সৌদি আরব সরকার তাদের দেশের লাখ লাখ উটের জন্য বিশেষ ‘পাসপোর্ট’ ইস্যু করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। মূলত উটের বিশাল পালের সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সৌদি আরবের পরিবেশ, পানি ও কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই উদ্যোগ উট পালন খাতে ‘উৎপাদনশীলতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি এবং উট সম্পর্কিত একটি নির্ভরযোগ্য তথ্যভান্ডার তৈরিতে সাহায্য করবে।’
গত মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাসপোর্টের একটি ছবি প্রকাশ করা হয়। সেখানে দেখা যায়, একটি সবুজ রঙের পাসপোর্টে সৌদি আরবের জাতীয় প্রতীক এবং একটি সোনালি উটের ছবি খোদাই করা আছে।
সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম আল আখবারিয়ার তথ্য অনুযায়ী, এই পাসপোর্ট উট কেনাবেচা এবং পরিবহনব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করবে। এটি মালিকানা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মালিকদের অধিকার রক্ষা করবে। উট ব্যবসার যাবতীয় লেনদেনকে দাপ্তরিক নথির আওতায় নিয়ে আসবে। ২০২৪ সালের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, সৌদি আরবে উটের সংখ্যা প্রায় ২২ লাখ।
আরব উপদ্বীপে উট দীর্ঘকাল ধরে পরিবহনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। উট কেবল যাতায়াতের মাধ্যম নয়, বরং এটি মালিকের আভিজাত্যের প্রতীক। বর্তমানে সৌদি আরবে এটি অত্যন্ত লাভজনক ব্যবসায়িক শিল্পে পরিণত হয়েছে।
সৌদি আরবে প্রতিবছর উটের বিশাল উৎসব এবং সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। সেখানে উটপ্রেমীরা তাঁদের প্রিয় উটের পেছনে লাখ লাখ ডলার খরচ করেন। তবে এই প্রতিযোগিতায় জেতার জন্য অনেক সময় অসাধু উপায় অবলম্বন করা হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আয়োজকেরা উটের কৃত্রিম রূপচর্চা বা কসমেটিক পরিবর্তনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। প্রতিযোগিতায় জয়ী হতে অনেকে উটের ঠোঁট ঝোলানো বা কুঁজকে সুঠাম করতে ইনজেকশন বা অন্যান্য অবৈধ পদ্ধতি ব্যবহার করে থাকে। কর্তৃপক্ষ এসব বিষয় কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে। তারা উটের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বজায় রাখার ওপর জোর দিচ্ছে। হাজার বছর ধরে আরব মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ এই উট। ২০২১ সালে প্রকাশিত এক গবেষণা থেকে জানা গেছে, সৌদি আরবের পাহাড়ের গায়ে খোদাই করা ঘোড়া ও উটের প্রমাণ সাইজের ভাস্কর্যগুলো প্রায় ৭ হাজার বছরের পুরোনো।
সানা/কেএমএএ/আপ্র/৭/২/২০২৬