গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

মেনু

ভাইকে কল করে গৃহকর্তা বলেন, সবাইকে মাইরা ফেলছি, আমারে আর পাবি না

কাপাসিয়ায় এক পরিবারে পাঁচ খুন পারিবারিক কলহে

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১:৪৭ পিএম, ০৯ মে ২০২৬ | আপডেট: ২৩:৪১ এএম ২০২৬
কাপাসিয়ায় এক পরিবারে পাঁচ খুন পারিবারিক কলহে
ছবি

রাউৎকোনা গ্রামে বহুতল বাড়িটির সামনে স্বজন ও এলাকাবাসির ভিড় -ছবি সংগৃহীত

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রাউৎকোনা গ্রামে বহুতল একটি বাড়ি থেকে এক নারী, তাঁর তিন সন্তান ও নারীর ভাইসহ পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ওই নারীর স্বামী ফোরকান মিয়া (৪০) পলাতক। গত শনিবার (৯ মে) সকালে ফোরকান নিজে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে স্বজনদের কল করে জানান।
রাউৎকোনা গ্রামের মো. মনির হোসেনের বাড়ির নিচতলায় এ ঘটনা ঘটে। সেখানে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনসহ (পিবিআই) আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট কাজ করছে। অভিযুক্ত ফোরকান মিয়া গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মেরী গোপীনাথপুর গ্রামের মো. আতিয়ার রহমানের ছেলে। নিহত ব্যক্তিরা হলেন ফোরকান মিয়ার স্ত্রী শারমিন আক্তার (৩০), মেয়ে মীম খানম (১৫), উম্মে হাবিবা (৮), ফারিয়া (২) ও শ্যালক গোপালগঞ্জ সদরের পাইককান্দি গ্রামের রসুল মিয়া (২২)।
ফোরকানের পরিবার প্রায় পাঁচ বছর ধরে ওই বাড়িতে ভাড়া থাকত। ফোরকান প্রাইভেট কার চালাতেন। আর তাঁর শ্যালক রসুল গাজীপুর সদরের একটি কারখানায় চাকরি করতেন।
নিহত শারমিন আক্তারের ফুফু জেসমিন আক্তার সংবাদমাধ্যমকে বলেন, তিনি স্বজনদের কাছ থেকে ঘটনার কথা জানতে পারেন। তাঁর ভাষ্য, ভাতিজির স্বামী কল করে নিজেই হত্যার কথা জানিয়েছেন। খবর পেয়ে তাঁরা ঘটনাস্থলে এসে দেখেন, ঘরের বিভিন্ন স্থানে মরদেহগুলো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে।
জেসমিন আক্তার বলেন, রসুল মিয়া অন্য জায়গায় চাকরি করতেন। গত শুক্রবার ফোরকান মিয়া তাঁকে নতুন চাকরি দেওয়ার কথা বলে ডেকে আনেন। এরপর স্ত্রী–সন্তানের সঙ্গে রসুল মিয়াকেও হত্যা করে পালিয়ে যান ফোরকান।

শারমিনের আরেক ফুফু ইভা আক্তার বলেন, ফোরকান তাঁর ভাই মিশকাতকে ফোন দিয়ে বলেন, ‘আমার সব শেষ হয়ে গেছে। সবাইকে মাইরা ফেলছি। আমারে আর তোরা পাবি না।’ খবর পেয়ে তাঁরা পাঁচ থেকে ছয়জন সকালে ঘটনাস্থলে যান। গিয়ে দেখেন, ভবনের কলাপসিবল গেট খোলা। নিচতলার কক্ষগুলোর দরজাও খোলা। ভেতরে গিয়ে তাঁরা মেঝে ও বিছানায় নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে জাতীয় জরুরি সেবা-৯৯৯ নম্বরে ফোন করে বিষয়টি জানানো হয়। একই সঙ্গে তাঁরা কাপাসিয়া থানায় রওনা হন।

আরেক বিয়ে নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মনোমালিন্য: ইভা আক্তারের দাবি, ফোরকান মিয়া আরেকটি বিয়ে করার কথা স্ত্রীকে জানিয়েছিলেন। এ নিয়ে শারমিন খুব মনঃক্ষুণ্ন ছিলেন। তাঁদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মনোমালিন্য চলছিল। ছয় থেকে সাত মাস আগে ফোরকান শারমিনকে মারধর করেছিলেন। এতে তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশ ফুলে যায়। পরে তাঁকে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়। সুস্থ হওয়ার পর তিনি বাবার বাড়িতে থাকছিলেন। কয়েক দিন পর ফোরকান আবার স্ত্রীকে সেখান থেকে নিয়ে আসেন। এরপরও দ্বিতীয় বিয়ের প্রসঙ্গ নিয়ে তাঁদের মধ্যে ঝগড়া–বিবাদ চলছিল। শারমিন স্বামীকে জানিয়েছিলেন, তাঁর সন্তানদের নিয়ে কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই, তাই স্বামীর সঙ্গেই থাকতে চান। এর মধ্যেই পাঁচজনের মরদেহ পাওয়া গেল। ইভা আক্তার বলেন, ‘আমার ভাতিজিসহ বাকি সবাইকে ফোরকান মিয়া হত্যা করেছে বলেই মনে হচ্ছে। আমরা এর কঠোর বিচার চাই।’
ঘরের ভেতর থেকে গোপালগঞ্জ সদর থানায় করা একটি অভিযোগের কপি উদ্ধার করা হয়েছে। কপিটিতে কোনো সই নেই। সেটি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ৩ মে ফোরকান মিয়া একটি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে থানায় অভিযোগ করেন। সেখানে তাঁর স্ত্রী, শ্বশুরসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, শ্বশুর তাঁর স্ত্রীর মাধ্যমে কয়েক দফায় তাঁর কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা নিয়েছেন। এ ছাড়া স্ত্রী তাঁর এক স্বজনের সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়েছেন। এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করায় শ্বশুর ও অন্যরা মিলে তাঁকে হাত–পা বেঁধে নির্যাতন করেন। অভিযোগের বিষয়টি যাচাই করতে শনিবার বেলা একটার দিকে গোপালগঞ্জ সদর থানার দাপ্তরিক মুঠোফোন নম্বরে কল করা হলেও কেউ ধরেননি।

নিহত শারমিন আক্তারের চাচা মো. উজ্জ্বল মিয়া বলেন, ‘আমাদের জানামতে ফোরকান সম্প্রতি তার শ্বশুরবাড়ি যায়নি। তাকে মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমার মনে হয়, সে নিজেকে বাঁচানোর জন্য এমন অভিযোগ লিখেছে।’

গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কালিগঞ্জ সার্কেল) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমরা ধারণা করছি, পারিবারিক কলহের জেরে ফোরকান এ ঘটনা ঘটিয়ে পালিয়ে গিয়ে থাকতে পারেন। ঘরের ভেতরে অনেক আলামত ছড়িয়ে–ছিটিয়ে আছে। আমাদের বিশেষজ্ঞ দল আলামত সংগ্রহ করবে। আমরা জানতে পেরেছি, আজ সকাল ছয়টার দিকে ফোরকান তাঁর গ্রামের বাড়িতে একজনকে কল করে জানিয়েছেন যে তিনি এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে আমরা এখনো নিশ্চিত নই। তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে। আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি।’
সানা/আপ্র/৯/৫/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

আদাবরের ‘পাংখা রুবেল’ গ্রেফতার
০৮ মে ২০২৬

আদাবরের ‘পাংখা রুবেল’ গ্রেফতার

ঢকার আদাবর থানায় তালিকাভুক্ত ‘শীর্ষ ছিনতাইকারী ও একাধিক মামলার আসামি’ রুবেল ওরফে ‘পাংখা রুবেলকে’ গ্র...

দুর্নীতি প্রতিরোধে ডিসিদের সহযোগিতা চায় দুদক
০৬ মে ২০২৬

দুর্নীতি প্রতিরোধে ডিসিদের সহযোগিতা চায় দুদক

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ জেলা পর্যায়ে সর্বত্র দুর্নীতি প্রতিরোধ প্রচারাভিযানের জন্য জেলা প্রশাসকদের সহযোগ...

‘এবার কুরবানির পশুর হাটে চাঁদাবাজি চলবে না’
০৬ মে ২০২৬

‘এবার কুরবানির পশুর হাটে চাঁদাবাজি চলবে না’

আসন্ন কুরবানির পশুর হাটকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি সহ্য করা হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে...

মাদরাসাছাত্রী ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বায় অভিযুক্ত সেই শিক্ষক গ্রেফতার
০৬ মে ২০২৬

মাদরাসাছাত্রী ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বায় অভিযুক্ত সেই শিক্ষক গ্রেফতার

নেত্রকোণার মদনে শিশু ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত মাদরাসাশিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরকে গ্রে...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই