টস হেরে আগে ব্যাটিং পেয়ে রোহিত পাউড়েল বললেন, “সকালে ম্যাচ শুরু, প্রথম ৩-৪ ওভার একটু সাবধানে খেলতে হবেৃ।” নেপাল অধিনায়ক বললেন বটে, কিন্তু করতে পারলেন না তিনি বা তার সতীর্থরা। প্রথম ৫ ওভারেই পতন হলো ৩ উইকেটে।
পরের দিকে একটু লড়াই করলেও বড় হলো না দলের স্কোর। সেই পুঁজি নিয়ে পারল না তারা লড়াই করেও। হ্যাটট্রিক জয়ে সুপার এইটে পৌঁছে গেল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ‘সি’ গ্রুপের লড়াইয়ে নেপালকে ৯ উইকেটে উড়িয়ে এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সবার আগে গ্রুপ পর্ব উতরানো নিশ্চিত করল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। মুম্বাইয়ে রোববার নেপালকে ১৩৩ রানে আটকে রেখে জয়ের ভিত গড়েন দেন ক্যারিবিয়ান বোলাররা। রান তাড়ায় ব্যাটসম্যানরা কাজ সেরে ফেলেন ২৮ বল বাকি রেখে।
ইংল্যান্ডকে কাঁপিয়ে দিয়ে আসর শুরু করা নেপাল পরের দুই ম্যাচে বাজেভাবে হেরে ছিটকে গেল বিশ্বকাপ থেকে। ২৭ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা জেসন হোল্ডার। আলাদা করে বলতে হবে ম্যাথু ফোর্ডের কথাও। রোমারিও শেফার্ডের চোটে একাদশে ফেরা এই পেসার ৪ ওভারের টানা স্পেলে ১টি মেডেনসহ ১ উইকেট শিকার করেন মাত্র ১০ রান দিয়ে। প্রথম ছোবল দেন অবশ্য আকিল হোসেন। সেকালে শুরু ম্যাচে ওয়াংখেড়ের উইকেটে আর্দ্রতা ছিল বেশ। ছিল ঘাসের ছোঁয়াও।
ম্যাচের প্রথম ওভারেই আকিলের দুর্দান্ত ডেলিভারি কাট করে ভেতরে ঢুকে ভেঙে দেয় স্টাম্প। আগ্রাসী কুশাল ভুর্তেল বিদায় নেন ১ রানে। পরের ২ ওভারে ৩টি বাউন্ডারি এলেও অধিনায়ক রোহিতকে দ্রুত বিদায় করেন ফোর্ড। হোল্ডার আক্রমণে এসে প্রথম বলেই ফেরান আসিফ শেখকে।
লেগ স্টাম্পের বাইরে থাকা বলে সীমানায় ক্যাচ দেন এই ওপেনার। পাওয়ার প্লেতে নেপাল তোলে ২২ রান, যা এবারের বিশ্বকাপে সব দল মিলিয়েই এখনও পর্যন্ত সর্বনিম্ন। পাওয়ার প্লে শেষ হতেই হোল্ডারের বলে ছোট ভাই আসিফের মতোই শট খেলে আউট হন আরিফ শেখ। নেপালের রান তখন ৪ উইকেটে ২৩। চারে নেমে দিপেন্দ্রা সিং আইরি প্রতিরোধ গড়ে চেষ্টা করেন দলকে উদ্ধার করতে। তার সঙ্গে ছোট দুটি জুটির পর আউট হয়ে যান লোকেশ বাম (১৩) ও গুলশান ঝা (১১)।
৭৩ রানে ৬ উইকেট হারানো দলের জন্য ১০০ মনে হচ্ছিল বেশ দূরের পথ। ম্যাচে নেপালের সেরা সময়টা আসে এরপরই। এবারের আসরে প্রথম খেলতে নেমে সোম্পাল কামি দারুণ কয়েকটি শট খেলেন। অবশেষে একজন সঙ্গী পেয়ে আইরিও জ্বলে ওঠেন। জুটিতে আসে ২৬ বলে ৫৪ রান। তিনটি করে চার ও ছক্কায় ৪৭ বলে ৫৮ রান করে শেষ ওভারে আউট হন আইরি।
ইনিংসের শেষ বলে কারান কেসিকে ফিরিয়ে হোল্ডার পূরণ করে চার উইকেট। শেষ ৫ ওভারে ৬০ রান তোলে নেপাল। ১৫ বলে ২৬ রানে অপরাজিত থাকেন অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার কামি। কামি পরে নিজের মূল কাজ বোলিংয়ে ভালো করতে পারেননি। ছোট পুঁজি নিয়ে তেমন কিছু করতে পারেনি নেপালের অন্য বোলাররাও। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে নান্দান ইয়াদাভের শিকার হয়ে ফেরেন ভালো শুরু করা ব্র্যান্ডন কিং (১৭ বলে ২২)।
সেটিই শেষ শেই হোপ ও শিমরন হেটমায়ার মিলেই দলকে পৌঁছে দেন জয়ের ঠিকানায়। দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ৯১ রান আসে ৫৯ বলে। সান্দিপ লামিছানেকে ছক্কায় পঞ্চাশে পা রাখা হোপ ওই ওভারে আরেকটি ছক্কা মেরে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ৪৪ বলে ৬১ রান করে। তার সঙ্গী হেটমায়ার মাঠ ছাড়েন ৩২ বলে ৪৬ রানে। সুপার এইটে পৌঁছে যাওয়া ক্যারিবিয়ানরা গ্রুপের শেষ ম্যাচে ইতালির বিপক্ষে খেলবে বৃহস্পতিবার কলকাতায়। নেপালের শেষ ম্যাচ স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে মঙ্গলবার মুম্বাইয়েই।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
নেপাল : ২০ ওভারে ১৩৩/৮ (ভুর্তেল ১, আসিফ ১১, পাউড়েল ৫, আইরি ৫৮, আরিফ ২, লোকেশ ১৩, ঝা ১১, কামি ২৬*, কারান ১, আকিল ৪-০-৩০-১, ফোর্ড ৪-১-১০-১, হোল্ডার ৪-০-২৭-৪, শামার ৪-০-৩৮-১, মোটি ২-০-১৭-০, চেইস ২-০-১০-১)।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ : ১৫.২ ওভারে ১৩৪/১ (কিং ২২, হোপ ৬১*, হেটমায়ার ৪৬*; কারান ২-০-১২-০, কামি ২-০-২৩-০, নান্দান ৩-০-২৪-১, লামিছানে ৩-০-৩৮-০, আইরি ৩.২-০-১৯-০, ভুর্তেল ২-০-১৮-০)।
ফল: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৯ উইকেটে জয়ী।
ম্যান অব দা ম্যাচ: জেসন হোল্ডার।
ডিসি/আপ্র/ ১৫.০২.২০২৬