শেরপুর জেলার সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের গাড়ো আদিবাসী অধ্যুষিত জারুলতলা গ্রামে এক আদিবাসী পরিবারের প্রায় ৩ একর জমি জাল দলিল সৃষ্টি করে দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় দুই ভূমিদস্যুর বিরুদ্ধে। জমি ফিরে পেতে গেলে উল্টো প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, জারুলতলা গ্রামের বাসিন্দা কল্পনা মানকিনের কন্যা স্বপ্না মানকিনের মালিকানাধীন ৪টি দাগের মোট ২ একর ৭৯ শতাংশ জমি একই গ্রামের কছিম উদ্দিনের ছেলে আব্দুল কাদির ও পাগরু শেখের ছেলে মোঃ আব্দুর রহিম জাল দলিল তৈরি করে জোরপূর্বক দখল করে নেয়।
স্বপ্না মানকিনের স্বামী অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য পালিক কুবি চাকরিসূত্রে দীর্ঘদিন গ্রামে না থাকায় এই সুযোগে জমি দখল করা হয় বলে অভিযোগ। জমিতে ভোগদখলে যেতে চাইলে পালিক কুবিসহ পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তারা।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, দখল হয়ে যাওয়া জমির খাজনা ২০২৬ সাল পর্যন্ত এখনো কল্পনা মানকিনের নামেই ভূমি অফিসে পরিশোধ করা রয়েছে, যার কাগজপত্র ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে সংরক্ষিত আছে।
এ বিষয়ে পালিক কুবি জানান, জমি ফিরে পেতে ২০১৭ সালের মার্চ মাসে তিনি নলকুড়া ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম্য আদালতে আবেদন করেন। ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী ফর্সা অভিযুক্ত দুই ব্যক্তিকে জমির বৈধ কাগজপত্র উপস্থাপনের জন্য পরপর চারটি নোটিশ প্রদান করেন। তবে অভিযুক্তরা কোনো নোটিশেই হাজির হননি।
পরবর্তীতে গ্রাম্য আদালতের রায়ে বলা হয়, অভিযুক্ত আব্দুল কাদির ও আব্দুর রহিম জমির পক্ষে কোনো বৈধ দলিল বা কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন। আদালত রায়ে উল্লেখ করে যে, বাদী কল্পনা মানকিনের কাগজপত্র সঠিক এবং তিনিই উক্ত জমির প্রকৃত মালিক। পাশাপাশি গ্রাম্য আদালত অবমাননার দায়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অসিম ম্রং, বারোমারী ইউনিয়ন পরিষদের কাউন্সিলর ইউলিয়াম চিরান, জারুলতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিরন মানকিনসহ স্থানীয় বাসিন্দা মমিজল হক ও বানু বেগম অভিযোগ করে বলেন, আব্দুল কাদির ও আব্দুর রহিম এলাকায় ভূমিদস্যু হিসেবে পরিচিত এবং তারা একাধিক মানুষের জমি জাল দলিলের মাধ্যমে দখল করেছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে পালিক কুবি জানান, অবিলম্বে তাদের জমি উদ্ধার এবং অভিযুক্ত ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুল কাদিরের বাড়িতে গিয়ে তাকে না পাওয়ায় তার ছেলে খলিল মিয়ার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘কল্পনা মানকিনের কোনো জমি আমাদের দখলে নেই। যদি তাদের বৈধ দলিল থাকে, তাহলে আমরা জমি ছেড়ে দেবো।’
অন্যদিকে অভিযুক্ত আব্দুর রহিম মুঠোফোনে দাবি করেন, তিনি কল্পনা মানকিনের কাছ থেকেই সাবকবলা দলিলের মাধ্যমে জমিটি ক্রয় করেছেন।
সানা/আপ্র/৪/২/২০২৬