাও এই ম্যাচের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।’
কিরগিজস্তানের দল মুরাস ইউনাইটেড শারীরিকভাবে বেশ শক্তিশালী এবং তারা নিয়মিত লিগ খেলার মধ্যে রয়েছে। তাদের বিপক্ষে বিকেল ৩টায় ম্যাচ ফর্টিসের জন্য অবশ্য কৌশলগতভাবে এগিয়ে থাকা। শীতপ্রধান দেশের দল মুরাসকে ঢাকার গরমে কাবু করার একটি প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিতও দিয়েছেন কায়সার।
ফর্টিসের একাদশে বরাবরই দেশি তরুণদের প্রাধান্য থাকে। কালকের ম্যাচেও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। সদ্য অনূর্ধ্ব-২৩ জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়া তরুণ রাসেল একাদশে থাকবেন বলে নিশ্চিত করেছেন কোচ।
এছাড়া এএফসি কাপের ভিন্ন বাস্তবতায় আবাহনী থেকে ইব্রাহিম ও শাকিলকে শুধু এই টুর্নামেন্টের জন্যই দলে ভিড়িয়েছে তারা। স্কোয়াডে থাকা ৮ জন বিদেশি ফুটবলার, যাদের মধ্যে দুজন জাপানি খেলোয়াড় রয়েছেন, ফর্টিসের অন্যতম বড় শক্তির জায়গা। মাত্র চার বছর আগে প্রতিষ্ঠিত হলেও কিরগিজস্তানের ক্লাব মুরাস ইউনাইটেড বেশ শক্তিশালী এবং আর্থিকভাবে সচ্ছল।
গত আসরের সেমিফাইনালিস্ট দলটির স্কোয়াডে ১৫ জন বিদেশি খেলোয়াড়ের নিবন্ধন রয়েছে। শক্তিশালী এই প্রতিপক্ষকে সম্মান জানালেও তাদের অজেয় মানতে নারাজ ফর্টিস কোচ।
তিনি বলেন, ‘ওরা ভালো দল, পাসিং ফুটবল খেলে এবং সেট-পিসে ভয়ঙ্কর। কিন্তু তারা অজেয় নয়। আমরা যদি ওদের চাপ সামলে গোল হজম না করে নিজেদের খেলাটা খেলতে পারি, তবে আমাদের ভালো সুযোগ থাকবে।’ দলের গাম্বিয়ান ফরোয়ার্ড ওমরও বেশ আত্মবিশ্বাসী।
তিনি বলেন, ‘ফর্টিসের ইতিহাসে এটি প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ।
আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত এবং ইতিহাস গড়ার জন্য মুখিয়ে আছি।’
ম্যাচের কৌশল নিয়ে কোচ কায়সারের দর্শনটা বেশ সহজ ও সরাসরি। তিনি বলেন, ‘বল আমাদের পায়ে থাকলে আমরা আক্রমণে যাব, আর ওদের পায়ে থাকলে রক্ষণ সামলাব। বাকিটা ট্রানজিশন।’
ডিসি/আপ্র/১০/০৮/২০২৬