খুলনা নগরের পূর্ব বানিয়াখামার এলাকায় তাওহিদুল ইসলাম (৩২) নামের এক যুবককে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। একই রাতে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ফার্মেসি বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে ফকির জহির রহমান (৪০) নামের এক যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) রাতে সোনারগাঁয়ে এবং বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ভোরে খুলনায় এসব ঘটনা ঘটে।
খুলনায় গুলিতে যুবকের মৃত্যু
খুলনা নগরের সদর থানার পূর্ব বানিয়াখামার আনসার আলী গলির সামনে বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে তাওহিদুলকে গুলি করা হয়। পরে পুলিশ তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে পূর্ব বানিয়াখামার খাদেমুল উলুম মাদ্রাসার সামনে কয়েকজন যুবকের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। এ সময় দুর্বৃত্তরা অস্ত্র বের করে গুলি চালালে তাওহিদুলের পিঠে একটি গুলি লাগে। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
ঘটনাস্থল থেকে একটি মোটরসাইকেল এবং কিছু দূর থেকে গুলির দুটি খোসা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লোকমান হোসেন বলেন, নিহত তাওহিদুল কারাগারে আটক খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী পলাশ গ্রুপের অন্যতম সক্রিয় সদস্য ছিলেন। প্রতিপক্ষ গ্রুপের গুলিতে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে।
ওসি আরো বলেন, হত্যাকারীদের শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। তাওহিদুলের বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র আইনে মামলা রয়েছে।
সোনারগাঁয়ে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ফার্মেসি বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে ফকির জহির রহমান (৪০) নামের এক যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বুধবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার চর কিশোরগঞ্জ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত জহির আড়াইহাজার উপজেলার কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের আব্দুর রহমানের ছেলে। তিনি উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ছিলেন।
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল বারিক জানান, জহিরের বাড়ি আড়াইহাজারে হলেও তিনি বেশ কয়েক বছর ধরে মুন্সিগঞ্জ সদরে ভাড়া বাসায় থাকতেন। চর কিশোরগঞ্জ এলাকায় তাঁর একটি ফার্মেসি রয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তের বরাতে ওসি বলেন, প্রতিদিনের মতো বুধবার রাতেও ফার্মেসি বন্ধ করে বাড়ি ফিরছিলেন জহির। পথে দুর্বৃত্তরা তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে সড়কে ফেলে রেখে যায়।
পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে মুন্সিগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় ও হত্যার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে।
সানা/আপ্র/২২/১০/২০২৬