রাজধানীর বাজারে সবজির দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও মাছ, মুরগি, ডিম ও মাংসের উচ্চমূল্যে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমছে না। টানা কয়েক সপ্তাহ বৃষ্টির অজুহাতে সবজির দাম অস্বাভাবিক বেড়ে গেলেও সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় বেশিরভাগ সবজির দাম এখন ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে নেমে এসেছে। তবে মাছ, মুরগি ও ডিমের বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
গত কয়েক সপ্তাহ আগে বৃষ্টির কারণে সরবরাহ সংকটের কথা বলে বাজারে প্রায় সব ধরনের সবজি ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছিল। বর্তমানে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে কিছু সবজির দাম এখনো ১০০ টাকার আশপাশে রয়েছে।
বাজারে প্রতি কেজি বরবটি ৮০ টাকা, ঝিঙা ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ টাকা, ধন্দুল ৬০ টাকা, শসা ৬০ টাকা, পটোল ৬০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৬০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা এবং টমেটো ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া লাউ প্রতি পিস ৬০ থেকে ৮০ টাকা, মুলা ৮০ টাকা, জালি ৬০ টাকা, গোল বেগুন ১০০ টাকা, গাজর ১০০ টাকা, কচু ৮০ টাকা, করলা ১০০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৬০ টাকা এবং কাঁচা কলা প্রতি হালি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা মরিচের দামও কিছুটা কমে প্রতি কেজি ৩২০ টাকায় নেমেছে। কয়েক দিন আগেও এর দাম ৪০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল।
নারিন্দা বাজারের সবজি বিক্রেতা এনামুল হক বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে খেত থেকে সবজি সরবরাহ কমে গিয়েছিল। এখন পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় বাজারে সবজি বেশি আসছে, তাই দামও কমেছে। তবে কিছু সবজির মৌসুম না থাকায় সেগুলোর দাম এখনো বেশি।
ধুপখোলা বাজারে কেনাকাটা করতে আসা বেলাল হোসাইন বলেন, আগের তুলনায় সবজির দাম কিছুটা কমেছে, এতে স্বস্তি মিলছে। তবে এখনো সব ধরনের সবজি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আসেনি।
এদিকে সবজিতে স্বস্তি এলেও মাছ, মাংস, মুরগি ও ডিমের বাজারে চাপ কমেনি। ২০০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না ব্রয়লার মুরগি ও অধিকাংশ মাছ। ডিমের দাম বেড়ে প্রতি ডজন ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, গত সপ্তাহের তুলনায় ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ২০০ টাকায় উঠেছে। সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকা, হাইব্রিড ২৯০ থেকে ৩০০ টাকা এবং লেয়ার মুরগি ৩৫০ টাকা কেজি দরে।
মুরগি বিক্রেতারা বলছেন, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় ব্রয়লারের দাম বেড়েছে। সরবরাহ স্বাভাবিক হলে দাম কমতে পারে।
মাছের বাজারেও একই চিত্র। সপ্তাহের ব্যবধানে বিভিন্ন ধরনের মাছে কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। জীবিত পাঙাশ বিক্রি হচ্ছে ২৩০ টাকা, তেলাপিয়া ২৬০ টাকা, মাঝারি রুই ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং বড় রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে।
এ ছাড়া চিংড়ি ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, ট্যাংরা ৭০০ টাকা, ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা এবং শোল ৭০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। বড় আকারের রূপচাঁদা, নদীর বেলে ও কিছু সামুদ্রিক মাছ কিনতে গেলে গুনতে হচ্ছে হাজার টাকার বেশি।
রায় সাহেব বাজারের মাছ বিক্রেতা আব্দুল করিম বলেন, আড়ত থেকে বেশি দামে মাছ কিনতে হচ্ছে। বিশেষ করে চাষের মাছের দামও আগের তুলনায় বেড়েছে। সরবরাহ বাড়লে বাজার কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে।
মাংসের বাজারেও খুব একটা পরিবর্তন নেই। প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস এক হাজার ১০০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকা দরে।
বাজারে কেনাকাটা করতে আসা শফিকুল ইসলাম বলেন, ব্রয়লার মুরগি, পাঙাশ ও তেলাপিয়াই নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের বড় ভরসা। এসব পণ্যের দাম বাড়লে সংসারের খরচ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে।
সব মিলিয়ে রাজধানীর বাজারে সবজির দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও মাছ, মাংস, মুরগি ও ডিমের উচ্চমূল্যের কারণে নিত্যদিনের ব্যয়ের চাপ কমছে না। বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ক্রেতারা।
সানা/আপ্র/৭/৮/২০২৬