বিগত কয়েক বছরে নারী ফুটবলে বাংলাদেশকে নেপাল থেকে ট্রফি ছাড়া আসতে দেখা যায়নি। কিন্তু শনিবার বিপরীত চিত্র দেখতে হলো পিটার বাটলারের দলকে। সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে শিরোপা জেতা হলো না প্রীতি-আলপিদের।
ফাইনালে শক্তিশালী ভারতের কাছে ৪-০ গোলে হেরে ট্রফি হাতছাড়া করেছে লাল-সবুজরা। নেপালের পোখারায় আজ আরও একটা সাফল্য রচিত হতে পারতো। কিন্তু লিগ পর্বে ভারতকে হারানো সেই পারফরম্যান্স কোথায় যেন মিলিয়ে গেছে।
শনিবার বাংলাদেশের স্বপ্নকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিতে শুরু থেকে গোলের সন্ধানে ছিল ভারত। তবে প্রথম গোল পেতে বেশ সময় লেগেছে। ৭ মিনিটে গোলের ভালো সুযোগ তৈরি করে ভারত। ডানপ্রান্ত দিয়ে আক্রমণে উঠে বক্সে ক্রস দেন পার্ল ফার্নান্দেজ। কিন্তু গোলমুখের সামনে থেকে ফিনিশিং টাচ দিতে পারেননি আলভা দেবী সেনজাম।
বল পজেশন ধরে খেলার পাশাপাশি আক্রমণের ধারা বজায় রাখে তারা। তবে গোলের জন্য কার্যকর কোনও সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। খেলায় বাংলাদেশ ছিল এলোমেলো। অবশেষে ৪২ মিনিটে জুলান নংমাইথেমের গোলে ভাঙে ডেডলক। এগিয়ে যায় ভারত। আলভা দেবীর ক্রসে বল পান প্রীতিকা বর্মণ। বাংলাদেশের দুই ডিফেন্ডার অর্পিতা এবং জয়নব বিবি রিতাকে বোকা বানিয়ে প্রীতিকা বল ঠেলে দেন গোলমুখের সামনে থাকা জুলানের সামনে।
এরপর ডান পায়ের নিচু শটে সহজেই জাল কাঁপান ভারতীয় অধিনায়ক। গোল হজমের পরে বাংলাদেশের ডাগআউটে অসন্তুষ্ট দেখা যায় কোচ পিটার বাটলারকে। এসময় মামনি চাকমার বদলি শান্তি মার্ডি এবং জয়নব বিবি রিতাকে তুলে প্রতিমা মুন্ডাকে মাঠে নামান বাংলাদেশের ব্রিটিশ কোচ। তাতেও সফলতা আসেনি।
বিরতির পর ভারত আবারও লিড নেয়। ৬১ মিনিটে গোলকিপারের ভুলে পেনাল্টি হজম করে বসে বাংলাদেশ। লং বল ক্লিয়ার করতে পোস্ট ছেড়ে সামনে এগিয়ে আসেন ইয়ারজান। চাইলে আর দুই পা এগিয়ে বল তালুবন্দি করতে পারতেন। কিন্তু তিনি বল কাছে আসার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে গেলেন। তার আগেই দৌড়ে এসে বলে শট নেন ভারতের আলভা দেবী। এরপর বলের পেছনে দৌড়াতে থাকা ভারতীয় ফরোয়ার্ডকে পেছন থেকে হালকা ধাক্কা দেন ইয়ারজান। তাতে পেনাল্টির বাঁশি বেজে ওঠে। সফল স্পট কিকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এলিজাবেথ লাকড়া।
জোড়া গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ৬৮ মিনিটে আবারও ইয়ারজানের ভুলে লিড ৩-০ করে ভারত। প্রতিমার ব্যাক পাসে ইয়ারজান শট নিতে গেলে সামনে দৌড়ে আসেন পার্ল ফার্নান্দেজ। বাংলাদেশ গোলকিপার শট নেন প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের শরীর বরাবর।
এরপর বল পেয়ে ফাঁকায় আলতো টোকায় গোল করেন ভারতীয় স্ট্রাইকার। ৮৩ মিনিটে সতীর্থের কাটব্যাকে আলভা দেবী প্লেসিং শটে বড় জয় নিশ্চিত করেন।
বয়সভিত্তিক এই প্রতিযোগিতা এখন পর্যন্ত অনূর্ধ্ব-১৮, ১৯ ও ২০ ক্যাটাগরি মিলিয়ে ছয়বার মাঠে গড়িয়েছে। বাংলাদেশ চারবার এবং ভারত একবার এককভাবে হয়েছে চ্যাম্পিয়ন। অনূর্ধ্ব-১৯ ক্যাটাগরিতে এর আগের দুই আসরে দুইবারই ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল এই দুই দল। ২০২১ সালে ভারতকে ১-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ।
২০২৪ সালের আসরে ঢাকায় অবশ্য যৌথভাবে সেরা হয় দুই দল। এবার ভারত শিরোপা জিতে নিলো।
ডিসি/আপ্র/০৭/০২/২০২৬