রাজধানীর গুলশান-২ নম্বর এলাকার একটি রেস্ট হাউসে অভিযান চালিয়ে ২৪৪ লিটার অবৈধ বিদেশি মদ ও বিয়ার জব্দ করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক আতাউর রহমান ওরফে শামীমকে (৪২) গ্রেফতার করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে এ অভিযান চালানো হয়। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, রেস্টহাউসটির কোনো বার লাইসেন্স নেই। তা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বিদেশি মদ ও বিয়ার মজুত করে পাইকারি ও খুচরা বিক্রি করছিল। পাশাপাশি টিকিট বিক্রির মাধ্যমে ‘ডিজে পার্টি’র আয়োজন করা হতো। এসব আয়োজনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বিদেশি মদ, বিয়ারসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক সরবরাহ করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।
অধিদপ্তর সূত্র জানায়, এ-সংক্রান্ত তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের পর রেস্টহাউসটিতে অভিযান চালানো হয়। অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের অতিরিক্ত পরিচালক জাহিদ হোসেন মোল্লার নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে একাধিক দল অংশ নেয়।
অভিযানে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ২২৩ বোতল বিদেশি মদ জব্দ করা হয়, যার মোট পরিমাণ ১৭৭ লিটার। এ ছাড়া ২০৯টি বোতল ও ক্যানে থাকা ৬৭ লিটার অবৈধ বিয়ার জব্দ করা হয়। সব মিলিয়ে জব্দ করা মদ ও বিয়ারের পরিমাণ ২৪৪ লিটার।
অভিযানকালে রেস্টহাউসের ব্যবস্থাপক আতাউর রহমান ওরফে শামীম ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। জব্দ করা মদ ও বিয়ারের বৈধতা যাচাইয়ের জন্য তাঁর কাছে প্রয়োজনীয় নথিপত্র চাওয়া হয়। কিন্তু তিনি সেসব নথি দেখাতে পারেননি। বিক্রির উদ্দেশ্যে অবৈধ মদ ও বিয়ার মজুত এবং সংরক্ষণের অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মেহেদী হাসান জানান, কথিত ‘জার্মান ক্লাব’ নামে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হলেও এর প্রকৃত নাম ‘সেভেনটি এইট রেস্টহাউস সোসাইটি’। প্রতিষ্ঠানটির বৈধতার পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
তিনি আরো জানান, প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে মো. ওমর জামিল (৪৫) নামের আরেক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে অভিযানের সময় তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমের সঙ্গে আরো একাধিক ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ ঘটনায় শামীম, জামিলসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে রাজধানীর গুলশান থানায় মামলা করা হয়েছে। পলাতক আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন মো. মেহেদী হাসান।
সানা/আপ্র/কেএমএএ/১৬/১০/২০২৬