গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেনু

ব্রহ্মপুত্রে চীনের মেগা বাঁধে ভারতের উদ্বেগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯:৪৯ পিএম, ১৮ জুন ২০২৬ | আপডেট: ০৩:৪০ এএম ২০২৬
ব্রহ্মপুত্রে চীনের মেগা বাঁধে ভারতের উদ্বেগ
ছবি

ছবি সংগৃহীত

তিব্বতে ব্রহ্মপুত্র নদের উজানে বিশ্বের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করেছে চীন। ভারতের সীমান্ত থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে গড়ে ওঠা এই প্রকল্পকে কেন্দ্র করে নয়াদিল্লির উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য ও স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ দ্রুতগতিতে এগিয়েছে। সীমান্ত অতিক্রমকারী নদীগুলোর ওপর চীনের বৃহৎ বাঁধ নির্মাণ পরিকল্পনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে ভারত।

তিব্বতে উৎপন্ন ইয়ারলুং সাংপো নদী ভারতের অরুণাচল প্রদেশে প্রবেশের পর সিয়াং নামে পরিচিত হয়। পরে আসামে প্রবাহিত হয়ে এটি ব্রহ্মপুত্র নদে পরিণত হয়। ভারতের কোটি কোটি মানুষের জীবন, কৃষি ও জীবিকা এই নদীর ওপর নির্ভরশীল।

বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রকল্পটির অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ভারত সরকার। তিব্বতে চীনের চলমান জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর মধ্যে এটিকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নদীর ওপর এত বড় বাঁধ নির্মাণের ফলে পানির স্বাভাবিক প্রবাহে পরিবর্তন আসতে পারে। পাশাপাশি পলি পরিবহন ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়া, পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হওয়া এবং নিম্নাঞ্চলে বন্যার ধরনে পরিবর্তনের মতো ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

তবে উদ্বেগের বিষয় শুধু পরিবেশ নয়, এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে কৌশলগত দিকও। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, উজানে বৃহৎ বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে ভবিষ্যতে কোনো বিরোধ বা উত্তেজনা সৃষ্টি হলে চীন পানিপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণের অতিরিক্ত সক্ষমতা অর্জন করতে পারে।

যদিও বেইজিং দাবি করছে, প্রকল্পটির একমাত্র উদ্দেশ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং এতে নিম্নপ্রবাহের দেশগুলোর কোনো ক্ষতি হবে না। তবে ভারত এ বিষয়ে কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে আগ্রহী নয়।

গত বছর ভারতের পার্লামেন্টে এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে দেশটির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, চীনের এই মেগা বাঁধ প্রকল্পের বিষয়টি সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে।

তিনি বলেন, প্রকল্পটি সম্পর্কে প্রথম তথ্য প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৮৬ সালে। এরপর থেকেই চীনে এ সংক্রান্ত প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম চলছিল।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, ব্রহ্মপুত্র নদসংক্রান্ত সব ধরনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, বিশেষ করে চীনের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর ওপর নিয়মিত নজর রাখছে ভারত। একই সঙ্গে নিম্নপ্রবাহে বসবাসকারী ভারতীয় জনগণের জীবন ও জীবিকা সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ও সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ভারত বারবার চীনের কাছে নিজেদের উদ্বেগের কথা তুলে ধরেছে এবং উজানে নেওয়া কোনো পদক্ষেপ যেন নিম্নপ্রবাহের দেশগুলোর স্বার্থ ক্ষুণ্ন না করে, সে বিষয়ে জোর দিয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০০৬ সালে গঠিত দুই দেশের বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের ব্যবস্থার আওতায় সীমান্ত অতিক্রমকারী নদীগুলো নিয়ে নিয়মিত আলোচনা ও তথ্য বিনিময় হয়ে আসছে।

ডিসি/আপ্র/১৮/৬/২০২৬

সংশ্লিষ্ট খবর

মিশিগানে বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত
১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মিশিগানে বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত

যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্য মিশিগানের ট্রাভার্সি শহরে মার্কিন বিমানবাহিনীর এয়ার ন্যাশনাল গ...

সংঘবদ্ধ ধর্ষণ শেষে হত্যার পর কুকুরের খাবার হলো কিশোরী
১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সংঘবদ্ধ ধর্ষণ শেষে হত্যার পর কুকুরের খাবার হলো কিশোরী

ভারতের দিল্লিতে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে চারজনের বি...

ইরানের প্রেসিডেন্ট-পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ জ্যেষ্ঠ কয়েক কর্মকর্তা পেলেন যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা
১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইরানের প্রেসিডেন্ট-পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ জ্যেষ্ঠ কয়েক কর্মকর্তা পেলেন যুক্তরাষ্ট্রে...

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি এবং কয়েকজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর...

সুইডেনের নির্বাচনে মধ্য-বাম জোটের জয়
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সুইডেনের নির্বাচনে মধ্য-বাম জোটের জয়

সুইডেনের জাতীয় নির্বাচনে মধ্য-বাম বিরোধীদলীয় জোট জয় পেয়েছে। ক্ষমতাসীন ডানপন্থি জোটকে হারিয়ে ৩৪৯ আসনে...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

জুয়া ও মাদক অনেক অপরাধের মূল কারণ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বর্তমানে সংঘটিত অনেক অপরাধের পেছনে জুয়া ও মাদককে অন্যতম মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, অপরাধের পর শুধু গ্রেফতার, বিচার ও শাস্তি দিলেই এটা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। অপরাধ কেন সংঘটিত হচ্ছে, তার মূল কারণ খুঁজে বের করে তা মোকাবিলা করতে হবে। প্রিয় পাঠক, মন্ত্রীর কথার সঙ্গে আপনি কি একমত?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 2 দিন আগে