পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে ‘জিন বা অতিপ্রাকৃত সত্তার’ ভয়ে পুকুরের পানিতে দিন-রাত কাটাচ্ছে ১৬ বছরের এক কিশোর। ইকবাল শেখ নামের ওই কিশোরের দাবি, পানি থেকে উঠে এলেই শরীরজুড়ে তীব্র জ্বালাপোড়া শুরু হয়। তবে পানিতে নামলে অস্বস্তি অনেকটাই কমে যায়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ইকবাল কখনো কখনো টানা কয়েক দিন, এমনকি প্রায় এক সপ্তাহও পুকুরের পানিতে কাটিয়ে দিচ্ছে। এ ঘটনায় এলাকায় কৌতূহল তৈরি হয়েছে। প্রতিদিন অনেক মানুষ তাকে দেখতে পুকুরপাড়ে ভিড় করছেন। কেউ কেউ তার জন্য চিঁড়া, বিস্কুটসহ বিভিন্ন খাবারও নিয়ে আসছেন।
ইকবালের বাড়ি মুর্শিদাবাদের বেলডাঙ্গা এলাকায়। তার দাবি, শরীরে এই অস্বস্তির পেছনে জিন, পরী বা অন্য কোনো অতিপ্রাকৃত সত্তার প্রভাব থাকতে পারে।
দীর্ঘ সময় পানিতে থাকার কারণে ইকবালের শারীরিক অবস্থা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘক্ষণ পানিতে থাকার ফলে তার হাত-পা ও শরীরের বিভিন্ন অংশের ত্বক ফ্যাকাশে হয়ে গেছে। পাশাপাশি সর্দি-কাশির সমস্যাও দেখা দিয়েছে।
ইকবাল জানিয়েছে, সে স্থানীয় একটি ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে গিয়েছিল। তবে প্রয়োজনীয় সহায়তা পায়নি বলে তার দাবি। পরিবারের আর্থিক অবস্থাও ভালো নয়, ফলে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য তাদের নেই।
স্থানীয়রা তাকে পুকুর থেকে তুলে বাড়িতে ফেরানোর চেষ্টা করেছেন। তবে ইকবাল পানি থেকে উঠতে রাজি হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।
ইকবালের এই সমস্যাকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে নানা ধরনের ধারণা তৈরি হলেও চিকিৎসাবিজ্ঞানে পানির সংস্পর্শের পর তীব্র চুলকানি বা জ্বালাপোড়ার মতো অস্বস্তির একটি বিরল অবস্থার কথা জানা যায়। এর নাম ‘অ্যাকোয়াজেনিক প্রুরাইটাস’।
এ অবস্থায় পানির সংস্পর্শের পর ত্বকে তীব্র চুলকানি, জ্বালাপোড়া বা সুচ ফোটার মতো অনুভূতি হতে পারে। পানির তাপমাত্রা ও অন্যান্য কিছু বিষয় উপসর্গের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
তবে ইকবালের ক্ষেত্রে এই শারীরিক সমস্যা রয়েছে কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। এর জন্য চিকিৎসকের সরাসরি পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় শারীরিক নিরীক্ষা জরুরি।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
এসি/আপ্র/১০/০৮/২০২৬