গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

খুলনায় বিরল প্রজাতির প্রাণীর সন্ধান

জেলা প্রতিনিধি, খুলনা

জেলা প্রতিনিধি, খুলনা

প্রকাশিত: ১৪:০৫ পিএম, ০৪ জুন ২০২৬ | আপডেট: ০৯:৩৮ এএম ২০২৬
খুলনায় বিরল প্রজাতির প্রাণীর সন্ধান
ছবি

খুলনায় বিরল প্রজাতির প্রাণীর সন্ধান

খুলনা নগরীতে বিরল প্রজাতির একটি প্রাণীর সন্ধান মিলেছে। এটি দেখতে অনকটা কাঠবিড়ালির মত হলেও কাঠবিড়ালি নয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। 

মঙ্গলবার (২ জুন) নগরীর দক্ষিণ টুটপাড়া ২নং ক্রস রোডস্থ একটি বাড়ির নারকেল গাছ থেকে প্রাণীটি নিচে পড়ে যায়।

ফটো সাংবাদিক এমএম মিন্টুর স্ত্রী লাভলি বেগম প্রাণীটিকে উদ্ধার করে তার বাসায় হেফাজতে রেখেছেন। তিনি ওই বাসাতেই ভাড়া থাকেন। সেখানেই আদর-যত্নে রয়েছে এবং প্রাণীটি পানি পান করছে। আম-কাঁঠাল-কলাসহ নানা ফলমূল খাচ্ছে। ভাতও খাচ্ছে।

প্রাণীটি হস্তান্তরের জন্য খুলনার বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগকে এরইমধ্যে অবহিত করা হয়েছে।

শুরুতে কাঠবিড়ালি মনে হলেও পরে জানা গেছে এগুলো হচ্ছে, দুর্লভ প্রজাতির সুগার গ্লাইডার (পেটাউরাস ব্রেভিসেপস), ইন্ডিয়ান পাম্প সিভেট ও গন্ধগোকুল (এশিয়ান প্লাম সিভেট)।

সাংবাদিক এম এম মিন্টু বাংলাদেশ জানান, তার বাসার একটি নারকেল গাছ থেকে প্রাণীটি নিচে পড়ে যায়। এ সময় একটি বিড়াল প্রাণীটির ওপর আক্রমণ করার চেষ্টা করে। বিষয়টি দেখতে পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তার স্ত্রী লাভলি বেগম এটিকে উদ্ধার করে ঘরে নিয়ে আসেন। তারপর খেতে দেন এবং আদর-যত্ন করেন।

তিনি জানান, প্রাণিটিকে আম, কাঁঠাল খেতে দেওয়া হচ্ছে। এটি পুনর্বাসনের জন্য বন বিভাগে খবর দেওয়া হয়েছে। এটি দেখতে অনেকেই তার বাসায় ভিড় করছেন।

প্রাণীবিদদের মতে, সুগার গ্লাইডার (পেটাউরাস ব্রেভিসেপস) একটি ছোট, নিশাচর মাসুপিয়াল। যা অস্ট্রেলিয়া, নিউ গিনি এবং ইন্দোনেশিয়ায় পাওয়া যায়। এরা প্যাটাগিয়াম নামক একটি ঝিল্লি ব্যবহার করে গাছ থেকে গাছে উড়ে বেড়ানোর ক্ষমতার জন্য পরিচিত। যা তাদের সামনের পা থেকে পেছনের পা পর্যন্ত বিস্তৃত। যদিও বন্য পরিবেশে গাছের রস এবং মধুর প্রতি তাদের বিশেষ আকর্ষণ রয়েছে, তবে বন্দি অবস্থায় তাদের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর, সুষম খাদ্য তালিকা বজায় রাখা কঠিন। তাদের পুষ্টিজনিত রোগও সাধারণ।

সুগার গ্লাইডারের সামনের ও পেছনের পায়ের মাঝখানে একটি পাতলা চামড়ার পর্দা (প্যাটাজিয়াম) থাকে। এর সাহায্যে এরা এক গাছ থেকে অন্য গাছে প্রায় ১৫০ ফুট (৫০ মিটার) পর্যন্ত বাতাসে ভেসে বা গ্লাইড করে যেতে পারে। লেজসহ এদের দৈর্ঘ্য প্রায় ১০ থেকে ১২ ইঞ্চি হয় এবং ওজন মাত্র ৯৫ থেকে ১৬০ গ্রামের মতো হয়ে থাকে। এদের কপালে ও পিঠে একটি গাঢ় ডোরাকাটা দাগ থাকে। দিনের বেলা এরা ঘুমিয়ে কাটায় এবং রাতের আঁধারে খাবার ও শিকারের সন্ধানে সক্রিয় হয়ে ওঠে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্লাইডাররা অত্যন্ত সামাজিক প্রাণী। বন্য পরিবেশে এরা ৫ থেকে ১২টি গ্লাইডারের দলে (কলোনিতে) বাস করে। একা রাখলে এরা চরম বিষণ্নতায় ভুগতে পারে। প্রকৃতিতে এরা মূলত গাছের রস, মিষ্টি ফুলের মধু, পরাগ এবং ছোট পোকামাকড় খেয়ে জীবনধারণ করে।

এরা সাধারণত ১২ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে। বাসায় পোষার জন্য এদের বড় খাঁচা, লুকানোর জায়গা, সঠিক ডায়েট এবং সবসময় সঙ্গ দেওয়ার জন্য অন্তত এক জোড়া সুগার গ্লাইডার প্রয়োজন হয়।

গন্ধগোকুল (এশিয়ান প্লাম সিভেট) বা সুগার গ্লাইডার হলো দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার স্তন্যপায়ী বন্যপ্রাণী। এটি বিড়ালের মতো দেখতে হলেও মূলত বিড়াল প্রজাতির নয়। এর শরীর থেকে পোলাও চালের মতো এক ধরনের মিষ্টি সুগন্ধ বের হওয়ার কারণে এটি বিশেষভাবে পরিচিত। এদের শরীর সাধারণত ৪৮-৫৯ সেন্টিমিটার এবং লেজ ৪৪-৫৩ সেন্টিমিটার লম্বা হয়। ওজন ২ থেকে ৫ কেজি পর্যন্ত হতে পারে।

বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এটি গাছখাটাশ, তালখাটাশ, ভোন্দর, নোঙর, সাইরেল, ল্যঞ্জা বা পোলাও প্রাণী নামে পরিচিত। তবে এটি গন্ধগোকুলও হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গন্ধগোকুলের লেজের গোড়ায় একটি বিশেষ গ্রন্থি থাকে। চলাচলের সময় এই গ্রন্থি থেকে এক ধরনের রস নিঃসৃত হয়, যা থেকে কস্তুরী বা পোলাও চালের মতো তীব্র সুগন্ধ ছড়ায়। এই গন্ধের মাধ্যমে এরা মূলত নিজেদের এলাকা বা সীমানা চিহ্নিত করে।

খুলনার বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নির্মল কুমার পাল বাসসকে বলেন, এ প্রাণীটি গন্ধগোকুলও হতে পারে। তবে, উদ্ধার করে দেখার পর বোঝা যাবে। প্রাণীটি এ অঞ্চলে বিলুপ্ত প্রায় বলেও জানান তিনি।

এসি/আপ্র/০৪/০৬/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

‘বুকের ভেতর আগলে রেখেছিলাম’, মেয়ের লাশ দেখে মায়ের আহাজারি
১০ অক্টোবর ২০২৬

‘বুকের ভেতর আগলে রেখেছিলাম’, মেয়ের লাশ দেখে মায়ের আহাজারি

‘আমি গরিব হলে কী হবে, তোকে তো সোনা দিয়ে মুড়িয়ে রেখেছি। কোনো দিন ফুলের টোকাও লাগতে দিইনি। বুকের ভেতর...

ধানক্ষেতে স্কুলছাত্রী হত্যার তদন্তে নতুন তথ্য, মোবাইল উদ্ধার
১০ অক্টোবর ২০২৬

ধানক্ষেতে স্কুলছাত্রী হত্যার তদন্তে নতুন তথ্য, মোবাইল উদ্ধার

কুমিল্লার লালমাইয়ে ধানক্ষেত থেকে ১৫ বছর বয়সী স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তদন্তে নতুন তথ্য সামন...

বদরগঞ্জে এনসিপির দপ্তর সম্পাদককে কারণ দর্শানোর নোটিশ
১০ অক্টোবর ২০২৬

বদরগঞ্জে এনসিপির দপ্তর সম্পাদককে কারণ দর্শানোর নোটিশ

মাহাবুব রহমান বিপ্লব, বদরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি: জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বদরগঞ্জ উপজেলা শাখার...

প্রধানমন্ত্রীর পাঠানো ছবি দেখে বাঁশবাড়ি কলোনি পরিদর্শনে পরিবেশমন্ত্রী
০৯ অক্টোবর ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর পাঠানো ছবি দেখে বাঁশবাড়ি কলোনি পরিদর্শনে পরিবেশমন্ত্রী

ময়মনসিংহ নগরের বাঁশবাড়ি কলোনির দেয়ালে দেয়ালে এখন শোভা পাচ্ছে নানা প্রজাতির ফুল ও পাতাবাহারের গাছ। অব...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

অটোরিকশার দাবির পক্ষে বলা নেতার আছে ৭০০ বাহন

অটোরিকশা চালকদের দাবি মেনে নেওয়ার পক্ষে বক্তব্য দেওয়া জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের ৭০০টি অটোরিকশা রয়েছে বলে দাবি করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেছেন, জনগণের কাছে বারবার খোলস বদলে পার পাওয়া যাবে না। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর মিরপুর-১২ থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রোরেলের পিলারে জুলাইয়ের চিত্রাঙ্কন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি করেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের সাত শ অটোরিকশা থাকার অভিযোগকে কাল্পনিক, অসত্য ও ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে এর পক্ষে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ চেয়েছে দলটি| প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন প্রশাসক সত্য বলেছেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 9 ঘন্টা আগে