গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬

মেনু

পবিত্র ঈদুল আজহা

সাম্য-ত্যাগ-মানবতা আর আত্মশুদ্ধির ঈদ আজ

সুখদেব কুমার সানা

সুখদেব কুমার সানা

প্রকাশিত: ০৩:০৭ পিএম, ২৮ মে ২০২৬ | আপডেট: ২৩:৩১ এএম ২০২৬
সাম্য-ত্যাগ-মানবতা আর আত্মশুদ্ধির ঈদ আজ
ছবি

ফাইল ছবি

ত্যাগ, তাকওয়া, সাম্য, সহমর্মিতা ও আত্মশুদ্ধির মহান আহ্বান নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার (২৮ মে) উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলিম উম্মাহর অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব এই ঈদ কেবল আনন্দের নয়, এটি আত্মসমর্পণ, আত্মত্যাগ ও মানবিক দায়বোধেরও এক মহিমান্বিত শিক্ষা। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের আশায় সামর্থ্যবান মুসলমানরা আজ পশু কোরবানির মাধ্যমে স্মরণ করবেন হজরত ইব্রাহিম (আ.) ও তাঁর পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)-এর অতুলনীয় আত্মত্যাগের ইতিহাস।

হিজরি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী জিলহজ মাসের ১০ তারিখে উদযাপিত হয় ঈদুল আজহা। ঈদুল ফিতরের মতো এ উৎসবে চাঁদ দেখার অনিশ্চয়তা থাকে না; অনেক আগেই নির্ধারিত হয়ে যায় ঈদের দিনক্ষণ। সেই হিসাবেই গত কয়েক দিন ধরে দেশজুড়ে চলেছে কোরবানির পশু কেনাবেচা, ঘরমুখো মানুষের যাত্রা, আত্মীয়স্বজনের কাছে ফিরে যাওয়ার ব্যস্ততা ও ঈদ আয়োজনের প্রস্তুতি।

তবে এবার ঈদ এসেছে এক কঠিন বাস্তবতার ভেতর দিয়ে। দেশের বিভিন্ন হাওরাঞ্চলে ফসলহানি, দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতি, আয়-ব্যয়ের টানাপোড়েন, হাম রোগে শিশু মৃত্যুর মর্মন্তুদ খবর—সব মিলিয়ে বহু পরিবার দুশ্চিন্তা ও শোকের মধ্য দিয়ে দিন পার করছে। রাজধানীর কালশীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত অসংখ্য পরিবারও এবার ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত। তবু জীবনের অনিবার্য দুঃখ-দুর্দশার মাঝেও থেমে থাকে না মানুষের উৎসব। সীমিত সামর্থ্য, ক্লান্তি আর প্রতিকূলতার ভেতরেও মানুষ খোঁজে আপনজনের সান্নিধ্য, ভাগাভাগির আনন্দ ও মানবিক বন্ধনের উষ্ণতা।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছিলেন—

‘ঈদজ্জোহার চাঁদ হাসে ঐ এলো আবার দুস্রা ঈদ
কোরবানি দে, কোরবানি দে, শোন খোদার ফর্মান তাকিদ।’

আবার তাঁরই ভাষায়—

‘মনের পশুরে কর জবাই, পশুরাও বাঁচে, বাঁচে সবাই।’

ঈদুল আজহার প্রকৃত শিক্ষা এখানেই—কেবল পশু কোরবানি নয়, মানুষের ভেতরের লোভ, হিংসা, অহংকার ও পশুত্বকে বিসর্জন দিয়ে আত্মাকে পরিশুদ্ধ করা। পবিত্র কোরআনের সূরা হজের ৩৭ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ ঘোষণা করেছেন, কোরবানির পশুর রক্ত বা গোশত তাঁর কাছে পৌঁছায় না; পৌঁছে মানুষের তাকওয়া ও আন্তরিকতা।

আজ সকালেই দেশজুড়ে ঈদের জামাতে মিলিত হবেন লাখো মুসল্লি। ধনী-গরিব, উচ্চবিত্ত-নিম্নবিত্ত—সব ভেদাভেদ ভুলে সবাই দাঁড়াবেন একই কাতারে। নতুন কিংবা পরিষ্কার পোশাকে, আতরের সুবাসে, শুভেচ্ছা ও কোলাকুলিতে ছড়িয়ে পড়বে ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্যের বার্তা।

রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল সাড়ে ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে ঈদের প্রধান জামাত। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে সকাল ৮টায় প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। বায়তুল মোকাররমে মোট পাঁচটি জামাতের আয়োজন করা হয়েছে। এ ছাড়া জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা, কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ এবং দিনাজপুরের গোর-এ-শহীদ ময়দানেও অনুষ্ঠিত হবে দেশের বৃহৎ ঈদ জামাত।

ঈদের আনন্দকে ঘিরে রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরের সড়ক ও স্থাপনায় নেওয়া হয়েছে বর্ণিল সাজসজ্জা। বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম সম্প্রচার করছে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা। সংবাদপত্র প্রকাশ করেছে বিশেষ ঈদসংখ্যা। হাসপাতাল, কারাগার, শিশুসদন, বৃদ্ধাশ্রম ও সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে পরিবেশন করা হবে উন্নতমানের খাবার। বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলোও যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করছে পবিত্র ঈদুল আজহা।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঈদের দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি হতে পারে। রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট ও রাজশাহী বিভাগের বেশির ভাগ এলাকায় এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক স্থানে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও হতে পারে ভারী বর্ষণও। ফলে ঈদের নামাজ, পশু কোরবানি ও বর্জ্য অপসারণে কিছুটা ভোগান্তির আশঙ্কা রয়েছে।

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে নেওয়া হয়েছে বিশেষ প্রস্তুতি। পরিচ্ছন্নতাকর্মী, পরিবহন ও জীবাণুনাশক সামগ্রী প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নগরবাসীকে নির্ধারিত স্থানে কোরবানি ও বর্জ্য যথাস্থানে ফেলার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশবাসী ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পৃথক বাণীতে তাঁরা ত্যাগ, সহমর্মিতা, মানবিকতা ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষাকে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ধারণ করার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে কোরবানির আনন্দ গরিব, অসহায় ও বঞ্চিত মানুষের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে বলেছেন, “পবিত্র ঈদুল আজহা ত্যাগ, তাকওয়া ও আত্মশুদ্ধির মহিমান্বিত বার্তা নিয়ে আবারও মুসলিম বিশ্বের দ্বারে এসেছে। মহান আল্লাহ যেন আমাদের ত্যাগ কবুল করেন এবং সমগ্র মানবজাতির জন্য শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা দান করেন।”

ঈদুল আজহা তাই কেবল উৎসবের নাম নয়; এটি মানুষে মানুষে ভালোবাসা, সাম্য ও মানবিক বন্ধনের এক চিরন্তন আহ্বান। আত্মত্যাগের আলোয় আলোকিত হয়ে আজ আবারও মানুষ খুঁজবে আত্মার মুক্তি, সম্পর্কের উষ্ণতা এবং একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর সাহস।
সানা/আপ্র/২৮/৫/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

ইমোজি ব্যবহারের ইসলামী বিধান কী
২৯ আগস্ট ২০২৬

ইমোজি ব্যবহারের ইসলামী বিধান কী

ফেসবুক, মেসেঞ্জারসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুভূতি প্রকাশের জন্য ইমোজির ব্যবহার এখন ব্যাপক।...

আদর্শ সন্তান গড়তে যে বিষয়ে গুরুত্ব দিলেন ইমাম
২৯ আগস্ট ২০২৬

আদর্শ সন্তান গড়তে যে বিষয়ে গুরুত্ব দিলেন ইমাম

যুবসমাজকে সঠিকভাবে গড়ে তুলতে অভিভাবক ও শিক্ষকদের সম্মিলিত দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন মদিনার...

ওমরাহ এজেন্সির নিবন্ধনে যে ৬ শর্ত দিল সৌদি আরব
২৬ আগস্ট ২০২৬

ওমরাহ এজেন্সির নিবন্ধনে যে ৬ শর্ত দিল সৌদি আরব

ওমরাহ পরিচালনায় এজেন্সিগুলোর নিবন্ধনের (অ্যাক্রেডিটেশন) প্রক্রিয়ায় ছয়টি শর্ত আরোপ করেছে ঢাকাস্থ সৌদি...

আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী, দেশজুড়ে বিশেষ নিরাপত্তা
২৬ আগস্ট ২০২৬

আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী, দেশজুড়ে বিশেষ নিরাপত্তা

আজ বুধবার (২৬ আগস্ট, ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি), যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঠেকাতে রোডম্যাপ চান আইনমন্ত্রী

ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান রোধ এবং ভবিষ্যতে কেউ যাতে ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠতে না পারে, সে লক্ষ্যে একটি রোডম্যাপ তৈরিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। বুধবার (২৬ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মন্ত্রীর চাওয়ার সাথে একমত?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 3 দিন আগে