জাপানে আবাসন ব্যয় ও বাড়িভাড়া দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় ভুতুড়ে বা দুর্ঘটনাগ্রস্ত বাড়ি, যেগুলো স্থানীয়ভাবে ‘জিকো বুক্কেন’ নামে পরিচিত, কেনার প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। যেসব বাড়িতে একসময় মানুষ বসবাস করতেও ভয় পেতেন, কম দামে থাকার সুযোগ ও লাভজনক বিনিয়োগের আশায় এখন সেসব সম্পত্তির দিকেই ঝুঁকছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও আবাসন বিনিয়োগকারীরা।
জাপানি সংস্কৃতিতে যেসব বাড়িতে হত্যাকাণ্ড, আত্মহত্যা কিংবা একাকী মৃত্যুর মতো অঘটন ঘটেছে, সেগুলোকে ‘জিকো বুক্কেন’ বা দুর্ঘটনাগ্রস্ত সম্পত্তি বলা হয়। সাধারণত এসব বাড়ি বাজারমূল্যের তুলনায় ১০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কম দামে বিক্রি হয়।
সম্প্রতি বাজার বিশ্লেষণের তথ্য অনুযায়ী, মধ্য টোকিওসহ দেশটির প্রধান শহরগুলোতে একক কক্ষের অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়া টানা ২২ মাস ধরে রেকর্ড হারে বেড়েছে। ফলে বাড়তি আবাসন ব্যয়ের চাপ সামলাতে অনেক তরুণ ও সাধারণ পরিবার তুলনামূলক কম দামের এসব বাড়িকে বাস্তবসম্মত বিকল্প হিসেবে দেখছেন।
শুধু বসবাস নয়, বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও জিকো বুক্কেনের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। জাপানের প্রচলিত আইনি বিধান অনুযায়ী, কোনো বাড়িতে অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনা ঘটার তিন বছর পর মালিক বা বিক্রেতার নতুন ক্রেতাকে বিষয়টি জানানোর বাধ্যবাধকতা থাকে না।
এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে কিছু বিনিয়োগকারী কম দামে এসব সম্পত্তি কিনে কয়েক বছর পর বাজারদর বাড়লে তা বিক্রি করে মুনাফা করছেন।
চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জাপানে জিকো বুক্কেনের কেনাবেচা ও তথ্য সরবরাহের জন্য অনলাইন প্ল্যাটফর্মও গড়ে উঠেছে। কিছু প্রতিষ্ঠান আবার এসব বাড়িতে কথিত অলৌকিক প্রভাব রয়েছে কি না, তা থার্মাল ক্যামেরাসহ বিভিন্ন প্রযুক্তির মাধ্যমে পরীক্ষা করে ‘ভূত মুক্ত’ থাকার সনদ দেওয়ার দাবিও করছে।
ভুতুড়ে বাড়ি হিসেবে পরিচিতি থাকলেও তুলনামূলক কম দামে বসবাসের সুযোগ এবং ভবিষ্যতে লাভজনকভাবে বিক্রির সম্ভাবনাই জাপানে এসব সম্পত্তির প্রতি আগ্রহ বাড়ার প্রধান কারণ হয়ে উঠেছে।
এসি/আপ্র/০৯/০৮/২০২৬