গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

৭ গোলের রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে ৭ মিনিটের ঝড়ে রেয়াল মাদ্রিদের জয়

ক্রীড়া ডেস্ক

ক্রীড়া ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭:০৯ পিএম, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১৭:৫৩ এএম ২০২৬
৭ গোলের রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে ৭ মিনিটের ঝড়ে রেয়াল মাদ্রিদের জয়
ছবি

ছবি সংগৃহীত

নির্ধারিত সময়ের তখন কেবল সাত মিনিট বাকি, দুই গোলে পিছিয়ে দল। চোখ রাঙানি দিচ্ছিল হার। সেই মুহূর্তে ঘুরে দাঁড়াল রেয়াল মাদ্রিদ। মুহূর্ত বাদে আবার জালে বল পাঠাল তারা এবং খানিক বাদে আরেকটি। দারুণ এক প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে, রোমার স্বপ্ন ভেঙে জয়ের আনন্দে ভাসল জুজে মরিনিয়োর দল। প্রতিপক্ষের মাঠে বুধবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের রোমাঞ্চকর লড়াইটি ৪-৩ গোলে জিতেছে রেয়াল মাদ্রিদ। প্রথমার্ধে একরকম নিজেদের ছায়া হয়েই ছিল রেয়াল। 

 

তবুও মার্টেন ডি রুনের গোলে পিছিয়ে পড়ার পর, দ্রুতই কিলিয়ান এমবাপের গোলে সমতায় ফেরে তারা। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ছয় মিনিটের ব্যবধানে তাদের জালে ডোনিয়েল মালেন দুইবার বল পাঠালে স্মরণীয় এক জয়ের আশায় বুক বাঁধে রোমা। সেই লক্ষ্যে এগিয়েও যাচ্ছিল তারা; কিন্তু শেষ সময়ে সব হিসেব বদলে দেয় আগেও অনেকবার এমন অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়ানো রেয়াল।

 

 একে একে কার্লোস এস্পি, এন্দ্রিক ও আন্টোনিও রুডিগারের গোলে উল্লাসে মাতে প্রতিযোগিতার ১৫ বারের চ্যাম্পিয়নরা। 

লড়াই কতটা জমজমাট ছিল, তা ফুটে উঠছে ম্যাচের অন্যান্য পরিসংখ্যানেও। প্রায় ৫৫ শতাংশ সময় বল দখলে রেখে গোলের জন্য ১৪ শট নিয়ে সাতটি লক্ষ্যে রাখতে পারে রোমা। 

আর শেষ আধা ঘণ্টায় মরিয়া হয়ে আক্রমণের পর আক্রমণ করা রেয়ালের মোট ১৬ শটের আটটি লক্ষ্যে ছিল।


দুই ম্যাচের দুটিতেই জিতে, আরও আটটি দলের সমান ৬ পয়েন্ট নিয়ে গোলের হিসেবে অষ্টম স্থানে আছে রেয়াল। সবার ওপরে পিএসজি। দুই ম্যাচে ১ পয়েন্ট নিয়ে ২৫ নম্বরে রোমা। আক্রমণাত্মক ফুটবলে ম্যাচের শুরু থেকে বেশ চাপ বাড়ায় রোমা। 

 

পঞ্চম মিনিটে প্রথমবার তারা প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে ভীতি ছড়ায়; তবে পাওলো দিবালার ক্রস পাঞ্চ করার পর, মারিও এরমোসোর শট রুখে দিয়ে বিপদ হতে দেননি তিবো কোর্তোয়া। ত্রয়োদশ মিনিটে গোল পেয়ে যেতে পারতো রোমা। 

ফাঁকায় বল পেয়ে স্লাইড করে শট নেন দিবালা, অল্পের জন্য সেটা লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে বেঁচে যায় টুর্নামেন্টের রেকর্ড চ্যাম্পিয়নরা। বেশিক্ষণ অবশ্য জাল অক্ষত রাখতে পারেনি তারা। ২০তম মিনিটে ডি-বক্সের বেশ বাইরে থেকে জোরাল শটে রোমাকে এগিয়ে নেন ডাচ মিডফিল্ডার মার্টেন ডি রুন।


টানা আক্রমণে প্রথম ২৪ মিনিটেই রোমা যেখানে গোলের জন্য সাত শট নিয়ে চারটি লক্ষ্যে রাখতে পারে, সেখানে এই সময়ে রেয়াল কেবল একটি শটই নিতে পারে এবং সেটাও লক্ষ্যভ্রষ্ট। তবে পরের মিনিটেই প্রতিপক্ষের ছোট্ট ভুলের সুযোগে এবং কিছুটা সৌভাগ্যের ছোঁয়ায় সমতা টানেন এমবাপে। 

 

নিজেদের সীমানায় পজেশন হারায় রোমা আর বল ধরেই একটু এগিয়ে জোরাল শট নেন ফরাসি তারকা, একজনের পায়ে লেগে বল সামান্য দিক পাল্টে গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে ক্রসবার ঘেঁষে জালে জড়ায়।


ইন্টার মিলানের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে জিতে আসর শুরুর ম্যাচেও একটি গোল করেছিলেন এমবাপে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আবার পিছিয়ে পড়ে রেয়াল। গোলরক্ষকের পাস না ধরে ভিনিসিউস ব্যাকহিলে পেছনে সতীর্থকে খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করেন, কিন্তু পজেশন পেয়ে যায় রোমা। 

দ্রুত আক্রমণ শাণায় দলটি এবং সতীর্থের পাস পেয়ে ছয় গজ বক্সের কোণা থেকে শট নেন মালেন, লাইনেই ছিলেন কোর্তোয়া; কিন্তু আরেকজনের পায়ে লেগে বল গোলরক্ষকের ওপর দিয়ে জালে যায়। ওই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই আরেকটি হজম করে কোণঠাসা হয়ে পড়ে রেয়াল। 

৫৭তম মিনিটে প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দিয়ে, পাল্টা আক্রমণে মাতিয়াস সুলের রক্ষণচেরা পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডি-বক্সে ওয়ান-অন-ওয়ানে নিখুঁত শটে গোলটি করেন মালেন। 

দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার দুই মিনিট পর জোড়া পরিবর্তন আনেন রেয়াল কোচ; ভিনিসিউস ও ডামফ্রিসকে তুলে নামান এন্দ্রিক ও আর্দা গুল্যারকে। পরে তাদের আক্রমণে তীব্রতাও বাড়ে। সময় যত ফুরিয়ে আসছিল, ততই যেন মরিয়া হয়ে উঠছিল রেয়াল এবং এর ফল মেলে শেষ দিকে। দুই মিনিটে দুই গোল করে ঘুরে দাঁড়ায় তারা।


৮৩তম মিনিটে গুল্যারের ক্রসে জোরাল হেড করেন ভালভের্দে, যা ঝাঁপিয়ে আটকালেও দলকে বিপদমুক্ত করতে পারেননি গোলরক্ষক। আলগা বল গোলমুখে পেয়ে জালে ঠেলে দেন পাঁচ মিনিট আগেই বদলি নামা এস্পি। 

শুরুতে অফসাইডের পতাকা উঠলেও, ভিএআরের সাহায্যে গোলের বাঁশি বাজান রেফারি। 

পরের গোলটিও আসে আরেক সেট পিসের ফলশ্রুতিতে। গুল্যারের কর্নারে সবার ওপরে লাফিয়ে হেডে সমতা টানেন তরুণ ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড এন্দ্রিক। নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে রুডিগারের গোলেও অ্যাসিস্টের ভূমিকায় গুল্যার। 

এবার ডান দিক থেকে কর্নার কিক নেন এই তুর্কি মিডফিল্ডার, জটলার মধ্যে উড়ে আসা বল জালে পাঠাতে কেবল একটা টোকার দরকার ছিল, নিখুঁতভাবেই সেটা করেন জার্মান ডিফেন্ডার।

 

 অসাধারণ এক জয়ের আনন্দে মাঠ ছাড়ে রেয়াল মাদ্রিদ, বিপরীতে তীরের কাছে গিয়েও তরি ডোবার হতাশায় নুইয়ে পড়ে রোমা।

ডিসি/আপ্র/১৫/১০/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

বিগ ব্যাশে রিশাদকে ধরে রাখল হোবার্ট
১৫ অক্টোবর ২০২৬

বিগ ব্যাশে রিশাদকে ধরে রাখল হোবার্ট

অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশ লিগে (বিবিএল) নিজের জায়গা আরও পোক্ত করলেন বাংলাদেশের লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন।...

সৌদি আরবে হামলা: আলকারাস-জোকোভিচদের টুর্নামেন্ট স্থগিত
১৫ অক্টোবর ২০২৬

সৌদি আরবে হামলা: আলকারাস-জোকোভিচদের টুর্নামেন্ট স্থগিত

সৌদি আরবে সাম্প্রতিক প্রাণঘাতী হামলার প্রভাব পড়েছে দেশটির ক্রীড়াঙ্গনে। ‘সিক্স কিংস স্ল্যাম’ প্রদর্শন...

হলান্ডের রেকর্ড ছাপিয়ে সিটির মাঠে পিএসজির জয়োল্লাস
১৫ অক্টোবর ২০২৬

হলান্ডের রেকর্ড ছাপিয়ে সিটির মাঠে পিএসজির জয়োল্লাস

প্রথমার্ধে একচেটিয়া দাপট দেখিয়ে তিন গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিল পিএসজি। কোণঠাসা অবস্থায় বিরতির পর...

টানা তৃতীয়বার প্লেঅফসে মেসি ও মায়ামি
১৫ অক্টোবর ২০২৬

টানা তৃতীয়বার প্লেঅফসে মেসি ও মায়ামি

ম্যাচে গোল হলো দুটি। কিন্তু হ্যাটট্রিক হয়ে গেল লিওনেল মেসি ও ইন্টার মায়ামি। টানা তৃতীয় মৌসুমে মেজর ল...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

পরিচয় যা-ই হোক, চাঁদাবাজ-দখলদারদের ছাড় নয়: ডিএমপি কমিশনার

চাঁদাবাজ, ভূমি দখলবাজ ও মাদক কারবারে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় বা অবস্থান বিবেচনা না করে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দীন আহমদ। এসব অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে কোনো ধরনের শিথিলতা দেখানো যাবে না বলেও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে ডিএমপি সদর দপ্তরের সম্মেলনকক্ষে সেপ্টেম্বর মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় উপস্থিত ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে এসব নির্দেশনা দেন কমিশনার। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন- কমিশনার যে নির্দেশনা দিয়েছেন, পুলিশ সদস্যরা তা বাস্তবে তা করতে পারবেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 1 দিন আগে