সিলেট ও বগুড়ায় শুক্রবার ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত পৃথক দুটি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২৬ জন। এর মধ্যে সিলেটে দুটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে শিশুসহ ৯ জন এবং বগুড়ায় নিয়ন্ত্রণ হারানো বাস শ্রমিকদের ওপর উঠে গেলে ৭ জন নিহত হন।
দুটি দুর্ঘটনাই জাতীয় মহাসড়কে ঘটেছে। পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। আহতদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সিলেটে বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৯
সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ইউনিক পরিবহন ও বেঙ্গল পরিবহনের দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে শিশুসহ ৯ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ১২ জন।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢাকা থেকে সিলেটগামী ইউনিক পরিবহনের বাসটির সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা বেঙ্গল পরিবহনের বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর ইউনিক পরিবহনের বাসটি সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায় এবং দুটি বাসই দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
সিলেট হাইওয়ে পুলিশের সুপার মো. রেজাউল করিম জানান, ঘটনাস্থলেই সাতজনের মৃত্যু হয়। পরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুজন মারা যান।
নিহতদের মধ্যে তিনজনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তারা হলেন সিলেট নগরীর সোবহানীঘাট এলাকার সপ্তম রায় প্রীতম (২২), ঢাকার বিক্রমপুরের জাহাঙ্গীর শেখের মেয়ে জাইফা (৩) এবং কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের হাজী সাইফুল ইসলাম (৫০)। বাকিদের পরিচয় শনাক্তে কাজ চলছে।
আহতদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে।
বগুড়ায় শ্রমিকদের ওপর বাস উঠে নিহত ৭
বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার এরুলিয়া সিল্কিবান্ধা এলাকায় বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কে যাত্রীবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে কাজের অপেক্ষায় থাকা একদল শ্রমিকের ওপর উঠে গেলে ৭ জন নিহত হন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৪ জন।
শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, ঢাকা থেকে নওগাঁগামী শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে একটি বিদ্যুতের খুঁটিতে ধাক্কা দেয়। এরপর সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা দিনমজুর ও কৃষিশ্রমিকদের চাপা দেয়।
বগুড়া সদর থানার এএসআই শফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও তিনজনকে মৃত ঘোষণা করা হয় এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরেকজন মারা যান।
নিহতদের মধ্যে গাইবান্ধার আমিরুল, নূর আলম ও বেলাল হোসেনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাঁরা সবাই দিনমজুর ও কৃষিশ্রমিক ছিলেন।
আহতদের বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
উদ্ধার অভিযান ও তদন্ত
দুটি দুর্ঘটনার পরই মহাসড়কে যান চলাচলে সাময়িক বিঘ্ন ঘটে। ফায়ার সার্ভিস, হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সদস্যরা উদ্ধার কাজ চালান।
সিলেটের ঘটনায় দুর্ঘটনাকবলিত দুটি বাস জব্দ করেছে হাইওয়ে পুলিশ। অন্যদিকে বগুড়ায় বাসটির চালক ও সহকারীকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে পৃথক তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই দুই দুর্ঘটনায় দেশে সড়কপথে অন্তত ১৬ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা সংকটাপন্ন থাকায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
সানা/আপ্র/৭/৮/২০২৬