কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় একটি সেতুর নির্মাণকাজ পাঁচ বছরেও শেষ না হওয়ায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ড্রামের ভেলায় নদী পারাপার করতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। বিশেষ করে শিশু শিক্ষার্থী, বয়স্ক ও অসুস্থ রোগীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের গাফিলতির কারণে সেতুটির নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় প্রায় ১০ হাজার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। বর্ষাকালে ভোগান্তি আরো বেড়ে যায়। ড্রামের ভেলা থেকে পড়ে গিয়ে প্রায়ই ঘটছে ছোটখাটো দুর্ঘটনা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফুলবাড়ী উপজেলার ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নের প্রত্যন্ত খোচাবাড়ী তালতলা এলাকায় সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০২১-২০২২ অর্থবছরে। কুড়িগ্রাম শহরের ঘোষপাড়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নুফা জেডএইচডি-জিবি ২ কোটি ৮৪ লাখ ১১ হাজার টাকা ব্যয়ে ৪২ মিটার দীর্ঘ সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু করে।
পরে দ্বিতীয় দফায় বরাদ্দ বাড়িয়ে নির্মাণ ব্যয় ৩ কোটি ১ লাখ ১৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয় এবং দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত তা শেষ হয়নি। সেতুর দুই পাশের গার্ডার ও মাঝখানের পিলার নির্মাণের পর থেকেই কাজ থেমে আছে।
সেতুটি নির্মাণ না হওয়ায় আশপাশের সাত গ্রামের মানুষের যাতায়াত, ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিকাজ ও শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাওয়া-আসা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা জাইদুল সরদার বলেন, সেতুর কাজ শেষ না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা সময়মতো বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে পারে না। বয়স্ক মানুষ ও অসুস্থ রোগীদের পারাপারে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বর্ষাকালে ধান, পাটসহ কৃষিপণ্য এবং গবাদিপশু পারাপার করতেও নানা সমস্যায় পড়তে হয়।
স্থানীয় শিক্ষার্থী আশিক, হাবিব ও রবিন জানায়, দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে প্রতিদিন ড্রামের ভেলায় করে তাদের পারাপার হতে হচ্ছে। ভেলার জন্য অনেক সময় অপেক্ষা করতে হয়। ফলে সময়মতো বিদ্যালয়ে পৌঁছানো সম্ভব হয় না। সেতুটি দ্রুত নির্মাণ শেষ হলে তাদের দুর্ভোগ কমবে।
ফুলবাড়ী উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী মামুনুর রহমান বলেন, দ্রুত সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্ষা মৌসুম শেষ হলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন হবে।
সানা/আপ্র/১৩/৭/২০২৬