বাংলাদেশ আর কখনো ‘ক্লায়েন্ট স্টেট’ বা নতজানু রাষ্ট্রে ফিরে যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি বলেছেন, সরকারের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি হচ্ছে—‘সবার আগে বাংলাদেশ’।
বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’-এর অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “শুরু থেকেই আমাদের সরকারের পররাষ্ট্রনীতির সবচেয়ে বড় দিকটি হচ্ছে—সবার আগে বাংলাদেশ। আমরা সেই ক্লায়েন্ট স্টেট পর্যায়ে আর কখনো ফিরে যাব না, কখনোই না। এটি আমাদের জন্য একটি বড় দায়িত্ব। জুলাই সংগ্রামের যে সাফল্য, সেই সাফল্যের একটি ভার আমাদের ওপর আছে এবং তা বহন করতে হবে।”
তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী আজ যে কথা বলেছেন, আমরা যেন কখনো সেই নতজানু অবস্থায় ফিরে না যাই। এ জন্য আমরা যারা পররাষ্ট্রসেবায় আছি, আমরা ফ্রন্টলাইনার। জুলাইয়ের যে উদ্দেশ্য, তা আগামী দিনগুলোতে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব আমাদের।”
ড. খলিলুর রহমান জানান, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সরকারে যোগ দেওয়ার আগে তিনি প্রথমে হাসপাতালে গিয়ে জুলাই আন্দোলনে আহতদের দেখেছিলেন।
তিনি বলেন, “ফিরে এসে আমি তাঁকে বলেছিলাম—আমরা যেন কখনো না ভুলে যাই, আমরা কী অবস্থার মধ্য দিয়ে এখানে এসেছি। তাঁদের রক্তের ওপর হেঁটে আমরা আজ এখানে দাঁড়িয়ে আছি।”
আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের অবস্থান প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁকে বলেছেন, “বাংলাদেশ একসময় আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে হারিয়ে যাচ্ছিল। এখন বাংলাদেশকে আবার ফিরে আসতে দেখে আমরা আনন্দিত।”
তিনি বলেন, “এই কথাগুলো শুনলে আমরা বুঝতে পারি, বাংলাদেশকে আর কোনো দেশের প্রভাবাধীন বা নতজানু রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চায় না এ দেশের মানুষ। প্রধানমন্ত্রীও আজ জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধনের সময় একই বার্তা দিয়েছেন।”
জুলাই আন্দোলনের তরুণদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “এই দুরন্ত ছেলেমেয়েগুলো ভয়াবহ এক দানবের হাত থেকে দেশটাকে ছিনিয়ে এনে আমাদের হাতে দিয়েছে। এখন দায়িত্ব আমাদের—মায়া, ভালোবাসা, কাজ, নিষ্ঠা, মেধা ও প্রজ্ঞা দিয়ে দেশটাকে আগলে রাখা এবং সামনে এগিয়ে নেওয়া।”
ফরেন সার্ভিসের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “শহীদরা আমাদের হাতে একটি বড় দায়িত্বভার দিয়ে গেছেন। সেই দায়িত্বের কথা প্রতিটি মুহূর্তে মনে রাখতে হবে।”
সানা/আপ্র/৫/৮/২০২৬