গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

মঙ্গলে ৪৫ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে রেকর্ড গড়ল পার্সিভ্যারেন্স

প্রযুক্তি ডেস্ক

প্রযুক্তি ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০:২৮ পিএম, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ২১:১৮ এএম ২০২৬
মঙ্গলে ৪৫ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে রেকর্ড গড়ল পার্সিভ্যারেন্স
ছবি

নিজের এই দীর্ঘ অভিযানের অংশ হিসেবে রোভারটি সৌরজগতের এ যাবৎকালের সবচেয়ে প্রাচীন ভূখণ্ডের বেশ কিছু অঞ্চল পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা করেছে -ছবি রয়টার্স

মঙ্গল গ্রহের বুকে দূরনিয়ন্ত্রিত যান চালনার ক্ষেত্রে দীর্ঘতম পথ পাড়ি দেওয়ার রেকর্ড গড়েছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার রোবোটিক রোভার পার্সিভ্যারেন্স। ২০২১ সালে মঙ্গলে অবতরণের পর থেকে ছয় চাকার যানটি এ পর্যন্ত মোট ৪৫ দশমিক ২ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেছে। এর মধ্য দিয়ে নাসারই আরেক রোভার অপারচুনিটির গড়া আগের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে এটি।

মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) নাসা এ মাইলফলকের কথা জানায়। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলে প্রাচীনকালে অণুজীবের বসবাসের উপযোগী পরিবেশ ছিল কি না, তা অনুসন্ধানের বৈজ্ঞানিক অভিযানে সাড়ে পাঁচ বছর পূর্ণ করার পর এ সাফল্য অর্জন করল পার্সিভ্যারেন্স।

দীর্ঘ অভিযানে রোভারটি সৌরজগতের প্রাচীন ভূখণ্ডের বিভিন্ন অঞ্চল পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা করেছে। ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরির প্রকল্প ব্যবস্থাপক স্টিভেন লি বলেন, পার্সিভ্যারেন্সের যন্ত্রপাতি ও প্রকৌশলব্যবস্থা এখনো চমৎকারভাবে কাজ করছে। এর বিকল্প ও জরুরি সুরক্ষাব্যবস্থাগুলোও সচল রয়েছে।

পার্সিভ্যারেন্স ও কিউরিওসিটি-দুই মঙ্গল রোভারের প্রকল্প ব্যবস্থাপক লি বলেন, সর্বশেষ মূল্যায়নে দেখা গেছে, পার্সিভ্যারেন্সের সব ব্যবস্থা ২০৩০-এর দশক পর্যন্ত কিংবা তার পরেও সচল থাকতে পারবে।

২০০৪ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে মঙ্গলের বুকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছিল নাসার রোভার অপারচুনিটি। পার্সিভ্যারেন্স সেই রেকর্ড অতিক্রম করেছে। এ দুই রোভারের অতিক্রান্ত দূরত্ব চাঁদের বুকে চালানো যেকোনো চন্দ্রযানের পাড়ি দেওয়া দূরত্বের চেয়েও বেশি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

জেজেরো গহ্বরে অনুসন্ধান: আধুনিক বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতিতে সজ্জিত পার্সিভ্যারেন্স মঙ্গলের উত্তর গোলার্ধের জেজেরো গহ্বর এলাকায় গবেষণা চালাচ্ছে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, শত কোটি বছর আগে অঞ্চলটি পানিতে প্লাবিত ছিল এবং সেখানে একটি বড় হ্রদ ও তার অববাহিকা ছিল।

‘লাক দ্য চার্মস’ নামে পরিচিত এলাকার মধ্য দিয়ে গহ্বরটির পশ্চিম প্রান্ত অতিক্রম করে ‘ইদুবি’ এলাকার দিকে যাওয়ার পথে রোভারটি নতুন দূরত্বের রেকর্ড গড়ে।

অন্যদিকে, নাসার আরেক রোভার কিউরিওসিটি মঙ্গলের বিষুবরেখার কাছাকাছি গেল গহ্বর এলাকায় অনুসন্ধান চালাচ্ছে।

প্রকল্প ব্যবস্থাপক স্টিভেন লি বলেন, পার্সিভ্যারেন্সের চলাচলের সক্ষমতা কমে যাওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এর চলাচলব্যবস্থার কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হচ্ছে, যাতে যানটি অন্তত ১০০ কিলোমিটার কিংবা তারও বেশি পথ পাড়ি দিতে পারে। এ লক্ষ্যে যন্ত্রাংশগুলোকে ১৫০ থেকে ৩০০ কিলোমিটার চলাচলের উপযোগী করে পরীক্ষা করা হচ্ছে।

স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তিতে বাড়ছে সক্ষমতা: পার্সিভ্যারেন্সের সাফল্যের পেছনে এর স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলাচলের সক্ষমতাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে নাসা। ‘অটোনেভ’ নামের নেভিগেশনব্যবস্থার সাহায্যে সরাসরি মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই রোভারটি প্রায় ৯০ শতাংশ পথ অতিক্রম করতে পারে বলে জানান লি।

এই ব্যবস্থায় রোভারের সামনের ভূখণ্ডের ত্রিমাত্রিক ছবি তৈরি করে সফটওয়্যার সম্ভাব্য পথ বিশ্লেষণ করে। এরপর বাধা এড়িয়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর নিরাপদ পথটি নিজেই বেছে নেয় যানটি।

এ ছাড়া ‘ভিশন কম্পিউট এলিমেন্ট’ নামের দ্রুতগতির কম্পিউটার প্রসেসর ছবি বিশ্লেষণ এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলাচলের সফটওয়্যার দ্রুত পরিচালনায় সহায়তা করে।

আগের মঙ্গল রোভারগুলোর সঙ্গে তুলনা করে লি বলেন, অতীতের যানগুলোকে চলাচলের প্রতিটি ধাপে থেমে পরবর্তী পথ নির্ধারণের জন্য সময় নিতে হতো। পার্সিভ্যারেন্স সেই সীমাবদ্ধতা অনেকটাই কাটিয়ে উঠেছে।

সোজর্নার, স্পিরিট, অপারচুনিটি ও কিউরিওসিটি-আগের এই চারটি মঙ্গল রোভারের প্রায় ২৯ বছরের সঞ্চিত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পার্সিভ্যারেন্স তৈরি করা হয়েছে। আগের অভিযানগুলোর শিক্ষা কাজে লাগিয়ে অন্য গ্রহে যান চলাচলের সক্ষমতা উন্নত করা হয়েছে বলে জানান লি।

প্রাচীন প্রাণের সম্ভাব্য চিহ্ন: স্টিভেন লির মতে, পার্সিভ্যারেন্সের অন্যতম বড় বৈজ্ঞানিক সাফল্য হলো গত বছর প্রাচীন অণুজীবের সম্ভাব্য জীবাশ্ম কিংবা প্রাণের অস্তিত্ব নির্দেশ করতে পারে এমন জৈব-সংকেতের সন্ধান পাওয়া।

জেজেরো গহ্বরের প্রাচীন হ্রদসংলগ্ন এলাকায় প্রায় ৩২০ কোটি থেকে ৩৮০ কোটি বছর আগে গঠিত লালচে শিলায় সম্ভাব্য এসব আলামত পাওয়া যায়।

লি বলেন, ‘লাক দ্য চার্মস’ এলাকার ভূপ্রকৃতি থেকে মঙ্গলের প্রাথমিক ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়া, বিশেষ করে বড় উল্কাপাতের প্রভাব সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। মঙ্গলের প্রাচীন ইতিহাসে এমনই এক বিশাল উল্কাপাতের ফলে জেজেরো গহ্বর তৈরি হয়েছিল।

মহাকাশ থেকে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে তিনি আরো বলেন, গহ্বরটির এ প্রান্তের কিছু এলাকায় একসময় উষ্ণ বা উত্তপ্ত ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবস্থা ছিল। এসব এলাকায় মাটির নিচে উষ্ণ ও পানিসমৃদ্ধ পরিবেশ বিদ্যমান থাকতে পারে, যা প্রাণের বিকাশের উপযোগী ছিল। কয়েকজন প্রত্নজীববিজ্ঞানীর ধারণা, পৃথিবীতেও এ ধরনের পরিবেশে প্রাণের সূচনা হয়ে থাকতে পারে।

প্রাথমিক পরিকল্পনায় পার্সিভ্যারেন্সের মাত্র ২০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করার কথা ছিল। তবে নাসা সম্প্রতি ২০২৮ সালের শেষ নাগাদ জেজেরো গহ্বরে অনুসন্ধান চালিয়ে যাওয়ার জন্য মূল অভিযানের মেয়াদ বাড়ানোর অনুমোদন দিয়েছে।

রোভারটিতে ব্যবহৃত প্লুটোনিয়ামভিত্তিক শক্তি সরবরাহব্যবস্থা প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করছে বলে জানান লি। তাঁর ভাষ্য, এতে আরো বহু বছর নিরবচ্ছিন্নভাবে শক্তি সরবরাহের মতো পর্যাপ্ত জ্বালানি রয়েছে।
সানা/ডিসি/আপ্র/১৪/১০/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

এআই অপব্যবহারে জৈব সন্ত্রাস ও সাইবার হামলার শঙ্কা গেটসের
১৩ অক্টোবর ২০২৬

এআই অপব্যবহারে জৈব সন্ত্রাস ও সাইবার হামলার শঙ্কা গেটসের

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সবচেয়ে তাৎক্ষণিক বিপদ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া প্রযুক্তি নয়, বরং অপরাধ...

৬৬ বছর আগের গবেষণায় ১৩ নভেম্বর পৃথিবী ধ্বংসের পূর্বাভাস
১৩ অক্টোবর ২০২৬

৬৬ বছর আগের গবেষণায় ১৩ নভেম্বর পৃথিবী ধ্বংসের পূর্বাভাস

আর মাত্র এক মাস পরই পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে- এমন দাবি করেছিল ৬৬ বছর আগের একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণা। ১৯৬০ স...

৫০ বছরের কম বয়সিদের কয়েক ধরনের ক্যান্সার বাড়ছে
০৭ অক্টোবর ২০২৬

৫০ বছরের কম বয়সিদের কয়েক ধরনের ক্যান্সার বাড়ছে

বিশ্বজুড়ে ৫০ বছরের কম বয়সিদের মধ্যে কয়েক ধরনের ক্যান্সারে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। ইংল্যান্ড, যুক্তর...

এআইয়ের সুফল পেতে সীমিত ঝুঁকি মেনে নিতে হবে
০৬ অক্টোবর ২০২৬

এআইয়ের সুফল পেতে সীমিত ঝুঁকি মেনে নিতে হবে

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুফল পেতে হলে কিছু অনভিপ্রেত বা সীমিত ঝুঁকি মেনে নেওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছ...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

পরিচয় যা-ই হোক, চাঁদাবাজ-দখলদারদের ছাড় নয়: ডিএমপি কমিশনার

চাঁদাবাজ, ভূমি দখলবাজ ও মাদক কারবারে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় বা অবস্থান বিবেচনা না করে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দীন আহমদ। এসব অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে কোনো ধরনের শিথিলতা দেখানো যাবে না বলেও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে ডিএমপি সদর দপ্তরের সম্মেলনকক্ষে সেপ্টেম্বর মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় উপস্থিত ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে এসব নির্দেশনা দেন কমিশনার। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন- কমিশনার যে নির্দেশনা দিয়েছেন, পুলিশ সদস্যরা তা বাস্তবে তা করতে পারবেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 20 ঘন্টা আগে