বর্তমান বাংলাদেশে ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্বল বিরোধী দল রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (বিআইজিডি) জ্যেষ্ঠ গবেষণা ফেলো মির্জা এম হাসান। তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে নেই, জামায়াত খুব বেশি আত্মবিশ্বাসী অবস্থানে নেই এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি তুলনামূলকভাবে ছোট দল হওয়ায় বিরোধী রাজনীতিতে ভারসাম্যের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে ‘বাংলাদেশে গণতন্ত্রের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক দিনব্যাপী সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে ‘ট্রাজেক্টরি অব নন-ডেমোক্রেসি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে এসব কথা বলেন তিনি।
মির্জা এম হাসান বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নিপীড়নের একটি অপেক্ষাকৃত হালকা সংস্করণ দেখা যাচ্ছে। এক বছরের মধ্যে এর কঠিন রূপ দেখা যেতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাজনৈতিক ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার বা অংশগ্রহণের সুযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ক্ষমতার কাঠামোতে জায়গা পেতে অনেক সময় শক্তি ও সহিংসতার সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তার মতে, এ বিষয়টি বিএনপি, জাতীয় নাগরিক পার্টি ও রাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্কের ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলছে।
তিনি বলেন, বিএনপি ও জামায়াতের সম্পর্ক বর্তমানে অনেকটা অপেক্ষার রাজনীতির মতো। জামায়াত নিজেদের একটি ভদ্র ও উদার বিরোধী দল হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছে এবং তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
মির্জা হাসান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন রাজনৈতিক ও নাগরিক শক্তির উত্থান ঘটেছিল। কিন্তু সেই শক্তি এখনো টেকসই রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানে রূপ নিতে পারেনি। ফলে পুরোনো রাজনৈতিক শক্তিগুলো আবার সুবিধাজনক অবস্থানে ফিরে এসেছে।
তিনি বলেন, জুলাই-পরবর্তী সময়ে বিএনপি ধীর কৌশলে এগোচ্ছে, জামায়াত নিজেদের মূলধারার রাজনৈতিক ভাবমূর্তি শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি নিজেদের রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জে রয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা হাসান বলেন, কার্যকর রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে সমঝোতা ও অংশগ্রহণের সুযোগ থাকতে হয়। বাংলাদেশে তা না হওয়ায় রাজনৈতিক সংঘাত অব্যাহত রয়েছে।
জুলাই সনদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এর লক্ষ্য ছিল প্রধানমন্ত্রীর একক ক্ষমতা, দলীয় আধিপত্য ও পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতির প্রভাব কমানো। তবে পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল অনেকটা অভিজাত শ্রেণিনির্ভর এবং এতে সাধারণ মানুষের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ সীমিত ছিল।
বাংলাদেশে গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি বলেন, শুধু নির্বাচনভিত্তিক গণতন্ত্র যথেষ্ট নয়; মানবাধিকার, আইনের শাসন ও নাগরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাও জরুরি। তিনি সরাসরি গণতন্ত্রের ধারণা নিয়েও ভবিষ্যতে আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে বলে মত দেন।
সম্মেলনে বিআইজিডির নির্বাহী পরিচালক ইমরান মতিন স্বাগত বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম, আইনজীবী সারা হোসেনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
দিনব্যাপী এ সম্মেলনে ভোটারদের আচরণ, রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা এবং গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনটি পর্বে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
সানা/আপ্র/৩/৮/২০২৬