বিদেশে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যকে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের রাজনীতি বাংলাদেশের মানুষ আর গ্রহণ করবে না।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে দিল্লিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার অডিও বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “কিসের হাসিনা, কোথায় বক্তব্য দিয়েছে? চেহারা দেখা গেছে?”
তিনি বলেন, “মাঝেমধ্যে আওয়াজ-টাওয়াজ দিয়ে তারা চেষ্টা করছে বাংলাদেশে কোনো অস্থিরতা সৃষ্টি করা যায় কি না। এগুলো বাংলাদেশের মানুষ কখনো গ্রহণ করবে না।”
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “যারা গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত, যাদের কোনো অনুশোচনা নেই এবং যারা বাংলাদেশের মানুষের কাছে ক্ষমা চাননি, তাদের কোনো রাজনীতি এ দেশের মানুষ গ্রহণ করবে না।”
তিনি আরো বলেন, বিদেশে থেকে কেউ উসকানি বা বক্তব্য দিতে পারেন, তবে এসব বিষয়ে সরকার এখন আর গুরুত্ব দিচ্ছে না।
কক্সবাজার উন্নয়নে সমন্বিত পরিকল্পনা: এর আগে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) কার্যালয় পরিদর্শন ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সময় তিনি কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানান।
তিনি বলেন, কক্সবাজারের জন্য প্রণীত সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এটি অনুমোদনের পর পর্যটন উন্নয়নে বিদ্যমান নীতিগত ও প্রশাসনিক জটিলতা দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেন, অতীতে পর্যাপ্ত তথ্য-উপাত্ত ও জরিপ ছাড়াই কক্সবাজারের বিস্তীর্ণ এলাকাকে পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষণা করা হয়েছিল, যার কারণে পর্যটন খাতের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও পর্যটন উন্নয়নের মধ্যে ভারসাম্য রেখে তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
কক্সবাজারের পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নে কাঠের ওয়াকওয়ে, পিয়ার ও হেলিকপ্টার অবতরণ প্ল্যাটফর্মসহ আধুনিক সুযোগ-সুবিধা তৈরির সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
মেডিকেল কলেজে ছাত্রী বেশি: কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রকল্পটি এগিয়ে নিতে বিভিন্ন পর্যায়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতায় অনুমোদন ও নির্মাণকাজ শুরু হয়।
তিনি বলেন, নতুন ভবন চালু হলে শিক্ষার্থী ও রোগীদের সুবিধা বাড়বে এবং আবাসন সংকটও অনেকাংশে দূর হবে।
মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে ছাত্রের তুলনায় ছাত্রীর সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ, যা তাকে আনন্দিত করেছে।
নিজের ছাত্রজীবনের স্মৃতিচারণ করে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে শিক্ষক ও বুদ্ধিজীবী সলিমুল্লাহ খানের সান্নিধ্য পাওয়ার সুযোগ হয়েছিল। তাঁর কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার সুযোগ হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সানা/আপ্র/৭/৮/২০২৬