ঢাকার পশ্চিম ধানমন্ডির একটি ১০ তলা ভবনের গ্যারেজের ওপর থেকে সদলক খান বাবু (৩৫) নামে এক রঙমিস্ত্রির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। দারোয়ানের সঙ্গে হাতাহাতির পর ওই ভবনের ছাদে ওঠার কিছুক্ষণ পর তার মরদেহ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় ভবনের কেয়ারটেকার মিল্টন (৪২) ও দারোয়ান বাঁধন দিওকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাতে মরদেহ উদ্ধারের পর শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুরে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর কথা জানিয়েছেন হাজারীবাগ থানার এসআই সাইফুল ইসলাম।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে পশ্চিম ধানমন্ডির ২৭৯/১ নম্বর ভবনে কাজ করার সময় বাবুর সঙ্গে দারোয়ান বাঁধন দিওর হাতাহাতি হয়। পরে বাবু ফোন করে কয়েকজনকে ডেকে আনেন এবং তারা দারোয়ানকে লোহার অ্যাঙ্গেল দিয়ে মাথায় আঘাত করে রক্তাক্ত করেন বলে জানায় পুলিশ।
এসআই সাইফুল ইসলাম বলেন, দারোয়ানের চিৎকারে বাবুর সঙ্গে থাকা লোকজন পালিয়ে যায়। পরে ভবনের কেয়ারটেকার মিল্টন সেখানে যান। পুলিশ জানায়, বাবু পালানোর জন্য সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটের দিকে ১০ তলা ভবনের ছাদে ওঠেন। কয়েক মিনিট পর কেয়ারটেকার তিন সঙ্গীকে নিয়ে ছাদে ওঠেন। এরপর তারা নিচে নেমে আসেন। কিছুক্ষণ পর গ্যারেজের ওপর বাবুকে গুরুতর অবস্থায় পাওয়া যায় এবং সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
বাবুর শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়ার কথা জানিয়ে এসআই সাইফুল ইসলাম বলেন, “পিঠ থেকে কোমর পর্যন্ত আড়াআড়ি ছিলে যাওয়া লালচে ও বেগুনি ক্ষত ছিল। দুই হাতের কনুইয়ে চামড়া ছিঁড়ে রক্তক্ষরণ এবং ঠোঁটে জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে।”
তিনি বলেন, “তাকে মেরে উঁচু স্থান থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করছি। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।”
এ ঘটনায় কেয়ারটেকার মিল্টন ও দারোয়ান বাঁধন দিওসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। তবে মামলায় অন্য আসামিদের নাম তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে বাবুর মা সুফিয়া বেগম অভিযোগ করেছেন, তার ছেলে একটি ইন্টারনেট কোম্পানিতে চাকরির পাশাপাশি রঙের কাজ করতেন। ওই ভবনে কাজ করে তার প্রায় ৩ লাখ টাকা পাওনা ছিল। এর মধ্যে মালিক দেড় লাখ টাকা পরিশোধ করেছিলেন বলে জানান তিনি।
সুফিয়া বেগম বলেন, “কাল (বৃহস্পতিবার) বিকালে গ্যারেজে থাকা রঙের সরঞ্জাম (ঝুল) আনতে গেলে দারোয়ান ঢুকতে দেয়নি, এ নিয়ে তাদের মধ্যে তর্ক হয়।” তার অভিযোগ, তার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে।
সানা/আপ্র/৩/১০/২০২৬