আবুধাবি টেস্টে জয়ের সুবাস পাচ্ছে বাংলাদেশ। ৪৭৯ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে চতুর্থ দিনের খেলা শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে ৫০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ১৩২ রান করেছে আফগানিস্তান। জিততে হলে শেষ দিনে সফরকারীদের আরও ৩৪৭ রান করতে হবে। হাতে রয়েছে ৭ উইকেট।
দিনের শুরুতে দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়লেও রহমত শাহ ও সেদিকুল্লাহ আতাল প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তাঁদের ২১৪ বলের ৮২ রানের জুটি আফগানিস্তানকে ঘুরে দাঁড়ানোর আশা দেখায়। শেষ পর্যন্ত এবাদত হোসেনের বলে উইকেটকিপার লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন আফগান অধিনায়ক রহমত। ১২৪ বলে ৫১ রান করেন তিনি।
এর আগে ইনিংসের প্রথম বলেই আবদুল মালিককে লিটনের ক্যাচে পরিণত করেন এবাদত। পরে হাসান মাহমুদের বলে লিটনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন শহীদুল্লাহ। ২৮ রানে ২ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে আফগানিস্তান।
রহমত ও সেদিকুল্লাহর জুটি ভাঙতে বাংলাদেশের বোলারদের বেশ বেগ পেতে হয়। একপর্যায়ে তাঁদের জুটি ৮০ রান ছাড়িয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত এবাদতের বোলিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ উইকেটটি পায় বাংলাদেশ। চতুর্থ দিন শেষে সেদিকুল্লাহ ৩৫ এবং হাশমতউল্লাহ শাহিদী ১৯ রানে অপরাজিত রয়েছেন।
রহমতের ক্যাচ ধরেই নতুন রেকর্ড গড়েছেন লিটন দাস। প্রথম ইনিংসে চারটি ক্যাচ ও একটি স্টাম্পিংয়ের পর দ্বিতীয় ইনিংসে এখন পর্যন্ত তিনটি ক্যাচ নিয়েছেন তিনি। সব মিলিয়ে এক টেস্টে আটটি ডিসমিসাল করে বাংলাদেশের উইকেটকিপারদের মধ্যে নতুন রেকর্ড গড়েছেন লিটন। এর আগে ২০০৪ সালে হারারে টেস্টে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খালেদ মাসুদ পাইলটের সাতটি ডিসমিসালের রেকর্ড ছিল।
এদিকে আবদুল মালিককে ফিরিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে নিজের ৫০তম উইকেট পূর্ণ করেছেন এবাদত হোসেন।
এর আগে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ৩৪৬ রান করে। জবাবে আফগানিস্তানের ইনিংস থামে ২৪০ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে ৭ উইকেটে ৩৭২ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। দুই ইনিংস মিলিয়ে পাওয়া লিডের সুবাদে আফগানিস্তানের সামনে জয়ের জন্য ৪৭৯ রানের লক্ষ্য দাঁড়ায়।
চতুর্থ দিন শেষে বাংলাদেশের সামনে এখন জয়ের ভালো সুযোগ। তবে শেষ দিনে আফগানিস্তানের ব্যাটসম্যানরা কতক্ষণ প্রতিরোধ গড়তে পারেন, তার ওপরই নির্ভর করছে ম্যাচের চূড়ান্ত ফল।
ডিসি/আপ্র/১২/১০/২০২৬