পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতের মাটিতে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ায় বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে কেমন সম্পর্ক চায়, সেই সিদ্ধান্ত এখন ভারতকেই নিতে হবে।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে দিল্লিতে শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক সংবাদ সম্মেলন নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
শামা ওবায়েদ বলেন, “একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামি যখন ভারতের মাটিতে বসে এই ধরনের কথা বলে এবং ভারত সরকার সেটা অনুমোদন করে, তখন অবশ্যই বাংলাদেশের মানুষের জন্য একটা উদ্বেগের জায়গা তৈরি হয় যে ভবিষ্যতে আমাদের সম্পর্ক কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে।”
তিনি বলেন, সরকার আগেও ভারতকে বারবার জানিয়েছে যে বাংলাদেশের সঙ্গে তারা কী ধরনের সম্পর্ক চায়, সে বিষয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করা প্রয়োজন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আগের বিবৃতিতে কূটনৈতিক ভাষায় সেই বার্তাই দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে বুধবার নয়াদিল্লিতে সাউথ এশিয়া ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অডিও কলে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা। সেখানে তিনি ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনকে ‘সহিংস আন্দোলনে’ রূপ দেওয়ার অভিযোগ করেন এবং ডিসেম্বরে দেশে ফেরার কথা বলেন, যদিও নির্দিষ্ট তারিখ জানাননি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক উন্নত হোক—এটা দুই দেশের সরকার ও জনগণই চায়। কিন্তু ভারতের মাটিতে বসে সাজাপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগ নেতারা যদি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে থাকেন এবং ভারত সরকার তা বন্ধ না করে, তাহলে তা বাংলাদেশের জনগণের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।”
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ আলোচনা ও সংলাপে আগ্রহী। জ্বালানি সহযোগিতা, পানিবণ্টন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা চলবে। তবে শেখ হাসিনার বক্তব্যের বিষয়টি শুধু ২৪ বা ৩৬ ঘণ্টার ঘটনা নয়; এটি জুলাই যোদ্ধা, শহীদ পরিবার এবং বাংলাদেশের মানুষের অনুভূতির সঙ্গে জড়িত একটি স্পর্শকাতর বিষয়।
বাংলাদেশকে জঙ্গিবাদী রাষ্ট্র হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদ বলেন, “অপরাধ ঢাকতে জঙ্গিবাদের বয়ান সামনে আনা আওয়ামী লীগের পুরোনো রাজনৈতিক কৌশল।”
তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও দমন-পীড়নের সমালোচনা আড়াল করতেই আওয়ামী লীগ বারবার উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বয়ান ব্যবহার করেছে।
উচ্চপর্যায়ের সফর নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, সম্পর্ক অবশ্যই সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্মানের ভিত্তিতে হতে হবে।
আগামী সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ সম্পর্কে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে বিমসটেকের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছে এবং বহুপক্ষীয় ফোরামে অংশগ্রহণে আগ্রহী। তবে প্রধানমন্ত্রী সম্মেলনে যোগ দেবেন কি না, তা তাঁর সময়সূচি ও ব্যস্ততার ওপর নির্ভর করবে।
তিনি জানান, ব্রিকস সম্মেলনের ‘আউটরিচ’ পর্বে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি ভারতের পক্ষ থেকে দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণও রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
সানা/আপ্র/৭/৮/২০২৬