জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে প্রদর্শিত তথ্যচিত্রে ঘটনাপ্রবাহ উপস্থাপনায় ত্রুটি থাকার অভিযোগকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠানস্থলে যে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, সে জন্য আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) রাতে মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তথ্যচিত্র বা অন্য যেকোনো বিষয়ে অভিযোগ জানানোর অধিকার সব নাগরিকের রয়েছে। তবে সেই অভিযোগ পরিশীলিত ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে উপস্থাপন করা বাঞ্ছনীয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি, বিদেশি কূটনীতিক, গণমাধ্যম প্রতিনিধি ও আমন্ত্রিত অতিথিদের উপস্থিতিতে গোলযোগ সৃষ্টি করার মাধ্যমে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান বানচাল ও রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি নষ্ট করার কোনো চেষ্টা ছিল কি না, সেটিও বিবেচনার দাবি রাখে বলে মন্তব্য করেছে মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয় জানায়, প্রতিবাদ জানানোর অন্য সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তা ব্যবহার না করে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে, যার ফলে আমন্ত্রিত শহীদ পরিবার ও আহত জুলাই যোদ্ধারা মানসিকভাবে কষ্ট পেয়েছেন। বিষয়টি তাঁদের বক্তব্য থেকেও প্রতীয়মান হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
এ ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীকে জড়িয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্দেশ্যমূলকভাবে অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। এসব বিভ্রান্তিকর ও সম্মানহানিকর প্রচারণা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রণালয় বলেছে, এ ধরনের অপতথ্য রাষ্ট্রের জন্য সম্মানহানিকর এবং গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, অপতথ্য ছড়িয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। তাই হঠকারী, রাষ্ট্রবিরোধী ও গণতন্ত্রবিরোধী কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সবাইকে সচেতন ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
গত ৫ আগস্ট বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে ‘জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা’ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শনের সময় ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ তুলে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। এ সময় জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন এবং একপর্যায়ে কয়েকজন কূটনীতিককেও বেরিয়ে যেতে দেখা যায়।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রদর্শিত তথ্যচিত্রটির বিষয়ে উত্থাপিত অভিযোগগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় পরিমার্জন শেষে দ্রুততম সময়ে সংশোধিত তথ্যচিত্র প্রকাশ করা হবে। একই সঙ্গে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস নির্ভুল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও তথ্যভিত্তিকভাবে সংরক্ষণে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
সানা/আপ্র/৭/৮/২০২৬