জুলাই অভ্যুত্থানের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার খসড়া তদন্ত প্রতিবেদনে লেখক ও অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবালসহ চারজনের নাম এসেছে।
অন্য তিনজন হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান এবং আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনার তদন্ত এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তার প্রস্তুত করা খসড়া প্রতিবেদন প্রসিকিউশন হাতে পেয়েছে এবং তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
গাজী তামীম জানান, খসড়া প্রতিবেদনটি যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হবে। পরবর্তীতে সেটি চূড়ান্ত আকারে ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হবে।
প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় তিন শতাধিক ছাত্রছাত্রী আহত হন।
খসড়া তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লিখিত চারজনের বিরুদ্ধে ওই সময় উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়া এবং হামলার পেছনে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মদদ দেওয়ার অভিযোগ তদন্তে উঠে এসেছে বলে প্রসিকিউশন সূত্র জানিয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। এরপর ২১ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩৯১ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করা হয়। লিখিত অভিযোগে অজ্ঞাতনামা আরও ৮০০ থেকে ১ হাজার ব্যক্তির নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি দেয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে।
ওই ঘটনার পর কোটা সংস্কার আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন স্থানে সংঘাত ও সহিংসতার ঘটনা ঘটে। পরে ব্যাপক প্রাণহানির মধ্য দিয়ে আন্দোলন সরকার পতনের এক দফা আন্দোলনে রূপ নেয়।
সানা/আপ্র/৭/৮/২০২৬