লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর মধ্যে কে সেরা ফুটবলার, এ নিয়ে কম তর্ক হয়নি। তবে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের পর সেই তর্কে ভাটা পড়েছে। এখন সেভাবে আর সেই প্রশ্নই কেউ করে না। তবে সম্প্রতি এক ডকুমেন্টারিতে মেসিকে নিয়ে করা রোনালদোর মন্তব্যে তৈরি হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া।
ডকুমেন্টারিতে পর্তুগিজ তারকা স্বীকার করেন, ২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনালে লিওনেল মেসি জার্মানির কাছে হেরে যাওয়ায় তিনি ‘স্বস্তি’ অনুভব করেছিলেন। ব্রাজিলের মাটিতে হওয়া ২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনালের অতিরিক্ত সময়ে মারিয়ো গোটজের গোলে ১–০ ব্যবধানে জিতে আর্জেন্টিনার তৃতীয় শিরোপা জয়ের স্বপ্ন ভেঙে দেয় জার্মানি।
ডকুমেন্টারির একটি অংশে রোনালদো জানান, মেসি যেন চ্যাম্পিয়ন হতে না পারেন, সেজন্য তিনি ফাতিমার ভার্জিন মেরির কাছে প্রার্থনাও করেছিলেন। ফাইনালের শেষ বাঁশি বাজার পর তিনি স্বীকার করেন, তার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বিশ্বকাপ জিততে না পারায় তিনি স্বস্তি পেয়েছিলেন।
তবে ২০১৪ সালে সেই স্বস্তির অনুভূতি ৮ বছর পর, ২০২২ সালে পরিণত হয় তার ‘সবচেয়ে বড় দুঃস্বপ্নে।’ ২০২২ সালের ১৮ ডিসেম্বর কাতারে অনুষ্ঠিত ২০২২ ফিফা বিশ্বকাপে ঐতিহাসিক ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে জয়ের মাধ্যমে লিওনেল মেসি অবশেষে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হন। ফাইনালে তিনি জোড়া গোল করেন।
টুর্নামেন্টে ৭ গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌঁড়ে দ্বিতীয় হন মেসি। ফাইনালে হ্যাটট্রিকসহ ৮ গোল করে শীর্ষে ছিলেন এমবাপে। নির্ধারিত ৯০ মিনিট ও অতিরিক্ত সময়ের খেলা শেষে ৩-৩ সমতার পর টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে জেতে আর্জেন্টিনা। ওই ম্যাচে দুই গোল করার পাশাপাশি পেনাল্টিতেও সফল হন মেসি।
অনেকের মতে, এই শিরোপাই আধুনিক যুগের সেরা ফুটবলার বিতর্কে চূড়ান্ত উত্তর হয়ে দাঁড়ায়। যদিও ফুটবল বিশ্বে ঐতিহাসিক আলোচনায় বিশ্বকাপকেই চূড়ান্ত মানদণ্ড হিসেবে ধরা হয়, তবুও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও লিওনেল মেসির প্রতিদ্বন্দ্বিতা শিরোপার গণ্ডি ছাড়িয়ে গেছে।
ডিসি/আপ্র/১৪/২/২০২৬