রাজধানীর শাহবাগ থানায় করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় রাজনৈতিক সংগঠন ‘নতুন ধারা বাংলাদেশ’-এর চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদী ও জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানাসহ ছয়জনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
বুধবার (৫ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই শাহ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
কারাগারে পাঠানো অপর চার আসামি হলেন—সংগঠনের ভাইস চেয়ারম্যান নুরজাহান নীরা, যুগ্ম মহাসচিব মনিরুজ্জামান, সাংগঠনিক সম্পাদক আফতাব মণ্ডল ও হরী সরকার।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার এসআই মনিরুল ইসলাম আসামিদের আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।
আদালত সূত্র জানায়, মোমিন মেহেদী ও শান্তা ফারজানার নামে একাধিক ওকালতনামা থাকায় তাদের জামিন শুনানি অনুষ্ঠিত হয়নি। অপর চার আসামির পক্ষে আইনজীবী মফিজুল ইসলাম আসলাম জামিন আবেদন করেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী বলেন, শান্তা ফারজানাকে আয়াস নামে এক ব্যক্তি চড় মারার ঘটনায় তারা জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন। সেখানে তাদের ওপর হামলা হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গেলে সেখানেও হামলার ঘটনা ঘটে। তিনি দাবি করেন, গ্রেপ্তার চারজন ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন।
রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী জামিনের বিরোধিতা করেন। তিনি আদালতে বলেন, আসামিরা সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।
শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে ছয়জনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
প্রেস ক্লাবে সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা
মোমিন মেহেদী, শান্তা ফারজানাসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার রাতে বাবুল সরদার নামে এক ব্যক্তি শাহবাগ থানায় মামলাটি করেন।
মামলায় ছয়জনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে নতুন ধারা বাংলাদেশ ও রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ সময় উসকানিমূলক স্লোগান ও মিছিলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, একপর্যায়ে লাঠি, লোহার পাইপ, চেয়ার ও হকিস্টিকসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্য সচিব আল নুর মোহাম্মদ আয়াসসহ কয়েকজন আহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় আয়াসকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালে ফের সংঘর্ষ, বন্ধ ছিল চিকিৎসাসেবা
ঘটনার পর আহতরা চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গেলে সেখানে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, হাসপাতালের জরুরি বিভাগে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হলে প্রায় তিন ঘণ্টা পর শান্তা ফারজানাসহ ছয়জনকে পুলিশ হেফাজতে নেয়। পরে রাত ১১টার দিকে অতিরিক্ত নিরাপত্তায় তাদের শাহবাগ থানায় নেওয়া হয়।
সংঘর্ষের কারণে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসাসেবা দেড় ঘণ্টার বেশি সময় ব্যাহত হয় বলে জানা গেছে।
মামলার অভিযোগ, গ্রেপ্তার এবং আদালতের আদেশের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো নিজ নিজ বক্তব্য দিয়েছে। বিষয়টি এখন তদন্তাধীন।
সানা/আপ্র/৫/৮/২০২৬