মোজাম্মেল হক নয়ন, রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় আবাদি জমি বর্গা নিয়ে সেখানে পুকুর খনন ও বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার আলমবিদিতর ইউনিয়নের সয়ড়াবাড়ি গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে গোলাম মোস্তফা হিজলের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেছেন জমির মালিক ড. জাহাঙ্গীর আলম রুস্তম।
সরেজমিনে জানা যায়, নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার মাগুড়া তালপাড়া গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে ড. জাহাঙ্গীর আলম রুস্তমের সয়ড়াগন্ধা ইসমাইল মৌজায় ৩৩ শতক আবাদি জমি রয়েছে। জমিটি তিনি আলমবিদিতর ইউনিয়নের সয়ড়াবাড়ি এলাকার গোলাম মোস্তফা হিজলের কাছে বর্গা দেন। অভিযোগ, বর্গা নেওয়ার পর হিজল ওই আবাদি জমিতে পুকুর খনন করে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন ও বিক্রি করেন। পরে পুকুরটি নিজের দখলে নিয়ে মাছ চাষ শুরু করেন। একই সঙ্গে বছরভিত্তিক যে বর্গার টাকা দেওয়ার কথা ছিল, সেটিও তিনি দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ জমির মালিকের।
ড. জাহাঙ্গীর আলম রুস্তম বলেন, ‘আমি জমির মালিক। আমাকে না জানিয়ে বর্গার নামে ওই আবাদি জমিতে ড্রেজার মেশিন দিয়ে খনন করে বালু উত্তোলন ও বিক্রি করা হয়েছে। সেখানে পুকুর খনন করে মাছ চাষও শুরু করেছেন তিনি। আমি তাকে চাষাবাদ করার জন্য জমি বর্গা দিয়েছি। আমার অনুমতি ছাড়া সেখানে কীভাবে পুকুর খনন করতে পারেন?’
তিনি জানান, এ ঘটনায় গত ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ গঙ্গাচড়া মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। সাধারণ ডায়েরির নম্বর ২৪৫।
অভিযোগের বিষয়ে বর্গা নেওয়া ব্যক্তি গোলাম মোস্তফা হিজল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি ওই জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদ করছেন এবং প্রতিবছর তিন হাজার টাকা করে দেন। জমিটি কিছুটা আগাডোলা ছিল। সেখানে তারও জমি রয়েছে। এ কারণে তিনি পুকুর খনন করেছেন। জমির মালিক চাইলে পুকুর ভরাট করে তাকে জমি বুঝিয়ে দেবেন বলেও জানান তিনি।
সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে কি না, জানতে গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মশিউর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি তথ্য দেওয়ার কথা বলে সংবাদদাতার সঙ্গে কালক্ষেপণ করেন। পরে আবারও তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
সানা/আপ্র/০২/১০/২০২৬