‘একটার মধ্যে যোগাযোগ করবে, ঠিক আছে? একবার যদি ছেলেপুলে পাঠাতে হয়, ঘটনা ঘটাতে হয়, তবে ৫০ লাখ ১ কোটি হয়ে যাবে, কমবে না।’ চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশে এক ব্যক্তির কাছে চাঁদা দাবি করে মুঠোফোনে এভাবেই হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সাব্বির হোসেন ওরফে সানির বিরুদ্ধে। গত শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাতে নারায়ণগঞ্জে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য, সাব্বির বিদেশে পলাতক চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের সহযোগী। তার বাড়ি সাতক্ষীরায় হলেও দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম নগরের হামজারবাগ এলাকায় বসবাস করে আসছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত আগস্টে হামজারবাগের বাসিন্দা প্রবাসী মোহাম্মদ ইউসুফের ছেলেকে ফোন করে চাঁদা দাবি করেন সাব্বির। ইউসুফের ছেলে মোহাম্মদ শওকতও একজন প্রবাসী ব্যবসায়ী। তাকে ফোনে হুমকি দিয়ে সাব্বির বলেন, ‘ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করো। তার সঙ্গে কথা বলো। ওনার কাতারের নম্বরটাতে যোগাযোগ করে ক্লিয়ার করে ফেলো। যদি ক্লিয়ার না করো, তবে ফ্যামিলির যেকোনো একজনের শরীর প্রথমে বোলতার বাসা বানিয়ে খেলা শুরু হবে। এরপর আস্তে আস্তে তোমার দিকে আসবে। তোমার বাবাকে কল দিলোাম না। তিনি হার্টের রোগী, আবার মরেটরে যাবে। তাই তোমারে জানালাম।’
পুলিশ জানায়, এ হুমকির অডিও রেকর্ড তাদের কাছে রয়েছে। হুমকির ঘটনার পর ইউসুফের ভবনের ফটকে গুলিও করা হয়। এরপর থেকে সাব্বিরকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল পুলিশ। তবে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, বড় সাজ্জাদের কাছ থেকে মাসে ৫০ হাজার টাকা বেতন পেতেন সাব্বির। কারাগারে থাকা ডেভিড ইমনের পরিবর্তে চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার দায়িত্বও তাকে দেওয়া হয়েছিল। সাজ্জাদের পাশাপাশি তার সহযোগী বোরহান উদ্দিনের নির্দেশনায় মুঠোফোনে চাঁদা দাবি করতেন সাব্বির।
পুলিশ সুপার আরো বলেন, সাব্বির প্রকাশ্যে খুব একটা আসতেন না। সাজ্জাদ ও বোরহানের নির্দেশনা অনুযায়ী ফোন করে চাঁদা দাবি করাই ছিল তার কাজ। যেসব ব্যবসায়ী বা শিল্পপতির কাছে চাঁদা চাওয়া হতো, তাদের সম্পর্কে আগেই বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হতো। বড় সাজ্জাদ অন্য একটি দলের মাধ্যমে এসব তথ্য সংগ্রহ করতেন। পরে সাব্বির ফোন করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চাঁদা দিতে বলতেন। অন্যথায় লোক পাঠিয়ে হামলা বা গুলির হুমকি দিতেন। এসব হুমকি অনুযায়ী সশস্ত্র হামলার ঘটনাও ঘটাতেন তিনি।
পুলিশ সুপার জানান, সাব্বিরের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ ও হাটহাজারী থানায় দুটি মামলা রয়েছে। তিনি চাঁদা দাবি করলেও ভয়ে বেশির ভাগ ভুক্তভোগী মামলা করেননি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ জুন নগরের চান্দগাঁওয়ের কালুরঘাট শিল্প এলাকায় অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি চালাতে দেখা যায় সাব্বিরকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ৩৭ সেকেন্ডের একটি সিসিটিভি ফুটেজে এ দৃশ্য ধরা পড়ে। ফুটেজে দেখা যায়, সড়কে দাঁড়িয়ে একটি কারখানার দিকে তাক করে ফাঁকা গুলি ছুড়ছেন টি-শার্ট পরা সাব্বির। পরে সড়ক ধরে এগিয়ে যাওয়ার সময় পিস্তল উঁচিয়ে তাকে আবারো গুলি করতে দেখা যায়।
সানা/কেএমএএ/আপ্র/৩১/১০/২০২৬