মঙ্গলবার দিবাগত রাত পবিত্র শবে বরাত। মহিমান্বিত রাত হিসেবে প্রতি বছর হিজরি শাবান মাসের মাঝামাঝিতে মুসলিমরা এটি পালন করে থাকেন। এ রাতে মুসলিমরা মুক্তি, শান্তি ও কল্যাণ কামনা এবং নফল ইবাদত করেন। শবে বরাত মুসলিমদের জন্য খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। এ রাতে আল্লাহর কাছে তারা ক্ষমা প্রার্থনার মাধ্যমে ভবিষ্যতে পরিশুদ্ধ জীবনযাপনের জন্য তার অনুগ্রহ প্রত্যাশা করেন। মুসলিমদের কাছে শবে বরাত ভাগ্য নির্ধারণের রাত হিসেবেও পরিচিত। এ রাতে ক্ষমাপ্রার্থনার পাশাপাশি রিজিক দান, সুস্থতা দান, বিপদ থেকে পরিত্রাণের বিষয়ও গুরুত্ব পেয়েছে। ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা সারা বছর এ রাতের জন্য অপেক্ষা করেন। শবে বরাতের মাধ্যমে সামাজিক বন্ধন ও ভ্রাতৃত্ববোধ দৃঢ় হয়। অনেকে এ রাতের আগে ও পরে রোজা রাখেন। প্রতি বছরের মতো এবারো ধর্মীয় নানা আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে এ রাতের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেবেন ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা। শবে বরাত তাদের কাছে পবিত্র রমজান মাসের আগমনী বার্তাও। এ রাতের ১৫ দিন পর শুরু হয় রোজা। ফলে শবে বরাতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় সিয়াম সাধনার প্রস্তুতিও।
পবিত্র কোরআনের সুরা দুখানে বলা হয়েছে, ‘শপথ এই সুস্পষ্ট কিতাবের; নিশ্চয়ই আমি এ কিতাবকে বরকতময় রাতে অবতীর্ণ করেছি। নিশ্চয় আমি সতর্ককারী। এই রাতে ফয়সালা করা হয় প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয়, আমার পক্ষ থেকে নির্দেশক্রমে, নিশ্চয় আমি প্রেরণাকারী।’ এই বাণী থেকেও উপলব্ধি করা যায়, কেন শবে বরাত মুসলমানদের কাছে এত মহিমাময়। ওই মহিমার রোশনাই জীবন ও কর্মে অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে প্রয়োগের জন্যই প্রত্যেক মুসলমান এ রাতে ইবাদত-বন্দেগি করে কাটান। গরিবদের মধ্যে বিতরণ করা হয় খাদ্যসামগ্রী। ধনীদের সম্পদের ওপর যে গরিবের হক রয়েছে, তা বারবার উচ্চারিত হয়েছে পবিত্র কোরআনে। এই পবিত্র রাতে আমরা যেন ভুলে না যাই গরিব প্রতিবেশীর কথা। তাদের প্রতি আমাদের কর্তব্য রয়েছে। ইসলাম সাম্যে বিশ্বাসী। ইসলামের শান্তি ও সম্প্রীতির শাশ্বত বাণীর প্রতিফলন ঘটাতে হবে আমাদের চিন্তা ও কর্মে। ইসলামের শিক্ষা থেকে কখনোই যাতে আমরা বিচ্যুত না হই, এ ব্যাপারেও সদা সজাগ থাকতে হবে।
মঙ্গলবার রাতব্যাপী ইবাদত বন্দেগিতে মানুষ দুঃখ, বঞ্চনা, অপ্রাপ্তি, ব্যথা বেদনা থেকে মুক্তির আকাক্সক্ষায় সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনায়রত হবে। নিজেদের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে শুভচিন্তা ও সৎকর্মের আদর্শ গ্রহণের মাধ্যমে নতুন এক জীবন লাভ করবে মানুষ। রমজান মাসের আগের মাস শাবান। রমজানের সিয়াম সাধনার প্রস্তুতির মাস হিসেবে শাবান মাসকেও বরকতময় মাস হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। শবে বরাতে যারা আল্লাহর কাছে রহমত, বরকত প্রার্থনা করে ক্ষমা চান; তারা তা লাভ করেন। মহান আল্লাহ চান মানুষ পাপ-তাপ থেকে মুক্তি লাভ করে সুখ-সমৃদ্ধি অর্জন করুক; মানুষ সৌভাগ্য লাভ করুক। এই রাতের অন্যতম করণীয় হচ্ছে সব ধরনের আড়ম্বর পরিহার করে একান্তে ও নীরবে আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য ইবাদত করা। বিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায় রাত জেগে নফল নামাজ আদায়, জিকির-আজকার, কোরআন তেলাওয়াত ও তওবা ইস্তেগফারের মধ্য দিয়ে বরকত লাভের জন্য মশগুল থাকে। এ রাতে মুমিনদের প্রতি আল্লাহর বিশেষ রহমত বর্ষিত হয়। আল্লাহর দরবারে উপস্থাপন করা হয় মানুষের আমলনামা; নির্ধারিত হয় আগামী এক বছরের রিজিকসহ সবকিছু। শুধু ব্যক্তি জীবনে নয়; রাষ্ট্রীয় এবং সমাজ জীবনেও সবকিছু শুভ ও সুন্দর হোক- শবে বরাতের প্রার্থনা এটিই। মানুষ মানুষের জন্য এই শুভবোধ জেগে উঠুক। সবার জীবন সুন্দর ও কল্যাণময় হোক- এটিই হোক আজকের রাতের বিশেষ প্রার্থনা।
কেএমএএ/আপ্র