বিকেলের রোদ নরম হতেই পাড়া-মহল্লার সরু গলিগুলো যেন এক উৎসবের সাজে সাজে। মোড়ে মোড়ে গড়ে ওঠা অস্থায়ী স্টলগুলোতে কড়াইভর্তি গরম তেলে সোনালী বেগুনি আর মুচমুচে পেঁয়াজু ভাজার ব্যস্ততা। একটু পাশেই চিনির শিরায় পাক খেতে খেতে লালচে জিলাপি ছড়িয়ে দিচ্ছে মিষ্টি আভা। গরম তেলের ছ্যাঁকা আর শিরার ঘ্রাণ মিলেমিশে তৈরি হয়েছে এক অনন্য আবহ, যার টানে শিশু থেকে বৃদ্ধ-সব বয়সী মানুষ ভিড় করছেন ইফতার বাজারে।
অনেক জায়গায় আবার বড় হাঁড়িতে ধীরে ধীরে ঘন হচ্ছে শাহী হালিম। বড় কাঠের চামচে হালিম নাড়তে নাড়তে বিক্রেতারা হাক ছাড়ছেন, নিয়ে যান শাহী হালিম! সাত পদের ডাল আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা জ্বাল দেওয়া; স্বাদে হবে জমজমাট।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিনে রাজধানীর মিরপুরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিকেল সাড়ে ৪টা থেকেই বাজারে ক্রেতাদের উপস্থিতি বাড়তে শুরু করে। অস্থায়ী স্টলগুলোতে বেগুনি, পেঁয়াজু, আলুর চপ, ডিমচপ, ছোলা, মুড়ি ও খেজুর সাজিয়ে রাখা হয়েছে। জিলাপি বিক্রি হচ্ছে একদম গরম গরম। ক্রেতারা পছন্দ অনুযায়ী কেজি বা হালি-উভয়ভাবেই তা কিনছেন।
বাজারে খাবারের দাম ও আকারে রয়েছে ভিন্নতা। প্রতি পিস বেগুনি ও পেঁয়াজু আকারভেদে ৫ থেকে ১০ টাকা, ডিমচপ ও আলুর চপ ১০ থেকে ১৫ টাকা এবং ডালপুরি ১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। জিলাপি প্রতি কেজি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা। অন্যদিকে, হালিমের বাটি ছোট ৮০-১০০ টাকা, মাঝারি ১২০-২০০ টাকা এবং বড় বাটি ৩০০-৫০০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
ইফতার বাজারে শরবতের স্টলগুলোও সমান জমজমাট। লেবু-পুদিনা, রুহ আফজা, বেল, তোকমা কিংবা মাল্টার শরবত মিলছে গ্লাস বা বোতলজাত হিসেবে। প্রতি গ্লাস শরবত ২০ থেকে ৩০ টাকা এবং বোতলজাত শরবত ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
ইফতার কিনতে আসা এনামুল হাসান বলেন, বাসায় এসব তৈরি করতে অনেক উপকরণের প্রয়োজন হয়। তাছাড়া বিকেলে অনেক সময় গ্যাস থাকে না। তাই বাইরে থেকেই গরম পেঁয়াজু আর হালিম নিয়ে নিচ্ছি। রোজা রেখে পরিবারের সবাই একটু মুখরোচক খাবার পছন্দ করে। রবিউল হুসাইন নামের আরেক ক্রেতা বলেন, সবকিছু বাসায় বানানো সম্ভব হয় না, বিশেষ করে রেশমি জিলাপি। তাই সময় বাঁচাতে আর স্বাদের কথা ভেবে এখান থেকেই বেগুনি, জিলাপি ও ছোলা কিনে নিচ্ছি।
এদিকে, রমজান উপলক্ষ্যে মাত্র কয়েক ঘণ্টার এই বেচাকেনাই অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর সারা মাসের বাড়তি আয়ের প্রধান উৎস। অনেক স্থানীয় তরুণের জন্যও এতে সাময়িক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিক্রেতারা বলছেন, নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় আগের তুলনায় খরচ বেশি, তবে ক্রেতাদের কথা ভেবে দাম সহনীয় রাখার চেষ্টা করছেন তারা। অস্থায়ী দোকানদার রফিকুল ইসলাম বলেন, সকাল থেকে প্রস্তুতি নেই, বিকেলের এই দুই-তিন ঘণ্টাই মূল বেচাকেনা। নিত্যপণ্যের দাম বেশি হওয়ায় খরচ বেড়েছে, তবে ক্রেতাদের কথা ভেবে দাম সহনীয় রাখার চেষ্টা করছি।
সানা/আপ্র/২০/২/২০২৬