গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

চট্টগ্রাম বন্দরে অচলাবস্থার ঘনঘটা কার স্বার্থে, কার ক্ষতিতে?

সুখদেব কুমার সানা

সুখদেব কুমার সানা

প্রকাশিত: ১৬:৪৬ পিএম, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ০১:৫৯ এএম ২০২৬
চট্টগ্রাম বন্দরে অচলাবস্থার ঘনঘটা কার স্বার্থে, কার ক্ষতিতে?
ছবি

ছবি সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে যা ঘটছে, তা আর কোনোভাবেই ‘স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া’ হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায় না। এটি এখন একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিগত সংকট-যার কেন্দ্রে রয়েছে জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে জবাবদিহির প্রশ্ন। দেশের প্রধান বাণিজ্যদ্বারে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট কেবল শ্রমিক অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ নয়; এটি নীতিনির্ধারকদের ব্যর্থতার বিরুদ্ধে প্রকাশ্য সতর্কসংকেত। নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপিওয়ার্ল্ডকে লিজ দেওয়ার উদ্যোগ ঘিরে যে অস্বচ্ছতা ও তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তা গভীর উদ্বেগজনক। জাতীয় অর্থনীতির কৌশলগত অবকাঠামো ব্যবস্থাপনায় এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সংসদীয় আলোচনা, জনপরামর্শ কিংবা স্বতন্ত্র লাভ-ক্ষতি বিশ্লেষণ ছাড়াই এগোনোর চেষ্টা রাষ্ট্রীয় দায়িত্বজ্ঞানহীনতার শামিল। উন্নয়নের নামে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকে বিদেশি নিয়ন্ত্রণে দেওয়ার আগে সরকার কী ধরনের নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়েছে-তার কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা এখনো জাতির সামনে নেই।

আরো আশঙ্কার বিষয় হলো, শ্রমিকদের যৌক্তিক উদ্বেগ ও দাবিকে আলোচনার টেবিলে না এনে প্রশাসনিক দমননীতির আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগ। বদলি, চার্জশিট, মামলা ও ভয়ভীতি দেখিয়ে একটি সংকটকে ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টা শেষ পর্যন্ত সংকটকেই বিস্ফোরক করে তোলে-চট্টগ্রাম বন্দরের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি তারই প্রমাণ। নীতিনির্ধারকদের মনে রাখতে হবে, শ্রমিকরা এই বন্দরের প্রতিপক্ষ নয়; তারাই বন্দরের কার্যক্ষমতার মূল শক্তি। তারাই বন্দরের প্রাণ। একই সঙ্গে এটিও সত্য, অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট দেশের অর্থনীতিকে ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। আমদানি-রফতানি ব্যাহত হলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে শিল্প, ব্যবসা ও বৈদেশিক মুদ্রা আয়। কিন্তু এই ক্ষতির দায় শ্রমিকদের ঘাড়ে চাপিয়ে দায়মুক্তির সুযোগ নেই। সংকটের মূল যেখানে নীতিগত একগুঁয়েমি ও সংলাপহীনতা, দায়ও সেখানেই নির্ধারিত হওয়া উচিত।

এই মুহূর্তে নীতিনির্ধারকদের প্রতি স্পষ্ট বার্তা-চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে গোপন সিদ্ধান্ত ও প্রশাসনিক শক্তি প্রদর্শনের পথ পরিহার করতে হবে। অবিলম্বে এনসিটি লিজ প্রক্রিয়া স্থগিত করে তা জনসমক্ষে আনা, স্বাধীন বিশেষজ্ঞ দিয়ে পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন এবং শ্রমিক প্রতিনিধিসহ সব অংশীজনকে নিয়ে বিশ্বাসযোগ্য সংলাপ শুরু করা জরুরি। সব পক্ষের গভীরভাবে উপলব্ধি করতে হবে- চট্টগ্রাম বন্দর অচল হলে সরকার নয়, দেশ অচল হয়। সেই দায় ইতিহাস ক্ষমা করবে না। এখনো সময় আছে-সংঘাত নয়, দায়িত্বশীল সিদ্ধান্তই পারে এই সংকট থেকে দেশকে রক্ষা করতে।

সানা/এসি/আপ্র/০৯/০২/২০২৬

সংশ্লিষ্ট খবর

নির্ধারিত দামে এলপিজি নিশ্চিত করুন, ভোক্তাকে জিম্মি করা বন্ধ হোক
১৪ অক্টোবর ২০২৬

নির্ধারিত দামে এলপিজি নিশ্চিত করুন, ভোক্তাকে জিম্মি করা বন্ধ হোক

জ্বালানি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য উপকরণ। অথচ সরকার নির্ধারিত দামেও যদি রান্নার গ্যাস না মেল...

প্রবাসীর প্রাণ, আঞ্চলিক শান্তি ও মানবিক নিরাপত্তার কঠিন পরীক্ষা
১৩ অক্টোবর ২০২৬

প্রবাসীর প্রাণ, আঞ্চলিক শান্তি ও মানবিক নিরাপত্তার কঠিন পরীক্ষা

প্রবাসে উপার্জিত অর্থ বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করে, অসংখ্য পরিবারকে বাঁচিয়ে রাখে। অথচ সেই উপার্জ...

রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতিতে কালি, অসহিষ্ণুতার অশনিসংকেত
১২ অক্টোবর ২০২৬

রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতিতে কালি, অসহিষ্ণুতার অশনিসংকেত

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সামনের দেয়ালে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতি...

বন্দরের নিয়ন্ত্রণে জাতীয় স্বার্থ, চুক্তিতে চাই পূর্ণ স্বচ্ছতা
১০ অক্টোবর ২০২৬

বন্দরের নিয়ন্ত্রণে জাতীয় স্বার্থ, চুক্তিতে চাই পূর্ণ স্বচ্ছতা

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনায় সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

পরিচয় যা-ই হোক, চাঁদাবাজ-দখলদারদের ছাড় নয়: ডিএমপি কমিশনার

চাঁদাবাজ, ভূমি দখলবাজ ও মাদক কারবারে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় বা অবস্থান বিবেচনা না করে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দীন আহমদ। এসব অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে কোনো ধরনের শিথিলতা দেখানো যাবে না বলেও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে ডিএমপি সদর দপ্তরের সম্মেলনকক্ষে সেপ্টেম্বর মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় উপস্থিত ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে এসব নির্দেশনা দেন কমিশনার। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন- কমিশনার যে নির্দেশনা দিয়েছেন, পুলিশ সদস্যরা তা বাস্তবে তা করতে পারবেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 1 দিন আগে