গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬

মেনু

চট্টগ্রাম বন্দরে অচলাবস্থার ঘনঘটা কার স্বার্থে, কার ক্ষতিতে?

সুখদেব কুমার সানা

সুখদেব কুমার সানা

প্রকাশিত: ১৬:৪৬ পিএম, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ১৮:৩৪ এএম ২০২৬
চট্টগ্রাম বন্দরে অচলাবস্থার ঘনঘটা কার স্বার্থে, কার ক্ষতিতে?
ছবি

ছবি সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে যা ঘটছে, তা আর কোনোভাবেই ‘স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া’ হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায় না। এটি এখন একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিগত সংকট-যার কেন্দ্রে রয়েছে জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে জবাবদিহির প্রশ্ন। দেশের প্রধান বাণিজ্যদ্বারে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট কেবল শ্রমিক অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ নয়; এটি নীতিনির্ধারকদের ব্যর্থতার বিরুদ্ধে প্রকাশ্য সতর্কসংকেত। নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপিওয়ার্ল্ডকে লিজ দেওয়ার উদ্যোগ ঘিরে যে অস্বচ্ছতা ও তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তা গভীর উদ্বেগজনক। জাতীয় অর্থনীতির কৌশলগত অবকাঠামো ব্যবস্থাপনায় এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সংসদীয় আলোচনা, জনপরামর্শ কিংবা স্বতন্ত্র লাভ-ক্ষতি বিশ্লেষণ ছাড়াই এগোনোর চেষ্টা রাষ্ট্রীয় দায়িত্বজ্ঞানহীনতার শামিল। উন্নয়নের নামে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকে বিদেশি নিয়ন্ত্রণে দেওয়ার আগে সরকার কী ধরনের নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়েছে-তার কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা এখনো জাতির সামনে নেই।

আরো আশঙ্কার বিষয় হলো, শ্রমিকদের যৌক্তিক উদ্বেগ ও দাবিকে আলোচনার টেবিলে না এনে প্রশাসনিক দমননীতির আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগ। বদলি, চার্জশিট, মামলা ও ভয়ভীতি দেখিয়ে একটি সংকটকে ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টা শেষ পর্যন্ত সংকটকেই বিস্ফোরক করে তোলে-চট্টগ্রাম বন্দরের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি তারই প্রমাণ। নীতিনির্ধারকদের মনে রাখতে হবে, শ্রমিকরা এই বন্দরের প্রতিপক্ষ নয়; তারাই বন্দরের কার্যক্ষমতার মূল শক্তি। তারাই বন্দরের প্রাণ। একই সঙ্গে এটিও সত্য, অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট দেশের অর্থনীতিকে ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। আমদানি-রফতানি ব্যাহত হলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে শিল্প, ব্যবসা ও বৈদেশিক মুদ্রা আয়। কিন্তু এই ক্ষতির দায় শ্রমিকদের ঘাড়ে চাপিয়ে দায়মুক্তির সুযোগ নেই। সংকটের মূল যেখানে নীতিগত একগুঁয়েমি ও সংলাপহীনতা, দায়ও সেখানেই নির্ধারিত হওয়া উচিত।

এই মুহূর্তে নীতিনির্ধারকদের প্রতি স্পষ্ট বার্তা-চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে গোপন সিদ্ধান্ত ও প্রশাসনিক শক্তি প্রদর্শনের পথ পরিহার করতে হবে। অবিলম্বে এনসিটি লিজ প্রক্রিয়া স্থগিত করে তা জনসমক্ষে আনা, স্বাধীন বিশেষজ্ঞ দিয়ে পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন এবং শ্রমিক প্রতিনিধিসহ সব অংশীজনকে নিয়ে বিশ্বাসযোগ্য সংলাপ শুরু করা জরুরি। সব পক্ষের গভীরভাবে উপলব্ধি করতে হবে- চট্টগ্রাম বন্দর অচল হলে সরকার নয়, দেশ অচল হয়। সেই দায় ইতিহাস ক্ষমা করবে না। এখনো সময় আছে-সংঘাত নয়, দায়িত্বশীল সিদ্ধান্তই পারে এই সংকট থেকে দেশকে রক্ষা করতে।

সানা/এসি/আপ্র/০৯/০২/২০২৬

সংশ্লিষ্ট খবর

হিমালয়ের প্রলয় থেকে বাংলাদেশকে কঠিন সতর্কবার্তা
২৯ আগস্ট ২০২৬

হিমালয়ের প্রলয় থেকে বাংলাদেশকে কঠিন সতর্কবার্তা

হিমালয়ের বুক চিরে নেমে আসা এক প্রলয়ংকরী জলধারা আবারো প্রমাণ করল, পাহাড়ের বিপর্যয় কখনো শুধু পাহাড়ে সী...

নেপালের দুর্যোগে বৈশ্বিক তহবিল ও প্রযুক্তিগত সহায়তা জরুরি
২৭ আগস্ট ২০২৬

নেপালের দুর্যোগে বৈশ্বিক তহবিল ও প্রযুক্তিগত সহায়তা জরুরি

নেপালে আঘাত হানা ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা, ধস ও ভূমিধসে প্রাণহানির সংখ্যা প্রায় তিনশ ছুঁয়েছে এবং দেড় শতাধ...

অর্থনীতি ও সুশাসনে এখনই চাই দৃশ্যমান সংস্কার
২৭ আগস্ট ২০২৬

অর্থনীতি ও সুশাসনে এখনই চাই দৃশ্যমান সংস্কার

সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ছয় মাস পূর্ণ হয়েছে। এই ছয় মাসে জনগণের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা ছিল-ভঙ্গুর অর্থনীত...

চার প্রাণের মর্মান্তিক পরিণতি, প্রশ্নের মুখে নিরাপত্তার ভিত
২৬ আগস্ট ২০২৬

চার প্রাণের মর্মান্তিক পরিণতি, প্রশ্নের মুখে নিরাপত্তার ভিত

রংপুরের মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা, মেয়ে আগামী ও কিশোর ছে...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঠেকাতে রোডম্যাপ চান আইনমন্ত্রী

ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান রোধ এবং ভবিষ্যতে কেউ যাতে ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠতে না পারে, সে লক্ষ্যে একটি রোডম্যাপ তৈরিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। বুধবার (২৬ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মন্ত্রীর চাওয়ার সাথে একমত?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 3 দিন আগে