বিএনপির বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা, নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এবং শ্যামপুরের লাল মসজিদে তিন দফা জানাজা শেষে বিকেল ৪টায় জুরাইন কবরস্থানে তার বাবার কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়। শেষ জানাজায় দলমত-নির্বিশেষে সহস্রাধিক মানুষ অংশ নেন।
এর আগে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাত ৮টা ১০ মিনিটে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সালাহউদ্দিন আহমেদ। তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। ফুসফুসের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি।
বুধবার সকাল ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান অংশ নেন। তিনি মরহুমের কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান এবং কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এ এস এম বাহাউদ্দিনও কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
এ ছাড়া স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল, প্রধান হুইপ, মন্ত্রিসভার সদস্য, বর্তমান ও সাবেক সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং মরহুমের সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা জানাজায় অংশ নেন। জানাজার পর তার আত্মার মাগফেরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
দুপুর দেড়টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। বিকেল ৩টায় শ্যামপুরের লাল মসজিদে তৃতীয় জানাজা শেষে তাকে জুরাইন কবরস্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।
জানাজার আগে মরহুমের ছেলে এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তার বাবা সব সময় এলাকার উন্নয়ন ও এলাকাবাসীর কথা বলতেন। লাল মসজিদের কাজ শেষ করে দেখে যাওয়ার ইচ্ছা ছিল তার। এলাকায় একটি হাসপাতাল নির্মাণের কথাও বলতেন তিনি।
বাবার পক্ষ থেকে সবার কাছে দোয়া ও ক্ষমা চেয়ে রবিন বলেন, তার বাবা কারও সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে থাকলে সে জন্য তিনি সবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন: সালাহউদ্দিন আহমেদ বিএনপির রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় ছিলেন। রাজধানীর শ্যামপুর-কদমতলী এলাকায় তিনি পরিচিত রাজনৈতিক নেতা ছিলেন। বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-৪ আসন থেকে ১৯৯১ সালের পঞ্চম, ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারির ষষ্ঠ এবং ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।
এ ছাড়া ১৯৯৬ সালের সপ্তম, ২০০৮ সালের নবম ও ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত হন। পঞ্চম জাতীয় সংসদে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন তিনি। অষ্টম জাতীয় সংসদে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।
মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সালাহউদ্দিন আহমেদ। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক মেয়ে ও তিন ছেলে রেখে গেছেন।
শোক প্রকাশ: সালাহউদ্দিন আহমেদের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মঙ্গলবার রাতে দেওয়া শোকবার্তায় তিনি বলেন, “সালাহউদ্দিন আহমেদ বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামের একজন লড়াকু সৈনিক ও অকুতোভয় নেতা ছিলেন। দলের দুঃসময়ে তিনি সাহস, নিষ্ঠা ও দৃঢ়তার সঙ্গে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রেখেছেন।”
শোকবার্তায় তারেক রহমান আরো বলেন, সালাহউদ্দিন আহমেদের রাজনৈতিক জীবন ও দলীয় কর্মকাণ্ড বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তার মৃত্যুতে দল একজন নিবেদিতপ্রাণ নেতাকে হারিয়েছে, যা দলের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।
প্রধানমন্ত্রী মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান। এই অপূরণীয় ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার শক্তি ও ধৈর্য ধারণের জন্য মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন তিনি।
সানা/কেএমএএ/আপ্র/১৪/১০/২০২৬